চাঁদপুর। সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮। ৭ কার্তিক ১৪২৫। ১১ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬। পূর্ববর্তীদের নিকট আমি কত নবী প্রেরণ করেছিলাম।

৭। এবং যখনই তাদের নিকট কোন নবী এসেছে তারা তাকে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেছে।

৮। তাদের মধ্যে যারা এদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল তাদেরকে আমি ধ্বংস করেছিলাম; আর এভাবে চলে আসছে পূর্ববর্তীদের অনুরূপ দৃষ্টান্ত।

৯। তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর : কে আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে : এগুলো তো সৃষ্টি করেছেন পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহ।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


প্রকৃতি হচ্ছে একটা বিরাট গ্রন্থ যার লেখক হচ্ছেন খোদা নিজে।                         


-হারভে।


যিনি পবিত্র, তিনি পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাই পছন্দ করেন।



 


ফটো গ্যালারি
যেভাবে চলে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম : অনুসন্ধান-৭
পরীক্ষার পর অফিস কক্ষে চলে আরেক গোপন পরীক্ষা!
রাসেল হাসান
২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিগত বছর জেলার নামকরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নকল সরবরাহকারী কেন্দ্র হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করে আসছিলো। কেন্দ্রটির পরীক্ষার্থীরা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা এত বেশি পেতো যে অন্যান্য কেন্দ্রের নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এ কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিতে শুরু করেছে। তাই সে কেন্দ্র নিয়ে গত বছর জেএসসি পরীক্ষা চলাকালীন অনুসন্ধান চালান এ প্রতিবেদক। কিন্তু কেন্দ্রের কাছাকাছি গিয়ে যে দৃশ্য দেখতে পান তা অবাক হওয়ার মত! হঠাৎ করে পাল্টে যায় সে কেন্দ্রের চেহারা। অতীতে সে কেন্দ্রের দায়িত্বরত যে শিক্ষকরা নৈর্ব্যক্তিক উত্তর বলে দেয়ার চেষ্টা করতো তাদের কাউকে অফিস কক্ষ থেকে বের হতেই দেখা যায়নি। অতীতে অভিযোগ ছিলো, কেন্দ্রের হল সুপাররা নিজেরাই হল পর্যবেক্ষকদের নৈর্ব্যক্তিক উত্তর দিয়ে আসতো। যেন তারা সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষার্থীদের উত্তরগুলো বলে দেন। কিন্তু গত বছর ছিলো তারও বিপরীত! বেশ কয়েকটি পরীক্ষা শেষে হলের একাধিক পর্যবেক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছিলো, একেবারেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা হচ্ছে এ কেন্দ্রে। বাহির থেকে কেউ কোনো প্রকার নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র সাপ্লাইও দিচ্ছেন না!



গণিত পরীক্ষার পরদিন একজন পর্যবেক্ষক জানান, তিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনকালীন দেখেছেন বহু পরীক্ষার্থীকে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ৩০টির মধ্যে ৮ থেকে ১০টির বেশি উত্তর দাগাচ্ছে না। ওই শিক্ষক পরীক্ষার্থী একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাকিগুলো দাগাওনি কেনো? উত্তরে সে বলেছিলো, 'আর পারি না। যা পেরেছি তা-ই দিয়েছি।' ঐ পরিদর্শক অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে বললেন, কেন্দ্রটিতে এতটাই সুষ্ঠু পরীক্ষা হচ্ছে যে পরীক্ষার্থীরা ৮-১০টি নৈর্ব্যক্তিক উত্তর দাগানোর পরও বাহির থেকে কেউ এসে একটি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তরও বলে দিচ্ছে না। ঐ কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরাও পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সব কিছু পর্যালোচনা করে বুঝাই যাচ্ছে, এ কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। হয়তো এ কেন্দ্রে পাসের হার কমবে কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার পরিচয় ঘটবে। এমনটাই হয়তো চাচ্ছেন কেন্দ্র সচিব সহ হল সুপারগণ।



ঘটনা এখানেই শেষ নয়। রাতারাতি কিভাবে বদলে যেতে পারে একটি পরীক্ষা কেন্দ্র তা নিয়ে চলতে থাকে অনুসন্ধান। মাস দেড়েক পর ফলাফল ঘোষণার দিন ঐ কেন্দ্রের ফলাফল দেখে চোখ কপালে ওঠার মত। কেন্দ্রের প্রতিটি স্কুলের পাসের হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি। জিপিএ-৫ও রয়েছে ২০-এর মত! যে কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা নৈর্ব্যক্তিক অসম্পূর্ণ রেখে খাতা জমা দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে যেতো, সে কেন্দ্রতেই কিনা এমন চমকপ্রদ ফলাফল! অনুসন্ধানের সমীকরণ কোনো ভাবেই মিলছিলো না। তাই যাওয়া হলো ঘটনার আরও গভীরে। ছদ্মবেশে একাধিক পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেলো বিস্ময়কর তথ্যগুলো।



জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে কোনো পৃথক সেট নেই। সকল প্রশ্ন একই সেটের। উত্তরে বৃত্ত ভরাট নেই। সঠিক উত্তরের পাশে টিক চিহ্ন দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের। তাই কেন্দ্রের পূর্বেই সকল পরীক্ষার্থীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো, যে যতটি নৈর্ব্যক্তিক নিশ্চিত ভাবে পারবে সে যেনো শুধুমাত্র সেগুলোরই উত্তর দেয়। বাকিগুলো শিক্ষকরা দেখবেন। যেই কথা, সেই কাজ। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ঘণ্টা পড়লে কেন্দ্র থেকে বিদায় নিতেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। হল পরিদর্শকরাও যখন এক এক করে বিদায় নিতেন তখনই শুরু হতো আরেক গোপন পরীক্ষা! অফিস কক্ষে গোপনীয় শাখা বা দাপ্তরিক কমিটির শিক্ষকদের বড় একটি দল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রের মোট খাতাকে ভাগ করে নিতেন। প্রতিটি খাতার প্রথম পাতা উল্টালেই নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন। তা যাচাই-বাছাই করে যে শিক্ষার্থী যে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়নি তা টিক চিহ্ন দিয়ে দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাই। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই কাজ শেষ। এবার ওএমআর এর রোল, রেজিস্ট্রেশন অংশ কেটে টপশীট তৈরির কাজের জন্য থাকতেন দু'একজন। বাকিরা ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরতেন। যার ফলে ফলাফল-পুরো কেন্দ্রর স্কুুলগুলো প্রায় শতভাগ পাস!



তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলে হয়তো মিষ্টি মুখ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকরা। মিষ্টির দোকানে ভিড় জমিয়েছিলো কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও। কিন্তু গোপন পরীক্ষার মাধ্যমে যে শিক্ষার্থীরা নিজের মেধায় নয়, শিক্ষকদের মেধায় পেয়েছিলো স্বপ্নের জিপিএ-৫ বা প্রত্যাশার পাসের দেখা, তাদের থেকে জাতি কী আশা করবে? এ তো শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রের চিত্র। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আরও কেন্দ্রগুলো যে এ পথে হাঁটছে না বা হাঁটেনি তারই বা নিশ্চয়তা কি? তাই অভিনব কায়দায় এ নকল বা এ অনিয়ম রুখতে কী করা উচিত তা নিয়ে কথা বলা হয়েছে বেশ কয়েকজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে। তাদের প্রত্যাশা, পরীক্ষা শেষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরীক্ষার কেন্দ্র ত্যাগ না করে যে পর্যন্ত খাতা পোস্ট অফিসের জন্য সিলগালা না করা হয় সে পর্যন্তই তিনি যেন তাঁর দায়িত্ব পালন করেন। অনিয়ম যে কিছু শিক্ষকের রক্তের সাথে মিশে আছে সুযোগ পেলে অভিনব কায়দায় তারা অনিয়ম করতে চাইবেই। তাই এ বছর জেএসসি-জেডসির প্রতিটি পরীক্ষা শেষে যেন অফিস কক্ষে আর কেউ কোনো গোপন পরীক্ষা না হতে পারে তার জন্যেও প্রশাসনকে সজাগ থাকার অনুরোধ তাদের।



এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ.এস.এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনার সাথে অবশ্যই পুরো শিক্ষক সমাজ জড়িত নয়, তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আগামীতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে সেজন্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নেতৃত্বে পরীক্ষা কমিটিতে যাঁরা রয়েছে তাঁরা যেন পরীক্ষার সকল কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি রাখেন। সেই সাথে সৎ ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের নিয়ে যেন কেন্দ্র কমিটিগুলো গঠন করা হয়। তবে আমি বিশ্বাস করি আমাদের সন্তানরা এখন অনেক বেশি মেধাবী। তারা নিজেরাই নিজেদের মেধার জোরে অনেক ভালো ফলাফল করতে পারে। কাজেই এ ধরনের কাজে যে বা যারা জড়িত তারা যেন এ কুপথ থেকে ফিরে আসেন।



জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-৮ দেখার জন্য চোখ রাখুন আগামীকালকের চাঁদপুর কণ্ঠে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৮২১২
পুরোন সংখ্যা