চাঁদপুর, শুক্রবার ১২ জুলাই ২০১৯, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


assets/data_files/web

সৃষ্ট বস্তুতে ভালোবাসার মতো অন্য কোনো এবাদত নেই।


-রবার্ট ব্রিজ।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর শহরে দোকান ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি আহত ২
জোরপূর্বক মালিকানা বহাল রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকার পরিণতি
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরে একটি দোকানের পুরো ছাদ ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরবেলা শহরের পালবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দোকানটি ছিলো পুরো ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটির ওপরের দিকে ভাঙা শুরু হলেও নিচ থেকে সরে যায়নি দোকানদাররা। তারা মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে দোকানদারি করছিলো। আর এই সরে না যাওয়ার পেছনে কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে, সরে গেলে হয়তো তাদের হাত থেকে দোকান চলে যাবে। আর এই আশঙ্কার কারণ হচ্ছে তাদের দোকানের মালিকানা দাবির পেছনে বৈধতা না থাকা। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, একই ছাদের নিচে থাকা একটি দোকানের ছাদ পুরোটা ধসে পড়লেও পাশের দোকানদার মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে এখনো দোকানে রয়েছে। কারণ সেই একটাই, সরে গেলে যদি দোকান হাতছাড়া হয়ে যায়। যে দোকানটি ধসে পড়েছে সেটি হচ্ছে শহরের পালবাজার এলাকার কল্পনা স্টোর। এমন একটি দুর্ঘটনার পরও ঝুঁকি মাথায় নিয়ে এখনো ধসে পড়া দোকানটির সাথে থাকা রফিক মেডিকেল হল নামে দোকানটি চালু রেখেছে।



ভবনটি ভেঙ্গে নেয়ার কাজ পাওয়া ঠিকাদার সাবি্বর হোসেন জানান, চাঁদপুর শহরের পালবাজার এলাকাস্থ সুইট হোমের পশ্চিম পাশের ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয় প্রায় মাসখানেক ধরে। ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মালিকপক্ষ ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেন। ভবনটি ছিলো তিনতলা। এর মালিক হচ্ছেন সুইট হোমের মালিক ভানু বাবু। তিনি মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা এটি ভোগদখল করছেন। প্রয়াত ভানু বাবুর পরিবারের সদস্যরা ভবনটির উপরেই থাকতেন। এটি ভাঙ্গার কাজ ধরলে তারা এখন ভেতরে চৌধুরী কলোনীতে থাকেন। তবে ভবনটির নিচে থাকা কল্পনা স্টোর ও রফিক মেডিকেল হল নামে যে দুটি দোকান রয়েছে, তারা নিজেরা দোকান দুটির মালিকানা দাবি করছেন। কিন্তু ভবনের মালিক একজন অথচ একই ভবনের নিচে দুটি দোকনের মালিক আবার অন্য দুজন হয় কীভাবে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর কল্পনা স্টোর ও রফিক মেডিকেল হলের মালিকের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।



এদিকে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মালিকপক্ষ ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে। দ্বিতীয় তলার কিছু অংশ ভাঙা বাকি থাকলে বুধবার রাতে সে অংশ ভাঙার কাজ ধরা হয়। শ্রমিকরা ভাঙার কাজ করা অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে কল্পনা স্টোরের ছাদের অংশটি হঠাৎ ধসে পড়ে। তখন লেবাররাসহ নিচে পড়ে যায়। এতে শামীম (২৩) ও মোল্লা (৩৫) নামে দুজন শ্রমিক আহত হন। তাদেরকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে তারা ধসে পড়া ছাদের নিচে চাপা না পড়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। কল্পনা স্টোরের ভেতরেও কেউ না থাকায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে দোকানের ভেতরে থাকা মালামালের মধ্যে অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



গতকাল সকাল ৮টায় এই প্রতিবেদক দোকান ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ভয়াবহ চিত্র। কল্পনা স্টোরের পুরো ছাদ ধসে পড়েছে। আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে দোকানের সব মালামাল। দোকানদার প্রবীরকে তখন দেখা গেছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মালামাল সরাতে। তখন দেখা গেলো দোকানের আসবাবপত্র ও অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ভবনের মালিক প্রয়াত ভানু বাবুর ছেলে তাপসের কাছে জানতে চাওয়া হয় 'আপনারা ভবন ভাঙতে গিয়ে নিচের দোকানদারদের সরে যেতে বলেননি?' তাপস জানালেন, আমরা কল্পনা স্টোর ও রফিক মেডিকেল হলকে অনেকবার বলেছি দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে , কিন্তু তারা আধিপত্য বিস্তার করে এখানে বসে আছে। তখনই জানা গেলো ওই দোকান দুটির মালিকানা নিয়ে সমস্যার কথা। এ সময় আশপাশের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেলো এ ভবনটির প্রকৃত মালিক সুইট হোমের মালিক ভানু বাবু। পাকিস্তান আমল থেকেই তিনি এর মালিক এবং ভোগদখলে আছেন। কিন্তু তখনকার সময় ভানু বাবু সহানুভূতি দেখিয়ে কানু বাবু ও রফিকুল ইসলামকে দুটি দোকান দেন নামমাত্র ভাড়ায়। পরবর্তীতে একটা সময় এসে তারা নিজেরা দোকান দুটির মালিকানা দাবি করে বসেন। এটি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা অনেক কিছু হয়েছে। তবে রায় ভানু বাবুর ছেলেরা পেয়েছেন বলে ভানু বাবুর ভাগ্নে রতন জানান।



এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভাঙ্গার কাজ ধরার পরও কেনো দোকান থেকে মালামাল সরানো হয়নি এবং মালিকানা বিষয় নিয়ে কল্পনা স্টোরের দোকানদার প্রবীরের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জনৈক ব্যক্তি আসলে কথা বলবেন বলে জানান। তবে তিনিই দোকানের মালিক বলে দাবি করেন। দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় রফিক মেডিকেল হলের মালিকের সাথে। তখন দোকানের ভেতরে বসা একজনের (পরে পরিচয় জানা গেছে কর্মচারী পারভেজ) কাছে জানতে চাওয়া হয় 'পাশের দোকানের পুরো ছাদ ধসে পড়ল, অথচ আপনারা এখনো সরেননি যে? ভবনটি ভাঙার কাজ শুরুর আগে আপনাদের বলা হয়নি দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে?' তখন ওই লোকটি (কর্মচারী পারভেজ) বললেন, আমরা কেনো যাবো? দোকানের মালিক আমরা, আমরা কেনো যাবো? তখন প্রশ্ন করা হয়, মালিক আপনারা হলে ভবন আরেকজন ভাঙ্গেন কীভাবে? তখন ওই লোকটি বললেন এটা ছিল এনিমি প্রপার্টি। আমরা এখন যে যে অবস্থানে আছি, সে সে অবস্থানে মালিক। এরপর এ বিষয়ে কথা হয় ওই ভবনের নিচে থাকা আরেক দোকান আর এম স্টোরের মালিক প্রয়াত ভানু বাবুর ভাগ্নে রতন বাবুর সাথে। তিনি জানালেন, এখানে পুরো সাড়ে ৮ শতাংশ সম্পত্তির মালিক তার মামা ভানু বাবু। তিনি জীবিত থাকাবস্থায় কল্পনা স্টোরের ভাড়াটিয়া প্রবীরের বাবা কানু বাবু এবং রফিক মেডিকেল হলের রফিকুল ইসলাম কয়েক মাসের ভাড়াও মামাকে দিয়েছেন। কিন্তু কিছুদিন পরই তারা দোকান দুটির মালিকানা দাবি করে বসেন। এ নিয়ে মামলা নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে হাইকোর্ট পর্যন্ত গিয়েছে। সব রায় আমরা পেয়েছি। আমরা (ভানু বাবুর পরিবার) পুরো সাড়ে ৮ শতাংশ সম্পত্তির খাজনা, জলের ট্যাঙ্ সব কিছু দিয়ে আসছি। তাহলে তারা মালিকানা দাবি করে কীভাবে? তিনি আরো জানান, পৌর তহশীল অফিসের প্রাক্তন তহশিলদার আমির হোসেন একসময় অন্যায়ভাবে আমাদের এই সম্পত্তির সাথে একটি অংশ এনিমি প্রপার্টির একটি দাগ নাম্বার ঢুকিয়ে দিয়েছে। সে বলেই তারা এনিমি প্রপার্টি বলছে। এর বিরুদ্ধেও আমরা আদালত করে মামলা পেয়েছি। তারপরও একবার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আমরা এই ভবনটি ভেঙে নতুন করে ভবন করলে আমরা যেনো ওই দুই দোকানদারকে দুটি দোকান দেই। যেহেতু এরা দীর্ঘসময় এখানে দোকানদারি করছেন, তাই মানবতার দৃষ্টিতে সালিসরা এ সিদ্ধান্ত দেন। আমরা বিবাদ মিটানোর স্বার্থে সে সিদ্ধান্ত মেনে নেই। এখন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা এটা ভাঙার কাজ ধরি। এর আগে তাদেরকে মালামাল সরিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু তারা সরে না যাওয়ায় আজ দুর্ঘটনায় এমন ক্ষতি হয়ে গেলো। দোকানের ভেতর মানুষ থাকলে তো নির্ঘাত প্রাণহানি ঘটতো। ভগবান রক্ষা করেছেন।



এদিকে ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন ও ইন্সপেক্টর আব্দুর রব ঘটনাস্থলে আসেন। দুর্ঘটনার খবর জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৫০২
পুরোন সংখ্যা