চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৯, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • জমে উঠেছে চাঁদপুরের আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৫-সূরা তালাক


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২। উহাদের 'ইদ্দাত পূরণের কাল আসন্ন হইলে তোমরা হয় যথাবিধি উহাদিগকে রাখিয়া দিবে, না হয় উহাদিগকে যথাবিধি পরিত্যাগ করিবে এবং তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখিবে; আর তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দিবে। ইহা দ্বারা তোমাদের মধ্যে যে কেহ আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে তাহাকে উপদেশ দেওয়া হইতেছে। যে কেহ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাহার পথ করিয়া দিবেন।


 


 


 


assets/data_files/web

ঘুম পরিশ্রমী মানুষকে সৌন্দর্য প্রদান করে।


-টমাস ডেককার।


 


 


 


 


নামাজ হৃদয়ের জ্যোতি, সদ্কা (বদান্যতা) উহার আলো এবং সবুর উহার উজ্জ্বলতা।


 


 


ফটো গ্যালারি
দায় মুক্তি চায় হাজীগঞ্জবাসী
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর গ্রামের বাড়িতে সুনসান নীরবতা
কামরুজ্জামান টুটুল
১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার আত্ম স্বীকৃত খুনিদের অন্যতম বহিষ্কৃত লে. কর্নেল রাশেদ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়িতে এখন সুনসান নীরবতা। একেবারে অজপাড়াগাঁয়ে বেড়ে ওঠা রাশেদ চৌধুরী বিশ্বের নিন্দনীয় হত্যাকা-ের অন্যতম শরিক হবে এটা তার ছোট বেলার আচার-আচরণে এলাকাবাসী ঘুণাক্ষরে টের পায়নি। জাতির জনককে খুনের আগে ১৯৭৪ সালে রাশেদ তার নিজ গ্রামের তৎকালীন স্কুল শিক্ষক ও আওয়ামী লীগের সংগঠক আঃ লতিফ মাস্টারকে বাড়ি থেকে তুলি নিয়ে হত্যা করে। রাশেদের এই সকল খুনের জন্যে এলাকাবাসী তথা হাজীগঞ্জবাসী লজ্জিত। পলাতক এই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করলে হাজীগঞ্জবাসী কিছুটা দায়মুক্তি পাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।



সরজমিনে সোনাইমুড়ি গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, ফাঁসির দ-প্রাপ্ত পলাতক আসামী বহিষ্কৃত লে. কর্নেল রাশেদ চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে উঠা এই গ্রামে। নীবরতা বিরাজ করছে খুনির এই গ্রামের বাড়িতে। তাদের বাড়ির নাম উকিল বাড়ি। তবে সে কিংবা তার পরিবারের অন্যরা নামের শেষে চৌধুরী ব্যবহার করতো বা করছে। রাশেদ ছাত্রজীবনে ভালো থাকলেও চাকুরি জীবনে বদলে গিয়ে হয়ে যায় ঘৃণ্য হত্যাকারী। ১৯৭৪ সালে সোনাইমুড়ি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ফেনীতে হত্যা করে স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ মাস্টারকে।



বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পর হত্যা মামলায় রাশেদ চৌধুরীর ফাঁসির রায় দেয় আদালত। সেই সময় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বায়েজাপ্ত করার ঘোষণা দেয় আদালত। সেই আদেশের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল পলাতক খুনি হিসেবে হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়ি মৌজায় উত্তারিকারসূত্রে প্রাপ্ত শুধু মাত্র রাশেদ চৌধুরীর অংশ ১ একর ১৫ শতক জমি ক্রোক করে স্থানীয় প্রশাসন। উক্ত সম্পত্তি ক্রোকের সময় ঐ সম্পত্তিতে সরকার সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। তবে সেই সাইনবোর্ড কিছু দিন আগে হাওয়া হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।



স্থানীয়দের সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলার ৬নং পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি গ্রামের তৎকালীন মুসলীম লীগ নেতা মরহুম শিহাব উদ্দিনের ছেলে রাশেদ চৌধুরী। ৮ভাই এক বোনের মধ্যে রাশেদ ৪র্থ। রাশেদ চৌধুরীর বাবা মরহুম শিহাবউদ্দিন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য। এই শিহাবউদ্দিনের সাথে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আঃ লতিফ মাস্টারের সোনাইমুড়ি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ বাঁধে। তার জের ধরে রাশেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার এক বছর আগে ১৯৭৪ সালে উক্ত স্কুল শিক্ষককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে ফেনীর ছাগলনাইয়া ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়। সেই হত্যকা-ের আজো বিচার পায়নি আঃ লতিফ মাস্টারের পরিবারের সদস্যরা।



এ বিষয়ে আঃ লতিফ মাস্টারের স্ত্রী কুদছিয়া বেগম (৭০) সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি মনে করে বলেন, ছয় ছয়টি সন্তান নিয়ে শান্তিতে ছিলো আমাদের সংসার। আমার স্বামী চেয়েছিলেন গ্রামে একটি স্কুল তৈরি করতে। এই স্কুল তৈরি করাকে কেন্দ্র করে খুনি রাশেদের বাবা শিহাব চৌধুরীর সাথে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এক পর্যায়ে রাশেদ আমাদের বাড়িতে এসে আমার স্বামীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এই হুমকির মাত্র ৭ দিনের মাথায় আমার স্বামীকে সরকারি ড্রেসে আরো লোকজন নিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় রাশেদ নিজে। তুলে নেয়ার ১দিন পরেই পত্রিকার মাধ্যমে আমার স্বামীর ক্ষতবিক্ষত লাশের হদিস পাই। সেই সময় আমার ছোট ছেলে আহসান হাবীবের বয়স মাত্র ৬ মাস ছিলো। তারপর সব মিলিয়ে ৬ সন্তানকে নিয়ে সেই দিনগুলো আমার ভীষণ কষ্টে কেটেছে। জাতির জনকের বিচারের রায় কার্যকর হলেই আমার স্বামী হত্যার বিচার পাইছি বলে মেনে নেবো।



স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাশেদ চৌধুরী আঃ লতিফ মাস্টারকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দুইদিন পর এলাকায় তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখে আমরা মর্মাহত হই। লাশটি দেখে আমরা নিশ্চিত হই আঃ লতিফ মাস্টারকে হত্যার সময় বেশ অত্যাচার করা হয়েছে। এই জনপ্রতিনিধি আরো বলেন, রাশেদের যে সম্পত্তি সরকার নিয়েছে সেই স্থান হতে কোনো এক চক্র হয়তো সরকারি সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নিয়েছে। আমরা চাই সরকারি সম্পত্তিতে অবিলম্বে ফের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হোক।



উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী জানান, জাতির জনকের হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী রাশেদ চৌধুরীর বাড়ি এই হাজীগঞ্জের সোনাইমুড়ি গ্রামে। আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সাল থেকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ১/১ খাস খতিয়ানে নিয়ে আসা হয়েছে, যার বর্তমান মালিক জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত সকল স্থ্াবর অস্থারব সম্পত্তি আমরা দেখভাল করছি। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ঐ সম্পত্তিতে আমাদের যে সাইনবোর্ড ছিলো তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা নতুন করে সাইনবোর্ড তৈরি করছি, যা হাতে আসলে যথাস্থানে টানিয়ে দেয়া হবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৯৯৯৭
পুরোন সংখ্যা