চাঁদপুর, শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন : ৮নং ওয়ার্ডের হালচাল
বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরসহ হাফ ডজন প্রার্থী বয়সে তরুণ ও যুবক এলাকাবাসীর সেবা করার জন্যে জনপ্রতিনিধি হতে চান
গোলাম মোস্তফা
২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের নান্দনিক কয়েকটি অবকাঠামোর একটি শপথ ভাস্কর্য, এছাড়া মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের স্মরণে নির্মিত অঙ্গীকার, যেটি লেকের উপর নিমিত; এ জেলার সর্বোচ্চ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও মানসম্মত সরকারি বালিকা বিদ্যালয় মাতৃপীঠ, দেশসেরা হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়_এ সকল কিছু ৮নং ওয়ার্ডে। তাই পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডটিকে বলা হয়ে থাকে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়ার্ড। আবার কেউ কেউ বলে থাকে এ ওয়ার্ডটির অবস্থান পৌর এলাকার মূলনাভী বা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। গুয়াখোলা, কোড়ালিয়া রোডের বৃহদাংশ, মহিলা কলেজ রোড, আদর্শ মুসলিম পাড়া, ঘোষপাড়া, হাজী মহসীন রোডের পশ্চিমাংশ, চৌধুরীপাড়া, মুন্সেফপাড়া, মরহুম আঃ করিম পাটোয়ারী রোড (সাবেক কুমিল্লা রোড)-এর চিত্রলেখা মোড় পর্যন্ত এ ওয়ার্ডের ভৌগোলিক অবস্থান।



এ ওয়ার্ডের মোট ভোটারের তিনভাগের এক ভাগ হচ্ছে হিন্দু সমপ্রদায়ের ভোট। মূলত এ ভোটারদের ভোট যে কাউন্সিলরের বাঙ্ েপড়ে তিনিই হন এ ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি। এ ওয়ার্ডের এ ভোটারদের ভোটকে কাজে লাগিয়ে যিনি ১ বার নির্বাচিত এবং গত পৌর নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি হচ্ছেন সহদেব ঘোষ। কিন্তু তার অকাল মৃত্যুতে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সকলের নজর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দিকে।



আসন্ন পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কথা বললে তাদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, সরকার দলীয় প্রভাব বিস্তার করে কাউন্সিলর নির্বাচনে যাকে তাকে বিজয়ী করার যদি চেষ্টা হয় তাহলে ভালো প্রার্থী না হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আর সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা হলে হয়তো দেখা যাবে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ওয়ার্ডবাসীর রায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন। আর প্রভাবভিত্তিক নির্বাচন হলে সেটি নিয়ে জনগণের আগ্রহ থাকবে না। বর্তমানে যারা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এদের অধিকাংশ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমাও দিবে না বলে আভাস দিলেন তাদের ক'জন।



জানা যায়, ৮নং ওয়ার্ডে হালনাগাদ ভোটারসহ প্রায় ৯ হাজারের মতো ভোটার। এ ভোটারদের আগামী ৫ বছরের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর নাছির চোকদার, সাবেক কাউন্সিলর মোঃ হোসেন আলী গাজী, গত নির্বাচনে বিজিত প্রার্থী শহর আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সাবি্বর আহমেদ (মন্টু) দেওয়ান, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান (বাদশা) এবং তরুণ প্রার্থী কাউছার আহমেদ রুবেল। গত নির্বাচনে বিজিত প্রার্থী মুন্নাফ পাটোয়ারীরও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



উল্লেখিত প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারণায় আপাতত এগিয়ে আছেন নবাগত ও তরুণ সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী কাউছার আহমেদ রুবেল বেপারী। এ সকল প্রার্থীর মনের ইচ্ছে জনগণের সেবা করা। কিন্তু তাদের এ ইচ্ছে থাকলেও বিগত দিনের জনপ্রতিনিধিদের কর্মকা-ের কারণে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ার্ডবাসীর বক্তব্য হচ্ছে ভিন্ন ধরনের। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নির্বাচনের পূর্বে সকল প্রার্থী আমাদের স্বার্থে প্রয়োজনে জীবন দিবে এমন অঙ্গীকার দিয়ে রায় নেয়। এরপর বিজয়ী হলে তখন তাদের দেয়া ওয়াদা তারা রাখেন না। আমাদের স্বার্থে কোনো বিষয়ে তাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হলে তখন তাদেরকে পাওয়াই কঠিন হয়ে যায়।



এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন চোকদার বলেন, আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব থেকে এ ওয়ার্ডবাসীর সুখ-দুঃখে তাদের পাশে থাকায় গত নির্বাচনের পূর্বে ওয়ার্ডবাসীর দলমত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হই। যে কারণে আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে যাওয়ায় পূর্বের ন্যায় আজও তাদের পাশে আছি এবং আমৃত্যু থাকবো। তাই আবারো আন্তরিকভাবে আমাকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যে নির্বাচিত করতে দলমত নির্বিশেষে ওয়ার্ডের সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। এ অনুরোধের কারণ, ইতঃমধ্যে মাদক-সন্ত্রাস, রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ সমস্যা সমাধান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাল্যবিবাহ রোধ ইত্যাদি বিষয়সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমি আন্তরিক ছিলাম, যা সবার জানা।



সাবেক কাউন্সিলর মোঃ হোসেন আলী গাজী বলেন, নির্বাচন আসলে প্রার্থী হবো-এ নীতি নয়। আমি বিগত দিনের ন্যায় এলাকাবাসীর সাথে ছিলাম ও আছি এবং আমৃত্যু থাকবো। সময় বলে দিবে নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়।



বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও শহর আওয়ামী লীগ নেতা সাবি্বর আহমেদ (মন্টু) দেওয়ান বলেন, রাজনীতির মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে যখন আমার কাছে কোনো বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়, তখনই সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি তাদের পাশে থাকার। এছাড়াও সামাজিক কাজের মধ্য দিয়ে এলাকা থেকে চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- যেনো না হয়, এজন্যে কাজ করে যাচ্ছি। অতএব জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি সময় সাপেক্ষে বুঝা যাবে।



৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বয়সে যুবক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন খান (বাদশা) বলেন, রাজনীতি করার কারণে দলের ওয়ার্ড পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছি। এ পদটির কারণে এ ওয়ার্ডের জনগণ প্রতিনিয়ত আমার কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসে। কেউ বলতে পারবে না, তারা যে বিষয়ে আমার কাছে আসে তাদেরকে আমি নিরাশ করেছি। এছাড়াও আমার দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ পৌরপিতা হওয়ায় তার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন মহল্লার ড্রেনেজ ও পানি সমস্যা এবং চলাচলের রাস্তার বিষয় অনেকটা আমি সমাধান করেছি। তাছাড়া আমি মাদকসহ সমাজবিরোধী যে কোনো কাজে সোচ্চার রয়েছি। বয়সেও আমি যুবক। এসব বিষয় বিবেচনা করে আমার ওয়ার্ডের মুরুব্বীসহ দলমত নির্বিশেষে সকলের আবদার আমি যেনো কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হই। তাই তাদের এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমি প্রার্থী হবো এবং আশা রাখি জনগণের সে স্বপ্ন পূরণে আমি কাজ করবো।



বয়সে তরুণ এবং এই প্রথম কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে গত ২/৩ বছর পূর্ব থেকে ডিজিটাল ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জানান দিয়ে আসছেন মোঃ কাউছার আহমেদ রুবেল। এ ওয়ার্ডে যে ক'জন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন তাদের সকলের চাইতে প্রচার প্রচারণায় তিনিই এগিয়ে রয়েছেন। তাছাড়া ভোটারদের একটি অংশ রয়েছে তরুণ বা নবাগত। তাদের পছন্দ তরুণ নেতৃত্ব। যে কারণে যুব ও তরুণ সমাজের কাছেই শুধু নয়, পুরো ওয়ার্ডবাসীর কাছে এ তরুণ প্রার্থী তার প্রচারণার কারণে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তিনি বিজয়ী হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ এবং নৈতিক অবক্ষয়রোধে সামাজিক কাজ করবেন বলে জানান। তাছাড়া ওয়ার্ডবাসীর জনকল্যাণমুখী এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজও করার অঙ্গীকার করেন।



গত পৌর নির্বাচনে এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিজিত প্রার্থী আঃ মুন্নাফ পাটোয়ারী বলেন যে, প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে তার রয়েছে। যদি ওয়ার্ডবাসীর ভোটের মাধ্যমে তাদের ওয়ার্ডের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ থাকে। আর যদি প্রভাব বিস্তারের নির্বাচন হয় তাহলে তিনি এমন নির্বাচন করবেন না।



অপরদিকে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার আরো ক'জন ব্যক্তির নাম শোনা গেছে। আসন্ন নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় বা প্রশাসন অবাধ নির্বাচন হওয়ার মতো শতভাগ পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে তাহলে গত নির্বাচনে বিজিত কয়েকজন প্রার্থী এ বছরও প্রার্থী হতে পারেন-এমন আভাস তারা দিয়েছেন।



পৌর নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নতুন নতুন প্রার্থী বের হয়ে আসছে। তাই নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পরই বুঝা যাবে কারা হচ্ছে সত্যিকারের প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত কারা ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন সেটি দেখার বিষয়।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫২২৮
পুরোন সংখ্যা