চাঁদপুর, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৭। যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্তাদিগকে;


২৮। অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


দয়া ঈমানের প্রমাণ; যার দয়া নেই তার ঈমান নেই।


 


ফটো গ্যালারি
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ফরিদগঞ্জের আলোচিত হানিফ হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ কী?
এমকে মানিক পাঠান
১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জের মূলপাড়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে হানিফ তফাদার হত্যার পর আসামীদের বাড়িতে বর্তমানে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। হানিফ হত্যার পর ওই মামলার কয়েক আসামীর বাড়ি থেকে কে বা কারা ৫ দিনের গরুর বাছুর রেখে দুধেল একটি গাভী গরু ও হাঁস মুরগী চুরি করে নিয়ে গেছে। নিহত হানিফ তপাদারের বাড়িতে হামলা ও মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে আসামীরা সবাই বাড়িছাড়া হয়ে আছে।



এদিকে হানিফ হত্যা মামলাকে পুঁজি করে তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি পক্ষ প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করতে চায়। আরেকটি পক্ষ ওই মামলাকে কেন্দ্র করে বাড়তি ফায়দা লুটতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তৎপরতা নিয়ে মূলত হানিফ হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।



হানিফ হত্যা মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামী পক্ষের সাথে হানিফদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এই বিরোধ নিয়ে বিভিন্ন সময় আসামী পক্ষ অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছিল। ৫ ভাই, দুই বোনের মধ্যে হানিফ ২য়। নানা সময় আসামী পক্ষের বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। গত ৪ জুলাই সকাল ১০টায় বসত ঘরে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে হানিফকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামুনকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন হানিফের ছোট বোন শিরতাজ ।



সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথায় কথায় বাড়ির নারী পুরুষ ছাড়াও এলাকার লোকজনকে প্রায়শই মারধর করতেন হানিফ তফাদার। শুধু তাই নয়, হানিফ প্রায়ই তার বাবা-মা ও বোনকেও মারধর করতেন বলে ওই এলাকায় প্রচার রয়েছে। এ সময় উক্ত মামলার এক আসামী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মরিয়ম অঝোরে কান্নাকাটি করে বলেন, হানিফ মারা যাওয়ার পরদিন কে বা কারা আমার দুধেল গাভীটি ৫ দিনের বাছুর রেখে চুরি করে নিয়ে গেছে। হানিফ হত্যার দিন তার স্বামী বাড়িতে ছিল না বলে মরিয়ম দাবি করছিল। একই মামলার আসামী মামুন তফাদার ও আরিফ তফাদারেরও পালিত বেশ কিছু হাঁস-মুরগী কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে ওই বাড়ির লোকজনের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা যায়। বাড়িতে কোনো পুরুষকে পাওয়া তো দূরের কথা প্রায় সব বসতঘরই ছিলো জনমানবশূন্য।



হানিফ হত্যা মামলার বাদিনী তার বোন শিরতাজ তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তারা এখন বিভিন্ন মিথ্যা কথা ছড়িয়ে অপপ্রচার করছে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই বলে বুক ফাটা কান্না শুরু করেন শিরতাজ।



গত রমজান মাসে তার চাচা শফিক তপাদারের স্ত্রী রেহানাকে প্রচ- রকমের মারধর করে হাত ভেঙ্গে দেন হানিফ। এছাড়াও হানিফের অসহায় ও প্রতিবন্ধী আরেক চাচা ছলেমানকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েই ক্ষান্ত হননি, গজারি লাঠি দিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। চাচা ছলেমানকে পিটিয়ে আহত করার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হানিফকে ওই দিন তার বসত ঘর থেকে ডেকে এনে গণপিটুনি দেয়া হয় বিক্ষুব্ধরা।



অপরদিকে হানিফের নিজ এলাকার একতা বাজারের কনফেকশনারী দোকানী মোস্তফা জানান, আমার দোকানে হানিফ তফাদার বাকি খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যেতেন। তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে উল্টো ভয়-ভীতি দেখাতেন। একদিন টাকা চাওয়ায় হানিফ পিছন দিক দিয়ে চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এ ঘটনায় আমি ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত বিচার চেয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এছাড়াও হানিফের নানা কর্মকা-ে অতিষ্ঠরা গত বছরের মে মাসে গণস্বাক্ষর দিয়ে হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেছিলো।



সরেজমিনে হানিফের বাড়িতে গেলে তার মা খাদিজা বেগম ও হানিফ হত্যা মামলার বাদী হানিফের বোন শিরতাজ কান্নাকটি করে বলেন, হানিফকে ওরা ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে বেধড়ক মারধর করে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। গুরুতর আহত হয়ে হানিফ পানি চাইলে আসামীরা তাকে পানি না দিয়ে আবারো বেধড়ক মারধর করে ফেলে যায়।



হানিফেরই বাড়ির এক আত্মীয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোঃ সহিদউল্লা তফাদার জানান, হানিফের বিরুদ্ধে আমার কাছেও বিভিন্ন সময় বাড়ির লোকজন ছাড়াও এলাকার লোকজন বিভিন্ন অভিযোগ দিতেন। এক প্রশ্নের জবাবে সহিদউল্লা তফাদার আরো বলেন, হানিফকে মারার পর তারই অতিষ্ঠ বাবা লোকমান তফাদার ঘরে থাকা বেশ কিছু ট্যাবলেট তাকে খাইয়ে দিয়েছেন বলে আমার কাছে বলে গেছেন। এতে হানিফের বিষক্রিয়া হয়েছে কিনা তা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া ছাড়াতো আর আগাম বলতে পারছি না।



ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, হানিফ মূলত ছিল উগ্র স্বভাবের। তার বিরুদ্ধে আমার আদালতেও মামলা আছে। যে ছেলে প্রায়শই নিজের বাবা-মা ও বোনকে মারধর করতে পারে, তাকে কীভাবে আমি ভালো ছেলে হিসেবে আখ্যায়িত করবো।



ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব এ প্রতিনিধিকে বলেন, হানিফ হত্যার প্রধান আসামী মামুন ও অপর আসামী আরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে তথ্য পেতে ওই দুই আসামীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বিজ্ঞ আদালত।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫০২৭৫
পুরোন সংখ্যা