চাঁদপুর, বুধবার ১৫ মে ২০১৯, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্


৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


১৯। মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যই আসিবে; ইহা হইতেই তোমরা অব্যাহতি চাহিয়া আসিয়াছ।


২০। আর শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, উহাই শাস্তির দিন।


 


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


দয়া ঈমানের প্রমাণ; যার দয়া নেই তার ঈমান নেই।


 


ফটো গ্যালারি
উদাসীন ফরিদগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ
বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে ইজিবাইক ও অটোরিক্সা
নূরুল ইসলাম ফরহাদ
১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা শহর, উপজেলা শহর ও গ্রামগুলোর মতো ফরিদগঞ্জেও পায়ে চালিত রিক্সা ও ভ্যানগাড়ির বিকল্প হিসেবে অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিক্সা। অথচ এসব যানবাহনের কোনো বৈধতা নেই। যে কোনোভাবেই হোক এটি চালু হয়ে এটিও এখন পথেঘাটের একমাত্র যানবাহন হয়ে গেছে। এদিকে অবৈধভাবে চলা এসব বাহন বিদ্যুতের একটি বড় অংশ গিলে খাচ্ছে। কারণ এগুলোর ব্যাটারি বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেয়া হয়। শুধু ব্যাটারিচালিত অটোবাইক বা রিক্সাই নয়, ইদানীং ফরিদগঞ্জের রাস্তায় চলতে দেখা যাচ্ছে বেশকিছু মোটর সংযোজিত ভ্যানগাড়ি। এই মোটরও ব্যাটারি চার্জ দ্বারা চালানো হয়।

বাংলাদেশ ইজিবাইক আমদানি ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ী সমিতির দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে এখন প্রায় ১৩ লাখ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিক্সা চলাচল করছে। তবে বাস্তবে এ হিসাবের বাইরে রয়েছে আরো অসংখ্য। আর এসব যানবাহন চার্জ দিতে সারাদেশে দৈনিক প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্যে চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্যে গড়ে ৮শ’ থেকে ১১শ’ ওয়াট হিসেবে পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট (দিনে রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ধরা হলে ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিক্সায় প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

অটোরিক্সা ও ইজিবাইক সংখ্যা এতো বেশি বেড়েছে যে, রাস্তা বা গলিপথে সাধারণ মানুষের চলাফেরাও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। জানা যায়, ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চালকরা যে গ্যারেজে গাড়িগুলো রাখছে, সে জায়গাতেই রাতভর ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছে। একটি গাড়ির শুধু চার্জের জন্যেই গ্যারেজ মালিককে ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা করে দিচ্ছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র অবাধে চলছে এ যানবাহনগুলো। আর এগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধ লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে গাড়িগুলো চার্জ দিচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও চার্জ দেয়ার জন্যে আলাদা দোকান রয়েছে। সেখানে নিয়ম ভঙ্গ করে বিদ্যুতের অপচয় করে গাড়িগুলোতে চার্জ দেয়া হচ্ছে। এক একটি ঘরে একাধিক ইজিবাইক এবং অটোরিক্সাতে একটানা ৮ ঘণ্টা করে চার্জ দেয়া হচ্ছে। দেশে যেখানে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এই যানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার বিদ্যুতের অপচয় এবং মানুষের উপর জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়। ফরিদগঞ্জে ঠিক কতগুলো ইজিবাইক ও অটোরিক্সা রয়েছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও শুধুমাত্র পৌরসভায় পাঁচ শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিক্সা রয়েছে বলে অনেকে মত দেন।

ফরিদগঞ্জে দিন দিন ইজিবাইক ও অটোরিক্সা বেড়েই চলছে। উপজেলার প্রায় সব গ্রামেই এখন অটোরিক্সার আধিক্য চোখে পড়ার মতো। মানুষ একপ্রকার বাধ্য হয়েই এ অটোরিক্সা ও ইজিবাইকে উঠছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, নারীদের জন্যে ইজিবাইকে চলা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অনিরাপদ জেনেও তারা তা ব্যবহার করছে। এমনিতেই ফরিদগঞ্জে বিদ্যুতের সমস্যা। তার উপর বিষফোঁড়ার মতো যোগ হয়েছে ইজিবাইক ও অটোরিক্সা। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের যেমন কোনো মাথা ব্যথা নেই, তেমনি জনগণও রয়েছে অচেতনভাবে।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের কোনো পদেক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে ডিজিএম মোঃ মোখলেছুর রহমান চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, ‘ইজিবাইক এবং অটোরিক্সায় চার্জ দেয়ার জন্যে আমরা বাণিজ্যিক মিটার দেই, যাতে মানুষ নিরুৎসাহী হয়ে এ ব্যবস্থা থেকে সরে আসে। আর অনুমতি ব্যতীত যে সংযোগুলো আছে খবর পেলে সেগুলোর লাইন আমরা কেটে দেই।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘ইজিবাইক বা অটোরিক্সা চার্জ দেয়ার জন্যে লাইন দেয়ার অনুমতি না থাকলেও আমরা অসহায় গরিব শ্রেণির মানুষদের কথা চিন্তা করে শুধুমাত্র অটোরিক্সাগুলো চার্জ দেয়ার জন্যে লাইন দিচ্ছি।’

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়ে এবং মুঠোফোনেও মেয়র মোঃ মাহফুজুল হককে না পেয়ে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী আফরোজ এ বিষয়ে বলেন, ‘ইজিবাইক এবং অটোরিক্সা বন্ধ হোক সেটা আমিও চাই। কিন্তু এর বিকল্প কী হবে? জনসাধারণের কথা চিন্তা করে আমরা এ মুহূর্তে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি না। এটা একা আমার পক্ষে সম্ভবও নয়। তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ যদি জনমত সৃষ্টি করা যায় তাহলে অটোবাইক ও মোটরচালিত রিক্সার উপর অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করা যাবে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিটার ব্যতীত অবৈধ লাইন থেকে এ যানগুলোতে চার্জ দেয়া হলে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ চাইলে আমরা বিশেষ অভিযান চালাতে পারি।’

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৬৬৬৮৬
পুরোন সংখ্যা