চাঁদপুর, রোববার ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। দয়াময় আল্লাহ,


২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন,


৩। তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষ,


৪। তিনিই তাহাকে শিখাইয়াছেন ভাব প্রকাশ করিতে,


৫। সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে নির্ধারিত কক্ষপথে,


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


কাহারো উপর অত্যাচার করা হইলে সে যদি সবর করিয়া চুপ থাকিতে পারে, আল্লাহ তাহার সম্মান বৃদ্ধি করিয়া দেন।


 


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অর্থায়নে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছে ১৫ শিক্ষার্থী
কামরুজ্জামান টুটুল
২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের নিজস্ব ফান্ড ও শিক্ষকদের নিজস্ব অর্থ থেকে অর্থাৎ যৌথ অর্থায়নে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছে উক্ত কলেজের সাবেক বহু শিক্ষার্থী। যারা নিতান্ত অসচ্ছল-গরিব, কিন্তু পড়ালেখায় প্রবল আগ্রহ রয়েছে এমন ছাত্রদের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে সহায়ক হিসেবে এগিয়ে আসছে কলেজটি। বিশেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির ভর্তি কোচিং, ভর্তি কিংবা ভর্তির পরে এককালীন টাকা দিচ্ছে এ কলেজ। আবার এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার পর যে সকল শিক্ষার্থী বই ক্রয়, কলেজের বেতন প্রদান কিংবা আনুষঙ্গিক শিক্ষাসামগ্রীর জন্যে পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, সেই সকল শিক্ষার্থীর সকল দিক দিয়ে সহায়তা করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এভাবে ভালো শিক্ষার্থীকে আরো ভালোভাবে তৈরি করতে কিংবা গরিব-অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে কাজ করছে কলেজটি।



কলেজ অফিসসূত্রে জানা যায়, বেশ ক' বছর ধরে উক্ত কলেজের মেধাবী অথচ গরিব ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা উচ্চতর ডিগ্রি মানে বুয়েট, সরকারি যে কোনো মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক তাদেরকে কোচিং করাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আবার ওই সকল শিক্ষার্থী ওই প্রতিষ্ঠানে চান্স পেয়ে গেলে ভর্তির টাকাসহ ভর্তি পরবর্তী অনুদান প্রদান করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।



কলেজের অর্থায়নে বর্তমানে বেশ ক'জন শিক্ষার্থী দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত রয়েছে। বাবা নিখোঁজ থাকা পান্না আক্তার উপজেলার বেলচোঁ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে এ প্লাস পেয়ে উক্ত কলেজের এইচএসসিতে ভর্তি হয়। ২০১৯ সালের প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় পান্না এ প্লাস পায়। বর্তমানে এ ছাত্রী কলেজ ফান্ডের টাকায় কুমিল্লায় মেডিকেল ভর্তি কোচিং করছে। আর সে একবারে চান্স পাবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ আশা করছেন।



২০১৮ শিক্ষা সালে প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ প্লাস পায় রামগঞ্জের নাগমুদ থেকে আসা শিক্ষার্থী ফাতেহা শারমিন। বাবাহারা শারমিন কলেজ কর্তৃপক্ষের অর্থায়ন ও সহায়তায় বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে পড়ালেখা করছে।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গরিব-অসচ্ছল আর মেধাবীদের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় কলেজটি এক দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে এসএসসি পাসের পর এ কলেজে এইচএসসিতে ভর্তিকৃত গরিব-সচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যে এইচএসসির ২ বছর সুযোগ করে দিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ সকল শিক্ষার্থীর দুই বছরের বই কিনে দেয়া, কোচিং ফি ফ্রি করে দেয়া, কাগজ-কলমসহ শিক্ষা উপকরণ কিনে দেয়া, কলেজ ফান্ড থেকে বৃত্তি প্রদান, একাডেমিক সকল পরীক্ষার ফি ফ্রি করে দেয়া এমনকি এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের বোর্ড ফি কলেজ ফান্ড থেকে দেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র চলতি সেশনে এইচএসসির প্রথম বষের্র ৭০ জন শিক্ষার্থীকে ইতিমধ্যে পুরো সেট বই কিনে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজটি বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের জন্যে ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করে আসছে। এর মধ্যে রুটিনমাফিক কাজ হলো শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভলপমেন্ট বিষয়ে ক্লাস নেয়া, সেশনভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ, বিতর্ক সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম, ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দেয়া, রোভার স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট, সাংস্কৃতিক সংগঠন 'উত্তরণের' নিয়মিত কার্যক্রম।



কচুয়ার ডুমুরিয়া থেকে আসা তানজিনা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী এসএসসিতে এ প্লাস নিয়ে ভর্তি হয় এই কলেজে। ভর্তির পর থেকে কেয়ার নেয়া, বই দেয়া, বেতন দেয়া, উপবৃত্তি দেয়াসহ তৎকালীন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল এককালীন ৪ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করেন এ শিক্ষার্থীকে। ২০১৫ সালে উক্ত কলেজ থেকে এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাস করে এই শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত রয়েছে। এইচএসসিতে ২০১৮ সালে কুমিল্লা বোর্ডে বাণিজ্য বিভাগে একমাত্র এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২৫তম স্থান অর্জন করে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিতে অধ্যয়নরত ফরিদগঞ্জের সৌরভ হোসেনকে ঢাবিতে ভর্তির সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ এককালীন অনুদান দিয়েছে। এভাবে প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজের অর্থায়নে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছে।



এক প্রতিক্রিয়ায় কলেজ অধ্যক্ষ মাসুদ আহমদ চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, আমরা মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থীদেরকে কলেজ ও শিক্ষক ফান্ড থেকে পড়ালেখা সংক্রান্ত সকল ধরনের সহায়তা করে থাকি। এমনকি যারা আমাদের শিক্ষার্থী কিন্তু সরকারি যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্যে চান্স পেয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ালেখা হচ্ছে না তাদেরকে আমাদের সাধ্যমতো সকল সহায়তা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতেও করে যাবো।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৩২৭
পুরোন সংখ্যা