চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮। ১ কার্তিক ১৪২৫। ৫ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৬। আল্লাহ ব্যতীত তাদেরকে সাহায্য করার জন্যে তাদের কোন অভিভাবক থাকবে না এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার (আত্মরক্ষার) কোন পথ নেই।


৪৭। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দাও সেই দিবস আসার পূর্বে যা আল্লাহর বিধানে অপ্রতিরুদ্ধ, যেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তোমাদের জন্য তা নিরোধ করবার কেউ থাকবে না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


সবার সঙ্গে যে তাল মিলিয়ে কথা বলে, সে ব্যক্তিত্বহীন। -মার্ক টোয়াইন।


 


 


 


প্রভু, তুমি যেমন আমার আকৃতি পরম সুন্দর করে গঠন করেছো, আমার স্বভাবও তদ্রূপ সুন্দর করো।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
যেভাবে চলে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম : অনুসন্ধান-২
নকল সাপ্লাইতে পারদর্শী কিছু শিক্ষককে নিয়ে গঠিত হয় কেন্দ্রের দাপ্তরিক কমিটি!
রাসেল হাসান
১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের শিক্ষাঙ্গন এখন নকলমুক্ত এমনটিই মনে হয় সাধারণ্যে। সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীরা প্রায় ভুলেই গেছে পরীক্ষার হলে বাইরে থেকে অবৈধ কোনো কাগজ নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি। শিক্ষাব্যবস্থার জন্যে বিষয়টি যেমনটি স্বস্তির, তার চেয়েও বেশি অস্বস্তিকর হলো কিছু শিক্ষকের নকল সাপ্লাইয়ের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া। এ যেনো শিক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমত গলা টিপে হত্যা করা। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষকের নকল সাপ্লাইয়ের এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয় জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায়। সাবজেকটিভ ও অবজেকটিভ দুটোতে একসাথে ৩৩ পেলে পাস। তাই অসাধু উক্ত কিছু শিক্ষকের মাথায় থাকে দুর্বল শিক্ষার্থীদের ৩০টি অবজেকটিভের ৩০টি নিশ্চিত করে দিতে পারলে সাবজেকটিভে ৭০-এ সে ৩ নম্বর পাবেই। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, জেলার অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন অসাধু উদ্দেশ্য লালন করা শিক্ষকদের নিয়েই গঠিত হয় অধিকাংশ পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি। জেলা সদরের কেন্দ্রগুলোতে এ প্রবণতা কম থাকলেও উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে অধিক সদস্য বিশিষ্ট দাপ্তরিক কমিটি চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে যে সকল কেন্দ্রে শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলে পরীক্ষা দেয় কিন্তু শিক্ষক পরিবর্তন হয় সে সকল কেন্দ্রে এ অনিয়ম লক্ষ্যণীয়।



প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রস্থ স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সচিব ও হল সুপারের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্র কমিটি গঠিত হলেও কেন্দ্রের দাপ্তরিক কাজ করার জন্যে প্রতিটি স্কুলের এক বা একাধিক শিক্ষককে নিয়ে একটি কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত দাপ্তরিক কমিটি বা গোপনীয় শাখায় নিয়োজিত দল গঠন করার কথা। কেন্দ্রের দাপ্তরিক কাজ করার জন্যে যে ক'জন প্রয়োজন তারচে' দ্বিগুণ বা তিনগুণ সংখ্যক শিক্ষক কোনো কোনো কেন্দ্র সচিব নিয়োগ দিয়ে থাকেন। গোপনীয় শাখায় কাজ করা এই শিক্ষকদের মধ্যে গণিত, ইংরেজিতে পারদর্শী শিক্ষকদের সংখ্যাই থাকে বেশি। কোনো কোনো কেন্দ্র সচিব এ কাজে নিয়োগ দিয়ে থাকেন শ্রেণি শিক্ষককে। উদ্দেশ্য একটাই, যিনি শ্রেণি শিক্ষক তিনি জানেন ক্লাসের কোন্ শিক্ষার্থী ফেলের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেহেতু কেন্দ্রের দাপ্তরিক কাজের দায়িত্বে রয়েছে তাই এমন শিক্ষকগণকে কেন্দ্র সচিবের স্বাক্ষরিত আইডি কার্ড প্রদান করা হয়। কোনো কোনো কেন্দ্রের জন্যে এ আইডি কার্ডকে মূলত নকল সাপ্লাইয়ের বৈধ প্রবেশপত্র হিসেবেও ধরে নেন অনেকে।



পরীক্ষা চলাকালে বাইরে থেকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট আসলে বলা হয়, যাদের গলায় কার্ড নেই তারা অফিস থেকে চলে যান। অফিসে থাকেন কার্ডধারীরা। ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখানোর জন্যে অফিসে বসে নানান কাগজপত্র ঘাঁটতে বা লিখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কার্ডধারী দল। ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেই পাল্টে যায় কারো কারো মুখোশ। অতিরিক্ত শীট লাগবে কিনা এমন অজুহাতে ঘুরে বেড়ান তাদের শিক্ষার্থী যে যে কক্ষে আছে ঐ কক্ষগুলোতে। হল পরিদর্শকের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন সেই শিক্ষককে লম্বা সালাম দিয়ে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন। নানান কায়দায় কথা বলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। পরিদর্শকের ইতিবাচক সাড়া পেলেই শুরু হয় আসল কাজ। প্রথম বেঞ্চে পূর্বে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় একটি ছোট্ট কাগজ। যে কাগজে লিখা থাকে ৩০টি নৈর্ব্যক্তিকের উত্তর। প্রথম বেঞ্চের পরীক্ষার্থীর খাতা থেকে ক্রমান্বয়ে পেছনের বেঞ্চের শেষ পরীক্ষার্থী পর্যন্ত চলতে থাকে খাতা কপি করার কাজ। কার্ডধারী ঐ শিক্ষক কিংবা হল পরিদর্শক দু'জনের যে কোনো একজন বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাহারায় থাকেন বাহির থেকে ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা প্রশাসনিক কোনো লোক আসছেন কিনা। কারও আসার ইঙ্গিত পেলেই ছোট্ট কাগজটি ফেরৎ নিয়ে নেন ঐ কার্ডধারী শিক্ষক। আর সাথে সাথেই তিনি শুরু করে দেন অতিরিক্ত শীট গণনার অভিনয়। বাহির থেকে কেউ কক্ষের সামনে গেলে বোঝার উপায় নেই কী ঘটছে কক্ষটিতে। এভাবেই অধিকাংশ হলে চলে নীরবে নকল সাপ্লাই।



এ দৃশ্যের সাথে পরিচিত নন জেলার এমন একজন শিক্ষককেও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। সকলেই সব কিছু জানেন, সব কিছু দেখেন। কিন্তু মুখ খোলেন না। কারণ অতীতে সততা দেখাতে গিয়ে যে ক'জন মুখ খুলেছেন, তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। শাস্তি(!) স্বরূপ ঐ শিক্ষককে আর কখনও পরিদর্শক হিসেবে ডাকাই হয়নি। পূর্ব নির্ধারিত ডিউটি থাকলেও কেন্দ্র সচিব তা বাতিল করেছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক।



বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী গণিত পরীক্ষার দিন গণিত শিক্ষক, ইংরেজি পরীক্ষার দিন ইংরেজি শিক্ষক পরিদর্শক থাকতে না পারলেও গণিত পরীক্ষার দিন যিনি ক্লাসে গণিত নিয়েছেন তিনি কিভাবে গোপনীয় শাখার নিয়োজিত কার্ড বহন করে পরীক্ষার হলে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ান তা জানা নেই অনেকেরই। ইংরেজি, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ের দিনও একই ঘটনা ঘটে থাকে। মূলত নকল সাপ্লাইয়ের এ কাজগুলো করার জন্যেই সামান্য অজুহাতে গোপনীয় শাখায় নিয়োগ দেয়া হয় অভিজ্ঞ শিক্ষকদের।



নকলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন এমন ক'টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ মনে করছেন, হাতেগোণা ক'জন শিক্ষক কর্তৃক নকল সাপ্লাইয়ের এ অনিয়ম বন্ধ করতে জেএসসিতে শ্রেণি শিক্ষক এবং গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ক্লাস নেন এমন শিক্ষকদের গোপনীয় শাখায় বা দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে না রাখার জন্য নিয়ম করা জরুরি। সেই সাথে দাপ্তরিক কাজ বা গোপনীয় শাখায় নিয়োজিত কোনো শিক্ষক যেন পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারেন তার জন্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলে এ প্রবণতা কমে আসতে পারে।



এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ চাঁদপুর শহরস্থ পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় এ দেশের অভিভাবকরা চাইতো তার সন্তান নকল করে পাস করুক। পরবর্তীতে একটা সময় শিক্ষার্থীরা নিজেরা চাইতো তারা নকল করে পাস করুক। একটা সময় রাজনীতিবিদরাও চাইতেন তাদের সন্তান বা দলীয় কারও সন্তান নকল করে পাস করুক আর এখন শিক্ষকদের কেউ কেউ নিজেরাই চায় তাদের শিক্ষার্থীরা নকল করুক। যার কারণেই নকলের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু শিক্ষকের সাধুবেশে নকল সাপ্লাইয়ের এ সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। এ অনিয়ম বন্ধ করতে হলে বিগত দিনে যাদের বিরুদ্ধে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বা বিভিন্ন অজুহাতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার প্রবণতা লক্ষ্যণীয় হয়েছে সেই সকল অসাধু শিক্ষকের বাদ দিয়ে প্রতিটি স্কুলের নিষ্ঠাবান শিক্ষকদের নিয়ে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। একদল শিক্ষক যদি চান তারা একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন তবে সেখানে পুলিশসহ কোনো কিছুরই প্রয়োজন হয় না। শুধু প্রয়োজন শিক্ষকদের সদিচ্ছা।



জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফি উদ্দিন জানান, পরীক্ষার হলে কেন্দ্র সচিবের সহযোগী বা দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত কোনো শিক্ষক প্রবেশের কোনো অনুমতি নেই। আমরা বিগত দিনে এ বিষয়টি এভাবে ভেবে দেখিনি। তবে এ বছর যেন কেন্দ্র সচিবের কোনো সহযোগী কোনোভাবেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পারেন তার জন্যে আমরা পরীক্ষা কমিটির সভায় সেটি রেজুলেশনভুক্ত করার চেষ্টা করবো। সেই সাথে অষ্টম শ্রেণির গণিত বা ইংরেজির ক্লাস নেন এমন শিক্ষকদের যেন দাপ্তরিক কমিটিতে বা সচিবের সহযোগী হিসেবে না রাখা হয় তার জন্যও ডিসি স্যারের কাছে আমার প্রস্তাবনা থাকবে। চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্যে।



জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-৩ দেখার জন্যে চোখ রাখুন আগামীকালকের চাঁদপুর কণ্ঠে।



 



 



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৯৬৮৩
পুরোন সংখ্যা