চাঁদপুর, বুধবার ১২ জুন ২০১৯, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ। -জুভেনাল।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ আহত ৪
মিজানুর রহমান/নজরুল ইসলাম বাবলু
১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দু'জন হচ্ছে মামা-ভাগি্ন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে তিন ঘন্টার ব্যবধানে একই সড়কে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমটি ঘটে ভোর সাড়ে ৬টায়। তখন বাস এবং সিএনজি স্কুটারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজির যাত্রী মামা-ভাগি্ন নিহত হন। এ ঘটনায় সিএনজিতে থাকা আরো দুই যাত্রী আহত হন। এর তিন ঘন্টা পর সকাল সাড়ে ৯টায় একই সড়কে রাস্তা পার হওয়ার সময় পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিন সন্তানের জননী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সাথে থাকা আরো দুজন আহত হন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল ১১ জুন মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার আশকাটি ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস-সিএনাজি স্কুটার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে সিএনজি স্কুটার যাত্রী এমরান হোসেন (৩৪) নামে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা নেয়ার পথে তার ভাগি্ন ফাতেমা আক্তার (১০) মারা যায়। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সিএনজির আরো ২ যাত্রী।

নিহত এমরান হোসেন হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল গ্রামের সর্দার বাড়ির মোঃ তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুর সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা। তার ভাগি্ন ফাতেমা একই এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেনের কন্যা।

আহতরা হলেন : ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ডাঃ ভাষান চন্দ্র শীলের ছেলে রতন চন্দ্র শীল (৩০) ও মোঃ জুয়েল হোসেন (৩৫)। আহতদের মধ্যে ফাতেমা ও রতনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে মতলব এলাকায় ফাতেমার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, সিএনজিচালিত স্কুটারটি হাজীগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের দিকে আসতেছিলো আর পদ্মা পরিবহনের বাসটি চাঁদপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় ঘটনাস্থলে বাসের সাথে সিএনজি স্কুটারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজি স্কুটার যাত্রী এমরান হোসেন নিহত হন এবং অন্য ৩ যাত্রী আহত হন। ঘটনার পরপরই বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং স্কুটার চালক পালিয়ে যায়।

চাঁদপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পিতা তাজুল ইসলাম থানায় এসে আবেদন করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নস্থ চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের মান্দারী চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনে। এখানে রাস্তা পার হতে গেলে ইটবোঝাই পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে একজন নিহত ও সাথে থাকা দুজন আহত হয়।

পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর পঞ্চায়েত বাড়ির প্রবাসী শাহআলম মিজির স্ত্রী তিন সন্তানের জননী ঝর্ণা বেগম (৩৫)। তার সাথে থাকা আরো দুজন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মান্দারী জলিল বেপারী বাড়ির মমতাজ বেগম (৫০) ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা লোহাগর মুন্সি বাড়ির ফয়েজ মুন্সির মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৭) পিকআপের ধাক্কায় আহত হন। মমতাজ বেগমকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং ফারজানাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই মিরাজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এরপর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান গাজী জানান, সকালে তারা ৩ জন রাস্তা পারাপারের সময় পশ্চিম দিক থেকে আসা ইটবোঝাই পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ঝর্ণা বেগম নিহত হন। সাথে থাকা মমতাজ ও ফারজানা পিকআপের ধাক্কায় আহত হয়েছেন।

নিহত ঝর্ণার ভাসুরের ছেলে আল-আমিন জানান, আমার চাচী এবং তার তালতো বোন মমতাজ বেগম ও ভাগি্ন ফারজানা আক্তার সকালে কবিরাজ দেখানোর জন্যে বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে মান্দারী এলাকায় চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনে রাস্তার দক্ষিণ পাশে নামেন। তখন রাস্তা পার হতে নিলে পশ্চিম দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি পিকআপের নীচে পড়ে ঝর্ণা বেগম নিহত হন। ঝর্ণা বেগমের ১৪, ১০ ও ৭ বছর বয়সী ৩টি ছেলে সন্তান রয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট সংগ্রহ করেছি। পরে থানা থেকে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে যাবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ইন্সপেক্টর হারুনুর রশিদ, এসআই মিরাজ, বাকিলা ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ পাটওয়ারী ও মান্দারী এলাকার ইউপি সদস্য কামরুল মোল্লাসহ মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ছিলেন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০১০০৬
পুরোন সংখ্যা