চাঁদপুর, শুক্রবার ১৭ মে ২০১৯, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১১ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কিংবদন্তীতুল্য সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর আর বেঁচে নেই। আজ ভোর ৪টায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।বাদ জুমা পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে বাসস্ট্যান্ড গোর-এ-গরিবা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৩। তাহার সঙ্গী ফিরিশ্তা বলিবে, ‘এই তো আমার নিকট আমলনামা প্রস্তুত।’

২৪। আদেশ করা হইবে, তোমরা উভয়ে নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক উদ্ধত কাফিরকে-


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
মতলবের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ও খেলাধুলা বঞ্চিত
৭৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন সমস্যা ও ৬০ বিদ্যালয়ে মাঠ নেই
রেদওয়ান আহমেদ জাকির
১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন সমস্যা ও ৬০টি বিদ্যালয়ে শিশুদের মনন বিকাশে শিক্ষার্থীদের কোনো খেলার মাঠ নেই। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ও খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। মনস্তাত্তি্বকভাবে 'ঘরকুণো' হয়ে পড়ছে তারা। ব্যাহত হচ্ছে তাদের মানসিক-শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।



মতলব দক্ষিণ উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তন্মধ্যে ৩৫টি বিদ্যালয়ে ভবনের সমস্যা নেই ও ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ আছে। বাকি ৭৮টি বিদ্যালয়ে ভবন সমস্যা বিদ্যমান ও ৬০টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।



সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (সদর ক্লাস্টার) মোঃ তানভীর হাসান জানান, আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্যে খেলাধুলার মাঠ না থাকায় তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষমতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। শিশুদের এ ঘাটতি তাদের মানসিক অপরিপক্কতার কারণ। ভবন সমস্যার কারণে সরকারি নিয়মানুযায়ী পাঠগ্রহণ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।



গত ১৫ মে বুধবার উপজেলার দগরপুর, চরনিলক্ষ্মী, বাবুরপাড়া, ঘিলাতলী, শোভনকর্দী, দগরপুর, মুন্সীরহাট, ঢাকিরগাঁওসহ আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সেগুলোর পাশে এমনকি কাছাকাছিও কোনো খেলার মাঠ নেই। এক চিলতে জায়গার ওপর দাঁড়ানো এসব বিদ্যালয়ের আশপাশে পুকুর ও খাল। হইচই, ছোটাছুটি করার জায়গাটুকুও নেই সেখানে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা মনমরা হয়ে যার যার মতো কাজ করে আছে। কিছু বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কিছু বিদ্যালয়ের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও নূতন ভবন প্রয়োজন।



এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ভবন সমস্যা ও শিশুদের মানসিক বিকাশে কোনো খেলার মাঠ নেই। এজন্যে তাদের খেলাধুলায় অসুবিধা হচ্ছে। একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, 'মাঠের জন্যে খেলতে পারি না। দৌড়াতেও পারি না। খেলতে না পারলে ভালো লাগে না।'



বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পিন্টু সাহা বলেন, মাঠ না থাকায় তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলতে পারছে না। এতে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে তারা। বিদ্যালয়ের সামনে সকালে সমাবেশেরও জায়গা নেই। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সমাবেশ করতে হয়। বিদ্যালয়ের পূর্বদিকের পুকুরটি ভরাট হলে সমস্যার সমাধান হতো।



স্থানীয় শিশু সংগঠক মাকসুদুল হক বাবলু বলেন, 'প্রতিটি বিদ্যালয়েরই নিজস্ব মাঠ থাকা জরুরি। এতে পড়ালেখা-খেলাধুলার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও উৎসাহিত হবে শিক্ষার্থীরা।'



ঢাকা উইমেন্স কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফেরদৌসী খানের মন্তব্য, 'খুদে শিক্ষার্থীদের দৈহিক গঠন ও মেধাবিকাশে খেলাধুলা সহায়ক। খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং মুক্তচিন্তার সুযোগ তৈরি করে। মাঠের অভাবে শিশুরা বিদ্যালয়ে খেলতে না পারলে মনস্তাত্তি্বকভাবে ঘরকুণো হয়ে পড়বে।'



সহকারী শিক্ষা অফিসার (নারায়ণপুর ও ধলাইতলী ক্লাস্টার) সেলিনা বেগম জানান, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয় এবং বিদ্যালয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ বজায় থাকে না। যার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের মধ্যে ভয় বিরাজ করে। মাঠের অভাবে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় শিশুদের স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ছে।



উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শহীদুল হক মোল্লা জানান, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। খুদে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ না পেয়ে ঝিমিয়ে পড়ছে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা উচিত। সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তহীনতায় ভোগে। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ ও ভবন সংক্রান্ত সমস্যা আমরা তার আশু সমাধানের জন্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৮১২৫
পুরোন সংখ্যা