চাঁদপুর, শনিবার ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫২। উহাদের সমস্ত কার্যকলাপ আছে আমলনামায়,


৫৩। আছে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ।


৫৪। মুত্তাকীরা থাকিবে স্রোতস্বিনী বিধৌত জান্নাতে,


৫৫। যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী আল্লাহর সানি্নধ্র্যে।


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মানবসেবার অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানবসেবার মাধ্যমে যিনি চাঁদপুর জেলায় অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি হচ্ছেন চাঁদপুরবাসীর সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব আলহাজ ডাঃ এম এ গফুর। নিঃস্বার্থ এই সমাজসেবক পেশায় একজন চিকিৎসক ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীণ রোটারিয়ান। একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক। সুবক্তা এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর ব্যাপক সুনাম ও পরিচিতি আছে। তিনি সার্বিক মেডিসিন ও রেডিওলজিতে অভিজ্ঞ। চাঁদপুর শহরের স্ট্র্যান্ড রোডে তাঁর পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত পিয়ারস মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও চাঁদপুর এঙ্রে ক্লিনিকের পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহু সমাজসেবায় ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সাথে জীবনের দীর্ঘ সময় জড়িত থেকে মানব সেবা করে দেশ ও বিদেশে প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেছেন। সেবা স্বার্থের ঊধর্ে্ব রোটারী আন্দোলনের এ মূলমন্ত্রে তিনি উজ্জীবিত। ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নের সময় ভাষা আন্দোলনে ভাষা সংগ্রামী হিসেবে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে স্বীয় অবস্থানে থেকে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর পৈত্রিক বাড়ি পাক হানাদার বাহিনী আগুনে পুড়িয়ে দেয়।



সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত : চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার চর কোড়ালিয়া গ্রামে সরকার বাড়িতে ১৯৩১ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম পিয়ার আলী সরকার ও মাতার নাম মরহুমা সৈয়দুন্নেছা। ডাঃ এমএ গফুর চাঁদপুর গণি হাই স্কুল থেকে ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৫০ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এস.সি. ও ১৯৫৬ সনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস. পাস করেন। একজন মেধাবী চিকিৎসক হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিদ্যা ও রেডিওলজিতে অধ্যয়নের জন্য ১৯৬৫ সালে লন্ডন ও এডিনবার্গে অবস্থান করেন। তাঁর স্ত্রী প্রফেসর মাহমুদা খাতুন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার আশি্বনপুর গ্রামে ১৯৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম শাহেদ আলী পাটওয়ারী (সাবেক স্পীকার)। মিসেস মাহমুদা খাতুন ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৬৭ পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। এরপর তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।



ডাঃ এম.এ. গফুর ১ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জনক। কন্যা মিসেস মাহফুজা হক, অর্থনীতিতে এমএ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), জ্যেষ্ঠ পুত্র ডাঃ শাকিল গফুর, এম.বি.বি.এস, ডি.টি.সি.ডি, এম.ডি. (কার্ডিওলজি) রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান পদে কর্মরত, কনিষ্ঠ পুত্র ড. শায়ের গফুর, বি.এস.সি. (আর্ক) ও পি.এইচ.ডি (অঙ্ফোর্ড) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ স্থাপত্য বিভাগের প্রফেসর পদে কর্মরত।



একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে আলহাজ ডাঃ এমএ গফুর সমধিক পরিচিত। তিনি চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের চার্টার (প্রতিষ্ঠাতা) সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন সভাপতি এবং রোটারী দাতব্য চিকিৎসালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে এ প্রতিষ্ঠানে থেকে চাঁদপুরবাসীর সেবা করেছেন। তিনি রোটারী জেলা ৩২৮০-এর বিভিন্ন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে থেকে একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রোটারিয়ানের কর্তব্য পালন করেন। তিনি রোটারী জেলার চক্ষু শিবির পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রজেক্টকে জনপ্রিয় করেছেন, তাতে দেশে বহু রোগী অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত মাজহারুল হক বি.এন.এস.বি. চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সুযোগ্য পরিচালনায় মাজহারুল হক বি.এন.এস.বি. চক্ষু হাসপাতাল আধুনিক হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। তিনি চাঁদপুর জেলা নাটাব (জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ), জেলা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, আধূনিক ও বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন), চাঁদপুর শাখার প্রাক্তন সভাপতি। তিনি চাঁদপুর কলেজের প্রাক্তন পরিচালনা কমিটির সদস্য, চাঁদপুর মহিলা কলেজ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর ল' কলেজ ও রোটারী দাতব্য চিকিৎসালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য; চাঁদপুর জেলা কারাগারের বেসরকারি পরিদর্শক; বি.এ.ভি.এস, চাঁদপুর; চাঁদপুর ফাউন্ডেশন; চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, চাঁদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি; সনাক চাঁদপুর (টি.আই.বি)-এর সদস্য ও চাঁদপুর কমিউনিটি পুলিশের উপদেষ্টা; রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং চাঁদপুর জেলা ইউনিটের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি নিজ গ্রাম চর কোড়ালিয়ায় বায়তুল গাফ্ফার জামে মসজিদ ও মায়ের নামে সৈয়দুন্নেছা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ডাঃ এম.এ. গফুর (১৯৮৭-২০১৫) সাল পর্যন্ত ছিলেন চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন সহ-সভাপতি। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস)-এর জাতীয় পর্ষদের পরপর তিন বার সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯০১৪৯৭
পুরোন সংখ্যা