চাঁদপুর, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
অবৈধ দখল ও পাকা স্থাপনায় জৌলুশ হারাচ্ছে ডাকাতিয়া নদী
মিজানুর রহমান ॥
১৭ জুন, ২০১৯ ০২:৩৩:২৫
প্রিন্টঅ-অ+


 ক্রমাগত ভরাট ও অবৈধ দখলে দিন দিন সঙ্কুচিত হচ্ছে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদী। নদীর দু’পাশে অবৈধভাবে নানা স্থাপনা গড়ে তোলায় জৌলুস হারাতে বসেছে এক সময়ের খর¯্রােতা এ নদীটি। চাঁদপুর নদীবন্দরকে ঘিরে এই দখলের প্রক্রিয়া বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিনা বাধায় ভূমিদস্যুরা নদীর দু’পাশে অবৈধভাবে গড়ে তুলছে বিভিন্ন স্থাপনা। এতে করে হুমকির মুখে পড়ছে নদীটি। অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি দখল হয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার। অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার জন্যে কমিটি গঠন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান হয়নি সে কাজ। সেজন্যে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা ও টঙ্গির তুরাগ তীর সংরক্ষণের মত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা যায় নি। জরিপ করা হলেও এখনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

১৯৬০ সালে চাঁদপুরকে নদীবন্দর ঘোষণা করা হলে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ-কে ১শ’ ৩০ একর জায়গা দেয়া হয়। এর মধ্যে সময় গড়িয়ে গেছে প্রায় ষাট বছর। এই দীর্ঘসময়ে অবৈধ দখল আর ভরাটের ফলে বর্তমানে কতটুকু জায়গা রয়েছে তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না খোদ জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০০৪ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়ের খাস জমির নবায়ন কার্যক্রম। তারপরও থেমে থেমে নদী সংলগ্ন শহর এলাকার বিভিন্নস্থান দিয়ে দখল প্রক্রিয়ায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চাঁদপুরের বড় স্টেশন মোলহেড থেকে ইচলী পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর দু’পাড় অবৈধ ভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড় দখল করে গড়ে তুলেছে ইট-বালুর ব্যবসা কেন্দ্র, ডকইয়ার্ড, বাঁশ বিক্রির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখানেই শেষ নয়, ভূমিদস্যুরা নদীর পাড় ও সরকারি খাস জমি দখল করে নির্মাণ করেছে অসংখ্য স্থাপনা। গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবনসহ আধা পাকা টিনসেড বসতবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীর পাড় ভরাট করেও অনেক জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে স্থাপনা। এতে দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে আসছে নদীটি। নতুনবাজার পুরাণবাজার ব্রীজের নতুনবাজার চৌধুরী ঘাট এলাকায় নদী এবং সরকারি খাস জমি সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে। চাঁদপুর পৌর ঈদগাহের পেছনে বাঁশ বিক্রির অন্তরালে এখানে মূল্যবান সরকারি জমি দখল করা হয়েছে। অবৈধভাবে দুটি বহুতল ভবনের পর জনৈক দেলোয়ার বাঁশ ব্যবসার অন্তরালে নতুন করে তিন তলা বিল্ডিং নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখার্জিঘাট এলাকায় হাজী কাউছ মিয়ার প্রতিষ্ঠিত বোগদাদীয়া জামে মসজিদের পেছনে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের নদীর পাড়ের জায়গার ওপর পাকা বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন ছাত্তার ছিদ্দিকি নামে আরেকজন। এভাবে নদীর সবস্থান দিয়েই অবৈধভাবে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ করে বসতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে।

টিআইবি (সনাক)-এর চাঁদপুর জেলা সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, ডাকাতিয়া নদী দখল হওয়া আমাদের জন্যে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। এটা মেনে নেয়া যায় না। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী বর্ষায় নদীর দুই পাড়ে যতটুকু পর্যন্ত পানি উঠে ততোটুকু পর্যন্ত নদী সীমানা। এটা দখল করার অধিকার কারো নেই। যদি কেউ দখল করে তারা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়। আমরা মূলত বলে থাকি ভূমিদস্যুরা দখল করে। এই ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যখন যেই সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের কিছু অসাধু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই দখল কাজ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যারা আছেন তাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। একই সাথে সুশীল সমাজ যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন তাদেরকেও আরো বেশি সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। তাহলেই নদী দখল ঠেকানো সম্ভব হবে।

চাঁদপুর নদী বন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক আঃ রাজ্জাক জানান, ডাকাতিয়া নদী রক্ষায় অচিরেই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অবৈধ দখল ও নির্মিত স্থাপনা চিহ্নিতকরণে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এ মর্মে জরিপ কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই জরিপ রিপোর্ট আমরা পাবো। জরিপ রিপোর্ট হাতে পেলে এরপর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড় উচ্ছেদ করে স্থায়ীভাবে বাঁধ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন চাঁদপুরবাসী। তাদের দাবি, চাঁদপুর শহরে অবকাশযাপনের জন্যে ভালো কোনো জায়গা নেই। তাছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্যে হাঁটারও কোনো রাস্তা নেই। তাই অবিলম্বে ডাকাতিয়া নদীর দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এরিয়া করার পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন চাঁদপুরবাসী। নয়তো এভাবে দখল হতে থাকলে একসময় ডাকাতিয়া নদী শুধুমাত্র কাগজে কলমেই থাকবে, বাস্তবে আর থাকবে না বলে শঙ্কায় রয়েছেন সচেতনমহল।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৩৯৭৫৪
পুরোন সংখ্যা