চাঁদপুর, শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জে সরকারি জমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগে মামলা
হাজীগঞ্জ ব্যুরো
২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজীগঞ্জের হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের পাতানিশ পশ্চিম পাড়ায় সরকারি খাস জমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ক'দিন ধরে সরকারি সেই খাস জমির গাছগুলোর অধিকাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে গাছকাটার স্থান পরিদর্শন করে কাটা গাছগুলো জব্দ করে নেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের আসামী করে মামলা দায়েরের নির্দেশনা প্রদান করেন এসিল্যান্ড। আর এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে উক্ত সম্পত্তিতে বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে উক্ত খাস জমি জনস্বার্থে বরাদ্দের জন্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন স্থানীয় প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভূঁইয়া নামের একজন।



হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬৮নং ধড্ডা মৌজার ২৫৪৭ দাগে হালট ১.৮১ একর ও ৬৯নং পাতানিশ মৌজার ১ দাগে হালট ১.৬৬ একর ভূমি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত মোট ৩.৪৭ একর ভূমি রয়েছে। মৌজা দুটি আলাদা হলেও ভূমি পাশাপাশি অবস্থানের কারণে একখ-ের সীমানা হবে মাইলব্যাপী দৈর্ঘ্য। যা বন্দোবস্ত বহির্ভূত ভূমি হিসেবে সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক (চাঁদপুর)-এর নামে রেকর্ডভুক্ত। উক্ত ভূমির একপ্রান্তে চলাচলের পাকা রাস্তা, অপর প্রান্তে খাল। এ ভূমির (৩.৪৭ একর) চৌহদ্দি নির্ধারণ, হালট জমি ইউনিয়নের জনস্বার্থে সংরক্ষণ ও পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে উক্ত ভূমি বরাদ্দের জন্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন স্থানীয় প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভূঁইয়া। ঐ আবেদনে বলা হয়েছে, উক্ত স্থানে পাতানিশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন তহসিল অফিস, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, কৃষি পণ্য দ্রুত বাজারজাত করার লক্ষ্যে গ্রোথ সেন্টার, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারিভাবে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং কলেজ/ ইনিস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।



প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্যে নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পরেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্থানীয় (হাটিলা) ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক পাটওয়ারী সরেজমিন তদন্ত শেষে এবং উপজেলা সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম ও কানুনগো আবুল কাশেমের উপস্থিতিতে ৩.৪৭ একর ভূমি চৌহদ্দি নির্ধারণ করেন।



গত ১১ জুলাই ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক পাটওয়ারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ৬৮নং ধড্ডা মৌজার ২৫৪৭ দাগে হালট ১.৮১ একর ও ৬৯নং পাতানিশ মৌজার উক্ত ১ দাগে হালট ১.৬৬ একর ভূমি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত মোট ৩.৪৭ একর ভূমি রয়েছে। যা বন্দোবস্ত বহির্ভূত ভূমি হিসেবে সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক (চাঁদপুর)-এর নামে রেকর্ডভুক্ত।



গত বুধবার সরজমিনে সরকারি সেই খাস জমির এলাকায় গেলে দেখা যায়, পাতানিশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্যে উক্ত অংশে সড়কের পাশে ও সড়কসহ হালটের পাশে থাকা প্রায় ৩২ রেইনট্টি গাছের বেশ কিছু গাছ কেটে রাখা হয়েছে, বাকি গাছগুলো ২/১ দিনে কাটা হবে।



গাছগুলো কাটার অনুমতি কারা দিয়েছে সে বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা বলতে না পারলেও গাছ কাটা শ্রমিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩৫ হাজার টাকায় ৩২টি গাছ কাটার চুক্তি নিয়েছেন তারা। গত রোববার থেকে দৈনিক ৫-৭ জন শ্রমিক গাছ কাটার কাজ করছেন। গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শ্রমিক বলেন, শুনেছি বিক্রি করা হবে না। গাছ দিয়ে প্রস্তাবিত স্কুলের ঘর নির্মাণ, আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা হবে। একই কথা বলেন, স্থানীয় মানিক হোসেন ও সুমন মোল্লাসহ এলাকাবাসী।



এ বিষয়ে জানতে আবেদনকারী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি বুধবার দুপুরে বিদেশে যাচ্ছেন, দেশে ফিরবেন চলিত মাসের শেষের দিকে।



স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ভৌগলিক কারণে পাতানিশ গ্রামসহ আশপাশের বেশ কটি গ্রামে হাইস্কুল নেই। যার ফলে ৩-৫ কিলোমিটার দূরে এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের হাইস্কুলে যেতে হয়। তাই গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এলাকার লোকজন পাতানিশ গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় সরকারি হালটে একটি হাইস্কুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার অনুমতি প্রশাসন থেকে নেয়া হয়েছে। তাই এ গাছগুলো কাটা হচ্ছে এবং যা স্কুলের কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে সরকারি হালট দখল করে স্কুল নির্মাণ ও হালটে অবস্থিত গাছ কাটার অনুমতির বিষয়ে কোনো কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেন নি।



এ বিষয়ে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক পাটওয়ারী বলেন, যেহেতু বন্দোবস্ত বহির্ভূত ভূমি, সেহেতু এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের নির্দেশনা পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। আর এ বিষয়ে মামলা দায়েরের জন্যে স্যার নির্দেশনা দিয়েছেন।



এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি জানান, এ বিষয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।



উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যারা সরকারি হালটের গাছ কেটে নিচ্ছে তাদের রিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছি এবং তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৬৭৯৪০
পুরোন সংখ্যা