চাঁদপুর। রোববার ১৮ নভেম্বর ২০১৮। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭১। স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র লইয়া তাহাদিগকে প্রদক্ষিণ করা হইবে; সেথায় রহিয়াছে সমস্ত কিছু, যাহা অন্তর চাহে এবং যাহাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেথায় তোমরা স্থায়ী হইবে।


৭২। ইহাই জান্নাত, তোমাদিগকে যাহার অধিকারী করা হইয়াছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


ভয়ের অনেক চক্ষু আছে। -কারভানটেন।


 


 


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


ফটো গ্যালারি
আজ থেকে জেলার ১শ' ৫৬ কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা
পরীক্ষার পরিবেশ সংকটে জেলার ৫৫ হাজার পরীক্ষার্থী
জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাশের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় অবমূল্যায়িত হচ্ছে মেধাবীরা । প্রশাসনের নীরবতায় সক্রিয় অসাধু শিক্ষক চক্র
রাসেল হাসান
১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'তোরা যে যা বলিস ভাই আমার সোনার হরিণ চাই' বাক্যটির মতই প্রতি বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় সোনার হরিণ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামে জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের কাছে সেই সোনার হরিণ হলো 'শতভাগ পাস' কিংবা 'জিপিএ-৫'। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষাকে বিবেচনা করা হয় ছোটদের বড় পরীক্ষা হিসেবে। সারাবছর ছোট্ট শিশুরা যা পড়েছে তার ধারাবাহিক মূল্যায়নের স্বীকৃতি প্রদানের জন্যে আয়োজন করা হয় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার। যে পরীক্ষার ধার ও ভার নিতে গিয়ে বেগ পেতে হয় বহু স্কুলের শিক্ষার্থীদের। তবুও স্কুলের শিক্ষকদের পুরো এক বছরের প্রচেষ্টা, সচেতন অভিভাবকদের আগ্রহ আর শিক্ষার্থীদের অনুশীলনে যতটুকু প্রস্তুতি নেয়া হয় পরীক্ষার জন্য তাও ভেস্তে যায় প্রথম পরীক্ষার দিন পরীক্ষা কেন্দ্রের কিছু শিক্ষকের নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকা-ের কারণে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের বলে দেয়া, উত্তরপত্র সরবরাহ করা উপজেলাভিত্তিক অধিকাংশ কেন্দ্রের জন্যে যেনো নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু কেন্দ্রে কতিপয় শিক্ষক পরীক্ষার হলে বস্নাক বোর্ডে লিখে দেয়ার মত অভিযোগও পাওয়া গেছে গত বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে। সব মিলিয়ে পরীক্ষার হলের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে পরীক্ষার্থীরা। তাই এ বছরও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৫৫ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলের পরিবেশ সংকটে রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে অবমূল্যায়িত হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। সারাবছর পড়ালেখা না করেও কতিপয় শিক্ষকের সহায়তায় জিপিএ-৫ পাচ্ছে এমন শিক্ষার্থী পুরো জেলায় অসংখ্য রয়েছে।



জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, এ বছর ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক সমাপনীতে চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ১শ' ৫৬টি কেন্দ্রে ৫৪ হাজার ৯শ' ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নিবে ৪৭ হাজার ৯শ' ৮৬ জন এবং ইবতেদায়ী সমাপনীতে অংশ নিবে ৬ হাজার ৯শ' ৪৯ জন পরীক্ষার্থী। আজ রোববার সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরে অভিন্ন সময়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ছোটদের পরীক্ষা পরিচালনার জন্যে প্রস্তুত রয়েছে জেলার ছোট-বড় মোট ১শ' ৫৬টি কেন্দ্র। পরীক্ষার কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও পরীক্ষার্থীদের জন্যে পরীক্ষার ইতিবাচক পরিবেশ কতটুকু প্রস্তুত তা নিয়ে বিগত বছরগুলোর ন্যায় যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।



কোমলমতি পরীক্ষার্থীরা প্রথম পরীক্ষার দিন হলে গিয়েই যখন দেখে কোনো এক পরিচিত বা অপরিচিত শিক্ষক উত্তরপত্র সরবরাহ করছেন, তখন তারা পরীক্ষা চলাকালীন পড়ালেখার আগ্রহ হারায়। স্কুলগুলোর শতভাগ পাস কিংবা সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার বলি হয় আগামীর প্রজন্ম। পরীক্ষা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে মেধায় পিছিয়ে থাকা বহু শিক্ষার্থী জিপিএ-৫-এর আনন্দে আত্মহারা হলেও বস্তুত সে জিপিএ-৫ কতটুকু শিক্ষার্থীর মেধায় অর্জিত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে নিজ মেধায় নয় কতিপয় অসাধু শিক্ষকের মেধায় শতভাগ পাস কিংবা জিপিএ-৫ অর্জন করছে। অসাধু শিক্ষক চক্রটি শুধু স্বল্প মেধাবীদেরই বলে দিচ্ছেন না, সমভাবে বিরক্ত করছে মেধাবী পরীক্ষার্থীদেরও। একটু সুযোগ পেলেই একযোগে ঘুরে ঘুরে প্রতিটি কক্ষে অপারেশন চালায়। যার বলি হয় জেলার বহু শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। সারা বছর যে শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ৬টি বইয়ের আদ্যোপান্ত আয়ত্ত করেছে, সে যখন দেখে তার সামনে পিছনের সারির একজন শিক্ষার্থী অসাধু শিক্ষকদের নকল সাপ্লাইয়ের বলে তার চেয়েও ভালো পরীক্ষা দিচ্ছে তখন মেধাবীদের মনোবল ভাঙ্গা বা শিক্ষাঙ্গনের প্রতি ধিক্কার আসাটাই স্বাভাবিক। অসাধু শিক্ষক চক্রের অপচেষ্টার ফলে মেধাহীন শিক্ষার্থীদের এমন চমকপ্রদ ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে।



প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে না এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক। একাধিক মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, ইংরেজি-গণিততো বটেই, বাংলা রিডিং পড়তে পারে না এমন শিক্ষার্থীও এ প্লাস পেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে। যেহেতু সে একটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে সনদ নিয়ে আসছে সে ক্ষেত্রে তাকে ভালো শিক্ষার্থী ভেবেই স্কুলে ভর্তি করাতে হয়। আর এই মানের শিক্ষার্থীদের নিয়েই ধীরে ধীরে জেএসসি পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত করতে হয় মাধ্যমিক শিক্ষকদের। শিক্ষকদের দাবি, যদি প্রাথমিকে তারা সঠিক শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে মাধ্যমিক স্কুলে পা রাখতো, তবে তাদেরকে গড়ে তোলাটা সহজ হতো।



পুরো জেলাব্যাপী কিছু অসাধু শিক্ষক চক্রের নৈতিকতা বির্জিত এ কর্মকা- ঘটে আসছে কয়েক বছর ধরে। অবাক করার বিষয় হলো, এ চক্রের সাথে জড়িত আছেন একাধিক প্রধান শিক্ষকও! নিজ স্কুলের শতভাগ পাস আনার জন্যে নিজ পেশাগত জায়গা থেকে সর্বনিম্নে নামতেও দ্বিধাবোধ করেন না ঐ শিক্ষক চক্রটি। গত কয়েক বছর ধরে এমন কাজের সাথে জড়িত কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরে সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে তারা জানান, সরকার আমাদের কাছ থেকে শতভাগ পাস চাচ্ছে। কোনো বছর রেজাল্ট একটু খারাপ হলেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হুমকি-ধমকি শুনতে হয় আমাদের। অপমান হতে হয় উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসের মিটিংয়ে। তাই যেভাবেই হোক পাসের হার বাড়াতে টুকটাক কিছু পরীক্ষার হলে পাঠাতে হয়। পাসের হার বাড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে নৈতিকতা হারাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নে নীরব ছিলেন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে অনয়িমতান্ত্রিকভাবে সহযোগিতা করার কাজে ব্যাপৃত প্রধান শিক্ষকগণ।



এইচএসসি, এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় প্রশাসন যতটা সজাগ থাকেন ততটা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় সজাগ থাকেন না বলেই প্রশাসনের নীরবতায় সরব হয়ে উঠে অসাধু শিক্ষকদের চক্রটি। শিক্ষা কর্মকর্তাগণ প্রতি বছর পরীক্ষার শুরুতে নকল মুক্ত সুষ্ঠু পরীক্ষা নেয়ার প্রতিশ্রতি দিলেও পরীক্ষা শুরুর সাথে সাথেই তা ভুলে যান কর্মকর্তাগণ। জেলা সদরস্থ কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার কিছুটা পরিবেশ বজায় থাকলেও উপজেলা ইউনিয়ন ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে অবস্থা ভয়াবহ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সৃজনশীল প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা নকল করা থেকে বিরত থাকলেও কতিপয় শিক্ষকের নকল সাপ্লাইয়ের সংস্কৃতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।



পরীক্ষার হলের এ অপতৎপরতা বন্ধে করণীয় কী এমনটি জানতে চাইলে হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসমত আরা সাফি বন্যা অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমি বুঝি না যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে নকল দিচ্ছেন, সে শিক্ষক পরবর্তীতে ঐ শিক্ষার্থীদের চোখের দিকে কিভাবে তাকান? লজ্জায়, ঘৃণায় ঐ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখের দিকে তো তাকাবারই কথা নয়। অসাধু শিক্ষকদের সহায়তায় এভাবে জিপিএ-৫ পেলে শিক্ষার্থীরা হয়তো ভাববে, এটাকেই বোর্ড পরীক্ষা বলে। বোর্ড পরীক্ষায় একটি জিপিএ-৫ পাওয়া হয়তো খুব সহজ। এতে করে সে মাধ্যমিক পর্যায়ে গিয়ে পড়ালেখায় পূর্ণ মনোনিবেশ কখনোই করবে না। আমি বিশ্বাস করি, শতভাগ পাস করতেই হবে, ২০-২৫টি জিপিএ-৫ পেতেই হবে এ ধারণা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেরিয়ে আসা উচিত। সেখান থেকে বের হতে পারলেই পরীক্ষার হল হবে পূর্ণ শিক্ষার্থী বান্ধব। পরীক্ষার হলে এ ধরনের সহযোগিতা করা বড় ধরনের অন্যায় এবং এটি একটি নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ। এ অনুধাবনটি জেলার প্রতিজন শিক্ষক মহোদয়ের মধ্যে আসলে এ বছর থেকেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে বলে আমি মনে করি।



মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা বলেন, পরীক্ষার হলে যদি কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বলে দেন, তবে তা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা নয় বরং তা পরোক্ষ ভাবে ঐ শিক্ষার্থীর ক্ষতি করা। কারণ শিক্ষার্থী যখন দেখবে তাকে প্রতি পরীক্ষাতেই কেন্দ্রে গিয়ে বলে দেয়া হচ্ছে, সে বাসায় আর পড়তে চাইবে না। মাধ্যমিকে গিয়েও সে শিক্ষার উৎসাহ হারাবে। এভাবে আগামীর প্রজন্ম খ্যাত দেশের সম্পদগুলোকে গলা টিপে হত্যা করার কোনো মানেই হয় না। আমার প্রত্যাশা থাকবে এমন ন্যাক্কারজনক কাজে এ বছর অন্তত কোনো শিক্ষক জড়াবেন না।



জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। শুক্র ও শনিবার সারাদিন ১০-১৫ বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১০০২৯
পুরোন সংখ্যা