চাঁদপুর, বুধবার ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৪৩। আর এই যে তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,


৪৪। আর এই যে, তিনি মারেন, তিনিই বাঁচান,


৪৫। আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।


৪৬। শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,


 


 


 


 


ভালোবাসা দিয়েই একমাত্র ভালোবাসার মূল্য পরিশোধ করা যায়। -আলেকজান্ডার ব্রাকলে।


 


 


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর জেলা যুবলীগের ৩ মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি চলছে ৭ বছর ১২ সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির ১টিরও মেয়াদ নেই
গোলাম মোস্তফা
২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যক্রম চাঁদপুর জেলায় বলতে গেলে স্থবির অবস্থায় আছে অনেক বছর যাবৎ। চাঁদপুর সদর ও পৌর যুবলীগ শুধু সংগঠনকে চাঙ্গা রেখেছে। তাও এ দুটির কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি দেয়ায় নতুন নেতৃত্বে এ চাঙ্গাভাব। কিন্তু চাঁদপুর জেলা যুবলীগের কার্যক্রম একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি অনেক বছর পার করতে থাকলে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়। তিন মাসের এ আহ্বায়ক কমিটিও পার করছে ৭ বছর। শুধু জেলা কমিটিই নয়, এ কমিটির অধীন ১২টি সাংগঠনিক ইউনিটের একটিরও মেয়াদ নেই।



বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে শেখ ফজলুল হক মনি। দেশের যুব সমাজের অন্যতম এ যুব সংগঠনটি এক সময়ে চাঁদপুরের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো। শক্তিশালী ও ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা এ সংগঠনটি এখন জেলার কার্যক্রমে প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছে।



চাঁদপুর জেলা যুবলীগ এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে, মূল দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার সাথে চ্যালেঞ্জ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তথা চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাদের সংগঠনের মনোনীত নেতাকে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী করার রেকর্ডও রয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির জেলা কার্যক্রম আজ ঝিমিয়ে পড়েছে। টানা ৩য় বারের মতো আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও চাঁদপুর জেলা যুবলীগের এই ঝিমিয়ে পড়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না যুবসমাজ। যুবসমাজের মাঝে নেতৃত্বও সৃষ্টি হচ্ছে না। এতে করে হতাশ যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে ছাত্রলীগ করার বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ার পর যুবক বয়সে তারা কী করবে সে সাংগঠনিক কাঠামো পাচ্ছে না।



জানা যায়, চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৩ সালে। এরপর প্রায় ১০ বছর পর ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি সম্মেলন করার লক্ষ্যে এবং সংগঠনকে গতিশীল করার জন্যে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ।



তৎকালীন জেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং ৩ জনকে যথাক্রমে সালাউদ্দিন বাবর, আবু পাটোয়ারী ও মাহফুজুর রহমান টুটুলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। মোট ৫৫ সদস্যের এ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলোচনা করে এবং সাংগঠনিক স্বার্থে এ আহ্বায়ক কমিটির সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পৌর কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি ও ঝন্টু দাসকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এতে ৫৫ সদস্য থেকে ৫৭ সদস্যে দাঁড়ায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। এ আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ছিলো মাত্র ৩ মাস। কিন্তু ৩ মাস মেয়াদী এ কমিটি ৭ বছর পার করেছে। এই আহ্বায়ক কমিটি কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পরিণত হবে তা বলতে পারছেন না দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও।



চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি হচ্ছে ১২টি। এগুলো হচ্ছে-চাঁদপুর সদর উপজেলা, চাঁদপুর পৌরসভা, হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা, শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌরসভা, কচুয়া উপজেলা ও পৌরসভা, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলা, হাইমচর উপজেলা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটি। এ সকল ইউনিট কমিটির মধ্যে মতলব উত্তর ও কচুয়া উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। তাও সম্মেলনবিহীন। অর্থাৎ এ সরকারের গত মেয়াদে স্ব-স্ব উপজেলার প্রভাবশালীদের তদবিরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ থেকে এই কমিটিগুলো অনুমোদন করে আনা হয়। এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলোও তাদের সাংগঠনিক গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ করেছে। শুধু কি তাই! বাকি সাংগঠনিক যে সকল ইউনিট রয়েছে সেগুলো এখন আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে। এসব কমিটি ৩ মাস মেয়াদী। সেই মেয়াদকাল কবে যে শেষ হয়েছে তার নেই কোনো খোঁজ-খবর। এককথায় চাঁদপুর জেলা যুবলীগের জেলা কমিটিসহ তার অধীনস্থ সকল ইউনিট কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে থাকলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গ্রহণ না করায় হতাশায় নতুন প্রজন্মের পদ প্রত্যাশীরা। শুধু তাই নয়, জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সাংগঠনিক সভা কবে নাগাদ হয়েছে তাও বলতে পারছেন না নেতৃবৃন্দ।



এ সকল বিষয়ে চাঁদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ মোঃ মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যুবলীগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। সে সুবাদে এ সংগঠনটির তৃণমূল থেকে জেলার শীর্ষ পদে আসীন হয়েছি। তাই আমি বলবো, এ সংগঠনটি গতিশীল রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান। তাছাড়া কেন্দ্র্রীয় ও জাতীয়সহ সকল কর্মসূচি পালন এবং বিগত দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সকল ক্ষেত্রে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ সক্রিয় ছিলো। তবে হ্যাঁ, রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে অনেকদিন যাবৎ কোনো সভা হয়নি। আর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে সম্মেলনের প্রস্ততি নেবো।



এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা যুবলীগের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ মাহফুজুর রহমান টুটুল বলেন, যুবলীগ নিষ্ক্রিয় নয়, সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া চাঁদপুর শহর ও সদর উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি কাজ করছে। আর জেলা সম্মেলন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮১৩২৭
পুরোন সংখ্যা