চাঁদপুর, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৪৩। আর এই যে তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,


৪৪। আর এই যে, তিনি মারেন, তিনিই বাঁচান,


৪৫। আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।


৪৬। শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,


 


 


 


 


ভালোবাসা দিয়েই একমাত্র ভালোবাসার মূল্য পরিশোধ করা যায়। -আলেকজান্ডার ব্রাকলে।


 


 


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের ৪নং ওয়ার্ডের হালচাল
তফসিল ঘোষণা নিয়ে সন্দেহ
বিমল চৌধুরী
২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রায় ১২৩ বছর আগে ১৮৯৬ সালে চাঁদপুর পৌরসভা গঠিত হয়। ৯ বর্গ কিলোমিটার হতে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ বর্গ কিলোমিটারে উন্নীত হওয়া চাঁদপুর পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হওয়ার সুপ্ত বাসনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পৌরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত স্বাচ্ছন্দ্যময় নগরজীবন উপহার দেয়ার দীপ্ত বাসনা নিয়ে পৌর নির্বাচনে অংশ নেন নবীন-প্রবীণ প্রার্থীগণ। আর নির্বাচন আসলেই প্রার্থীগণ সক্রিয় হয়ে উঠেন ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচিত হন মেয়রসহ কাউন্সিলরগণ। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি বা মার্চের মাঝামাঝি কোনো এক সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। আর এ পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা উৎসাহ-উদ্দীপনা, আবার কারো কারো ব্যবহারে দেখা দিচ্ছে হতাশা।



আদৌ নির্বাচন হবে কি-এমন প্রশ্ন বিরোধীদল সমর্থক প্রার্থীদের। এছাড়া পৌর নির্বাচন সম্পর্কে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে আলাপকালে এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আরো কেউ কেউ।



দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা অন্যতম। ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার পৌর পিতা আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমদের বাড়ি ৪নং ওয়ার্ডে। তুলণামূলকভাবে এ ওয়ার্ডের উন্নয়নও হয়েছে আশাতীত, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। মেয়রের বাড়ি সংলগ্ন পরিবেশ দেখলে সহজেই অনুমান করা যায় কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে এ এলাকায়। তারপরও এলাকাবাসীর অনেকেই হতাশ আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি বলে। এখনো রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সমস্যাসহ নানা সমস্যা রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।



আমজাদ আলী সড়কের পূর্বদিক হয়ে জাফরাবাদ এলাকার কিছু অংশ নিয়ে ৪নং ওয়ার্ড গঠিত। প্রায় ৫ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এ এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচন করেন। তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে গত পৌর নির্বাচনে জয়লাভ করেন এলাকার কৃতী খেলোয়াড় জেলা যুবলীগের সদস্য মামুনুর রহমান দোলন।



পৌর নির্বাচন আর উন্নয়ন নিয়ে কথা হয় বর্তমান কাউন্সিলরের সাথে। জানতে চাওয়া হয় এবার পৌর নির্বাচনে অংশ নিবেন কি না? নাকি নতুন কোনো মুখকে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ করে দিবেন। তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি জাতির জনকের আদর্শের সৈনিক এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ওয়ার্ডবাসীর সম্মান রক্ষায় আমি আবারো পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিটি গ্রাম হবে শহর। সেই ধারাবাহিকতায় মেয়রের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। তবে উন্নয়নের শেষ নেই। ওয়ার্ডের বর্ধিত এলাকা জাফরাবাদে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ এখনো বাকি আছে এবং তা নিরসনে কাজ চলছে। তিনি বলেন, এ এলাকা সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা। পূর্বে এলাকায় জমি সংক্রান্ত কিছু বিরোধ ছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে সেই সকল সমস্যার সমাধান করেছি। এছাড়া এলাকায় অন্য কোনো সমস্যা বা বিরোধ দেখা দিলে তা মেয়রের পরামর্শক্রমে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করি। ফলে আমার এলাকায় অপরাধ প্রবণতা একদম নেই বললেই চলে। আমার দায়িত্বকালে সরকার প্রদত্ত বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, চাইল্ড কেয়ার ভাতা, ভিজিএফ কার্ডসহ নানা সাহায্য সহযোগিতা নীরবে-নিভৃতে প্রকৃতভাবে অসহায় পরিবারের হাতে তুলে দিতে চেষ্টা করেছি। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের বিবেচনা করে ওয়ার্ডবাসী আমাকে ভোট দিবেন এবং আমি পুনরায় এ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হবো-সেই বিশ্বাস ওয়ার্ডবাসীর প্রতি আমার রয়েছে।



প্রার্থী হতে আগ্রহী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি মরহুম নুরুল হক বাচ্চু মিয়াজীর ছেলে এহসানুল হক পিটুল। যিনি গত নির্বাচনেও ৪নং ওয়ার্ড থেকে পৌর কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছেন। তিনি এ নির্বাচনে শক্ত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে সক্ষম হন। ক্রীড়ানুরাগী ও সংগঠক এহসানুল হক পিটুল জানান, ওয়ার্ডবাসীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পৌর নির্বাচনে আবারো প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি। এলাকার অনেক সমস্যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে, রয়েছে কিছু অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। যারা না পারে চাইতে, না পারে কইতে। তিনি এদের জন্যে এবং এলাকার সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করতে সকলের দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।



চাঁদপুরের সূর্যসন্তান হিসেবে খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী বাড়ির সাইয়ান চৌধুরী ৪নং ওয়ার্ড থেকে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। উদীয়মান সমাজসেবক ও সংগঠক সাইয়ান চৌধুরী বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী চাঁদপুরের উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন। তার সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই আমি পৌর কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশানুরূপভাবে এলাকায় উন্নয়ন হয়নি। এলাকায় এখনো অনেক সমস্যা বিদ্যমান। ওয়ার্ডবাসীকে সাথে নিয়ে এ সকল সমস্যার সমাধান করতে চাই। এছাড়াও আমার চাচা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর একটি রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে আমি আগ্রহী।



গত পৌর নির্বাচনে পৌর কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন : নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হবে কিনা বা মানুষ তাদের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কিনা? যদি পারে বা সেই রকম পরিবেশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিবেন। তিনি রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং এলাকার উন্নয়নে ও ওয়ার্ডবাসীর সেবার মান বৃদ্ধিতে ৪নং ওয়ার্ডকে একটি আধুনিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মানুষ যদি তার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে তাহলে ৪নং ওয়ার্ডে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসবে। মানুষ এমন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চায় যার কাছে সময়-অসময়ে যেতে পারবে এবং সমস্যার কথা জানাতে পারবে।



তবে নির্বাচনী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া না হওয়ার বিষয়টি। মাঠ পর্যায়ে ঘুরে এমনটিই পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো হলে ৪ নং ওয়ার্ডে পৌর কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা গত পৌর নির্বাচনের চেয়ে বাড়বে বৈ কমবে না। গত নির্বাচনে প্রার্থী ছিলো মোট ৪ জন।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭২৫৩১৯
পুরোন সংখ্যা