চাঁদপুর। শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮। ৪ কার্তিক ১৪২৫। ৮ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। ঐ আল্লাহর পথ, যাঁর আধিপত্বে রয়েছে আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে। সাবধান! সকল বিষয় আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


প্রচারণায় যে বিশ্বাসী নয় নিঃসন্দেহে সে কাজে বিশ্বাসী ।                      -পিথাগোর।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।

 


ফটো গ্যালারি
যেভাবে চলে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম : অনুসন্ধান-৫
নকল করতে দেয়াটা অপরাধ নয়, নকলে বাধা দেয়াটাই অপরাধ!
রাসেল হাসান
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার যে কেন্দ্রে অনিয়মই নিয়ম, সে কেন্দ্রে চোখ বুঁজে সব অনিয়ম সহ্য করাটা যেনো ন্যায়ে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পরিচিত বা অপরিচিত কোনো একজন শিক্ষক এসে উত্তরপত্র দিয়ে যাবে এমনটাই যেনো স্বাভাবিকে রূপ নিয়েছে অধিকাংশ কেন্দ্রে। হল পরিদর্শক শিক্ষক কেউ একজন যদি একটু সাহস করে বলে ফেলেন, এ কাজটি করা ঠিক নয়। আমার হলে আমি এটি করতে দিবো না। তাহলেই সর্বনাশ! পরদিন থেকে ঐ শিক্ষকের গার্ড দেয়ার কাজ বাতিল হয়ে যায়। আর যে শিক্ষক জি্ব হুজুর, জি্ব হুজুরের মতো সকল অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে নকল সাপ্লাইয়ে সহায়তা করার জন্যে উল্টো বলতে পারেন, আপনি যা করার করে যান, আমি দরজায় দাঁড়িয়ে দেখছি কেউ আসছে কিনা! তিনিই হয়ে যান ওই কেন্দ্রের সবচেয়ে নিষ্ঠাবান হল পরিদর্শক। প্রায় প্রতিদিনই সচিব বা হল সুপারের পছন্দের হলে ফেলা হয় ওই শিক্ষককে। সারকথা যেনো এই, অধিকাংশ হলে নকল করতে দেয়াটা কোনো অপরাধ নয় বরং নকল করতে বাধা দেয়াটাই মস্ত বড় অপরাধ।



কোনো শিক্ষক কড়া গার্ড দিলে বা পরীক্ষার হলে অবৈধ সুযোগের কোনো সুবিধা না দিলেই শুধু পরদিন তার গার্ডই বন্ধ হয় না, সাথে সাথে তাকে শুনতে হয় নানা প্রকার হুমকি-ধমকি। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভয় দেখিয়ে ঐ শিক্ষককে দেখে নেয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বহু কেন্দ্রে। পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে খাতা কপি করার সুযোগ না দিলেই সেই শিক্ষক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরতে হয় পুলিশ পাহারায়। এমন পরিস্থিতিতে এ শিক্ষকরা কোথায় যাবেন? কাকে নালিশ করবেন? কেন্দ্র সচিবকে অভিযোগ করলে তিনি বড়জোর দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। প্রশাসনিক দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে জানালে তারাও যেনো অসহায় হয়ে পড়েন এমন অভিযোগ শুনে। এক কথায় উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বিবেকবান প্রত্যেক শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের হাত-পা বাঁধা। আর যে কয় জনের হাত-পা ছাড়া তারাই করে যাচ্ছেন সকল অপকর্ম।



জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে সকল শিক্ষকই স্রোত যেদিকে সেদিকে গা ভাসাতে যেনো বদ্ধপরিকর। এতে প্রজন্ম ধ্বংস হলো কি টিকে রইলো তা দেখার প্রয়োজন অনুভব করেন না কেউই। যে সকল কেন্দ্রে শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসেন সে সকল কেন্দ্রের সচিবদের চাহিদা থাকে মাদ্রাসার বয়স্ক শিক্ষকগণের। মাদ্রাসার শিক্ষক হলেই খুব সহজে যে প্রভাব বিস্তার করা যায় তা জানা আছে কেন্দ্র সচিবদের। প্রথম দু-তিন পরীক্ষা পর্যন্ত নজরদারি করা হয় কোন্ কোন্ শিক্ষক পরীক্ষার হলে অনিয়মে সহায়তা করেন। তাদের একটি তালিকা করে পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকেই বেশি বেশি পরীক্ষার হলে পাঠানো হয়। আর এ তালিকায় যারা ঠাঁই পাননি তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়, এ কেন্দ্রে যথেষ্ট শিক্ষক রয়েছে, আপনাদের না আসলেও চলবে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার কোনো কোনো কেন্দ্রে অতীতে শিক্ষক স্বল্পতা দেখিয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েও পরীক্ষার গার্ড দেয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। আবার কাছাকাছি বিকল্প কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও জেলার মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ উপজেলাভিত্তিক বহু শীর্ষস্থানীয় স্কুল রয়েছে যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের কেন্দ্রে নিজেরাই পরীক্ষা দিয়ে থাকে। এতে ঐ পরীক্ষার্থীরদের পরীক্ষা পরিচালনার জন্যে বাহির থেকে পরিদর্শক আসলেও কেন্দ্র সচিব ও ৩য়, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীগণ ঠিকই থেকে যায় নিজ স্কুলের। এতে করে কিছুটা হলেও বাড়তি সুবিধা ভোগ করে নিজ স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়া শিক্ষার্থীরা।



শিক্ষক নেতাগণ মনে করছেন, পুরো জেলায় এক নিয়মে পরীক্ষা পরিচালনা করা উচিত। কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীরা আসে প্রায় দুই মাইল দূর থেকে আবার কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজের স্কুলে বসেই পরীক্ষা দিবে এমন দ্বৈতনীতি টিকে থাকলে বৈষম্য বাড়বেই। আর বৈষম্যের ফলে যে ক্ষোভের কালো মেঘ পুঞ্জীভূত হচ্ছে তা নিরসনে জেলা প্রশসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রধান শিক্ষকগণ।



এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শওকত ওসমান বলেন, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে কোনো শিক্ষক তা' পাননি এমন দৃষ্টান্ত চাঁদপুরে নেই। আমরা বিশ্বাস করি জেলার সকল শিক্ষক খারাপ হয়ে যাননি আবার সকল শিক্ষক ভালোও নন। যে শিক্ষকগণ এখনও ভালো আছেন, তাদের নৈতিকতার জায়গায় অটল আছেন, তাঁরা পরীক্ষার হলে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করার সময় কোনো নকল সাপ্লাইকারী নকল সরবরাহ করছেন কিনা তা জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনকে জানালে অবশ্যই ঐ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়ার জন্যে সশরীরে আসারও প্রয়োজন নেই। কোনো শিক্ষক চাইলে পরিচয় গোপন করেও আমাদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানাতে পারেন। আমরা অবশ্যই তা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সকলের সহযোগিতায় আমরা চাঁদপুরে পরীক্ষার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।



জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-৬ দেখার জন্য চোখ রাখুন রোববারের চাঁদপুর কণ্ঠে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৯৭৬০
পুরোন সংখ্যা