চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০১৯, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬, ৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


assets/data_files/web

একটা হাত পরিষ্কার করতে অন্য একটা হাতের সাহায্য দরকার।


-সিনেকা।


 


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


যিনি বিশ্বমানবের কল্যাণসাধন করেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।


 


 


ফটো গ্যালারি
আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের ১নং ওয়ার্ডের হালচাল
বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি পৌর মেয়র হতে আগ্রহী সাবেক কাউন্সিলর আসলাম গাজী ও নজু বেপারীর প্রার্থী হবার সম্ভাবনা
বিমল চৌধুরী
১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর কয়েকমাস পরই অনুষ্ঠিত হবে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে চাঁদপুর পৌরসভা গঠিত। এর মধ্যে ১ জন মেয়র, ১৫ জন কাউন্সিলর ও ৫ জন মহিলা কাউন্সিলর রয়েছেন। সকলেই পৌর নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত। আগামী পৌর নির্বাচনে এ সকল কাউন্সিলর তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্যে পুনরায় পৌর নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আগামী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রতিনিধি মুখোমুখি হন ১নং ওয়ার্ডের সচেতন মানুষ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাথে।



১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মোহম্মদ আলী মাঝি এলাকার জনগণের প্রতি সালাম জানিয়ে বলেন, ১নং ওয়ার্ডের জনগণ আমাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। প্রায় ৭ হাজার ভোটের মধ্যে ৫ হাজার ৪৯২ ভোট পেয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি। চেষ্টা করেছি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে। মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে। সেমতে এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তবে উন্নয়নমূলক কাজের শেষ নেই। এখনো নিতাইগঞ্জ, বাকালী পট্টি, মাছ ও তরকারি বাজারসহ কিছু এলাকার রাস্তা সংস্কারসহ ড্রেনের সমস্যা রয়েছে। এ সকল কাজ খু্ব দ্রুত সময়ের মধ্যে করার চেষ্টা রয়েছে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে এ ওয়ার্ডে পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেন, রাস্তাঘাটসহ পানীয় জলের ব্যাপক সমস্যা ছিল। পৌর মেয়র আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদের আন্তরিক সহযোগিতায় পুরাণবাজারের ব্যস্ততম এলাকা ও জেলার অন্যতম বাণিজ্যিক স্থান হিসেবে খ্যাত ১নং ওয়ার্ডের পানের গোলা, রমনীমোহন রোড, বাতাসা পট্টি, ডাল পট্টি, মিয়া পট্টি, চাউল পট্টি, ট্রাংক পট্টি, যোগী পট্টির রাস্তাঘাটের সংস্কার , পুরানো ড্রেন সংস্কার পূর্বক গভীর ড্রেন নির্মাণ, পানীয় জলের সুব্যবস্থা, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছি। তিনি কয়েকটি ডাস্টবিন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।



আগামী পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী মাঝি বলেন, আমি সকল সময়ই সামাজিক কর্মসহ জনসেবামূলক কাজ করতে আগ্রহী ছিলাম। জনপ্রতিনিধি ছাড়া সামাজিক কোনো কাজ করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। শুধু ১টি ওয়ার্ডেই নয় চাঁদপুর পৌরসভার সকল ওয়ার্ডেই কাজ করতে চাই। চাই সকল ওয়ার্ডের মানুষের সেবা করতে। আমার দল এবং আমার নেত্রী যদি আমাকে সে সুযোগ দেন, তাহলে পৌর মেয়র হিসেবে আমি পৌরবাসীর সেবা করতে আগ্রহী।



নির্বাচিত কাউন্সিলর মোহম্মদ আলী মাঝি ছাড়াও কথা হয় অনেকের সাথে। তবে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে কেউই তেমনভাবে আগ্রহ প্রকাশ না করলেও এলাকার বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নদী ভাঙ্গনকে। এলাকার পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ফয়েজ আহম্মদ মন্টু জানান, পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ১টি ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে রয়েছে দেশের অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাওয়া করেছে ব্যবসায়ীগণ। এ ওয়ার্ডের আশানুরূপ উন্নয়ন হলে দেশ-বিদেশের মানুষ তা দেখতে পারবে। ছড়িয়ে পড়বে পৌরসভার সুনাম। তাই এ ওয়ার্ডে যিনি নির্বাচিত হবেন তাকে ওয়ার্ডের উন্নয়নের পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধেও কাজ করতে হবে বলে তিনি জানান।



বিগত ২ বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মোঃ নজরুল ইসলাম নজু বেপারী বর্তমান সময়ে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে স্বীকার করে বলেন, ১নং ওয়ার্ডে অনেক কাজ হয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এখনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার পুরোপুরি কাজ সম্পন্ন করা যায়নি বলে আমি মনে করি। রাস্তারও কিছু সংস্কার বাকি রয়েছে। পৌর নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে যদি নির্বাচন হয় এবং আমার দল যদি মনে করে তাহলে আমার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও পৌর ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আসলাম গাজীও এ বছর পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি পূর্বে এ ওয়ার্ডে কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছি। ওয়ার্ডের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে ভোট দিয়েছে। আমিও এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট কাজ করেছি। বিশেষ করে এলাকার মানুষের ইচ্ছা যে আমি নির্বাচন করি। তাই আমি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি। যেহেতু আমি একটি দল করি, সেহেতু আমি আশা করি আমার দল আমাকে এ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার জন্যে সমর্থন দিবে এবং এলাকার মানুষও তাদের ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য আমাকে ভোট দিবেন।



উল্লেখ্য, গত নির্বাচনেও আসলাম গাজী ১ নং ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। ঠিক নির্বাচনের আগ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।



জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অংশ না নিলেও স্থানীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পৌর বা ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে সমপ্রতি দলীয় সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ মুহূর্তে বিএনপি দলীয় কারো নাম শোনা না গেলেও বিএনপি সমর্থিত একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম তালুকদারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়। গত পৌর নির্বাচনেও আসলাম তালুকদার প্রার্থী হয়েছিলেন।



বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ আলী মাঝির একটি বড় সফলতা রয়েছে বলে ব্যবসায়ী সমাজ মনে করেন। তা হলো ফল পট্টি, যোগী পট্টিসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনেক টিনের চালা এমনভাবে রাস্তার উপর ঝুঁকে ছিল, যার কারণে যান চলাচল এমনকি ফুটপাত ঘেঁষে মানুষ চলাচলের সময়ও ভীষণভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতো। মোঃ আলী মাঝি পৌর মেয়রের সহযোগিতা নিয়ে এ সকল টিনের চালা কেটে দিয়ে তা পাশে থাকা দোকান ঘরের চালার সাথে সমান করে দিয়েছেন এবং যে সকল চালা নিচুতে ছিল তা সমান করে উঁচু করে দিয়েছেন। যার ফলে, এখন যে কোনো যানবাহন নিরাপদে স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার এলাকার রাস্তাগুলো অতিক্রম করতে পারে। মানুষ চলাচল করতে পারে নির্বিঘ্নে। টিনের চালা কাটতে গিয়ে যে সকল ব্যবসায়ীর এ কাজ করার সামর্থ্য ছিল না তাদেরকে মোঃ আলী মাঝি নিজ থেকে খরচ জুগিয়েছেন।



এলাকার যুব সমাজের মধ্যে মিজানুর রহমান খান বাদল, জাকারিয়া ভূঁইয়া বতু, আঃ মজিদ খান ডেঙ্গু, গোবিন্দ মন্ডল, মোঃ মাঈনুল ইসলাম মুনির, পারভেজ খানসহ কয়েকজনের সাথে কথা হয়, যারা ১নং ওয়ার্ডে পৌর নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। তারাও নির্বাচন করবেন না বলে অভিমত প্রকাশ করেন। পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ১ জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও এ মুহূর্তে নতুন কোনো মুখের নাম শোনা যায়নি। তবে বর্তমান মহিলা কাউন্সিলর সাবেক প্যানেল মেয়র লায়লা হাসান চৌধুরী নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূলে থাকলে মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে গতবারের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডঃ ফারজানা আক্তারের নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে নতুন করে কোনো প্রার্থীর নাম শোনা না গেলেও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা আর নির্বাচনী পরিবেশে নিরপেক্ষতা থাকলে নতুন কোনো মুখ জনসমক্ষে আসতে পারে প্রার্থী হিসেবে।



এ ওয়ার্ডেই রয়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহীবাহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রয়েছে জেলার ব্যবসায়ীদের বৃহৎ সংগঠন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স। আছে মালামাল আমদানি রপ্তানির জন্য ট্রাকঘাটসহ নৌবন্দর, রয়েছে অটো রাইসমিলসহ বিভিন্ন কলকারখানা, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। তাই কে হবেন এ ওয়ার্ডে পৌর কাউন্সিলর সেদিকে ব্যবসায়ী সমাজেরও একটি নীরব সমর্থন কাজ করে আসছে বিগত সময় থেকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১৬১০৮
পুরোন সংখ্যা