চাঁদপুর। শুক্রবার ১২ অক্টোবর ২০১৮। ২৭ আশ্বিন ১৪২৫। ১ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৪। অথবা তিনি তাদের কৃতকর্মের ফলে সেগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং অনেককে তিনি ক্ষমাও করেন।


৩৫। আর আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে যারা তর্কে লিপ্ত হয়, তারা যেন অবহিত থাকে যে, তাদের (আযাব হতে) কোনো মুক্তি নেই।


৩৬। বস্তুতঃ তোমরা যা প্রদত্ত হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ; কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা উত্তম ও স্থায়ী, (ওগুলি) তাদের জন্যে যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকের উপর নির্ভর করে।


৩৭। (ওগুলি তাদের জন্য) যারা কবিরা গোনাহসমূহ ও অশ্লীল কর্ম হতে বেঁচে থাকে এবং যখন তারা ক্রোধান্বিত হয় ক্ষমা করে দেয়।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


ধনে এবং জ্ঞানে বড় হলেই মানুষ মনের দিক থেকে বড় হয় না। -স্মিথ।


 


 


 


যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হলো রসনাকে বিরত রাখা।


 


ফটো গ্যালারি
বাহরাইনে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম লাশ দেশে আনতে সরকারের কাছে দাবি
কামরুজ্জামান টুটুল
১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গত ৯ অক্টোরব বাহরাইনের মানামা সিটিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ শেষে ধসে পড়া ভবনের দুর্ঘটনায় মারা যান চাঁদপুরের দু'জন। এর মধ্যে জাকির হাজীগঞ্জের কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বকাউল বাড়ির আব্দুল রশিদ বকাউলের ছেলে, আর হান্নান কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির ফজলুল হক প্রধানীয়ার ছেলে। দুর্ঘটনার পর পর নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এদিকে জাকির কিংবা হান্নানের লাশ ঠিক কবে, কিভাবে দেশে আনা হবে এ বিষয়ে উভয় পরিবারের কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে সরকার উদ্যোগ নিয়ে যদি নিহতের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে পরিবারগুলো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে বলে জানান নিহতের স্বজনরা।



জানা যায়, বাহরাইনের মানামা সিটির কুমিল্লা হোটেলের বিপরীতে একটি ভবনে বাস করতো কয়েকশ' বাংলাদেশী। এই ভবনের ২য় তলায় থাকতো হাজীগঞ্জের জাকির আর কচুয়ার হান্নান। গত ৯ অক্টোবর অন্য সকল নিহত বাংলাদেশীর মতো এ দুজনকে ভাগ্য নিয়ে গেছে মৃত্যুর কাছে।



জানা যায়, জাকির ও তার অপর ভাই জুলহাস থাকতো একই রুমে। ওই দিন সন্ধ্যা রাতে জাকিরকে রুমে রেখে বড় ভাই জুলহাস যান বাজার করতে আর হান্নানের রুমমেটরা পাশের হোটেলে চা খেতে যাওয়ার জন্যে প্রস্তাব করলে হান্নানের শরীর খারাপ বলে তিনি রুমেই থেকে যান। এর কিছু পরেই ঘটে ঐ দুর্ঘটনা। যে দুর্ঘটনা জাকিরের নিঃসন্তান স্ত্রীকে করেছে বিধবা আর হান্নানের ৩ সন্তানকে করেছে পিতৃহারা।



সরজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হাজীগঞ্জের জাকিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে পুরো পরিবারে। নিঃসস্তান স্ত্রী লিপিকে গতকাল পর্যন্ত জানানো হয়নি যে, ইতিমধ্যে তার স্বামী সকলের মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। লিপিকে সবাই সান্ত্বনা দিয়ে রেখেছে, জাকির বাহরাইনে মারাত্মক আহত হয়েছে, সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। অপরদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কচুয়ার হান্নানের ৩ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে হাজীগঞ্জের একটি কলেজে পড়ে এবং অন্য সন্তানরা ছোট। হান্নান ছিলো এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। হান্নানকে হারিয়ে পুরো পরিবারটি পথে বসার উপক্রম হয়েছে।



হাজীগঞ্জের জাকিরের বাবা বয়োবৃদ্ধ আব্দুল বাসার জানান, ৬ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট জাকির। প্রায় ১০ বছর হতে চললো ছেলে বিদেশ করছে। প্রায় ৮ বছর পূর্বে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ধেররা গ্রামের আঃ মালেকের মেয়ে লিপির সাথে তাকে বিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে বছর তিনেক পূর্বে সে দেশে এসেছে। আসছে নভেম্বরে সে দেশে আশার কথা ছিলো। ছেলের মৃত্যুর খবর বউকে জানানো হয়নি। আমার আরেক ছেলে জুলহাস জাকিরের সাথে একই রুমে ছিলো। জুলহাস বাজার করতে যাওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটে। জুলহাস ইতিমধ্যে জাকিরের কাজগপত্র দূতাবাসে জমা দিয়েছে। কিন্তু লাশ আমরা কবে পাবো বা আদৌ পাবো কি না তার কিছুই আমরা বলতে পারছি না।



জাকিরের শ্বশুর আঃ মালেক জানান, আমাদের ভাগ্যে যা হবার তা তো হয়েই গেছে। এখন সরকারের কাছে একটাই দাবি, সরকার যদি জাকিরের লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে আমরা সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকতাম।



কালোচোঁ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষে লাশ দেশে আনার কোনো সামর্থ্যই নেই। সরকার লাশ আনার ব্যবস্থা করলে পরিবারটি অন্তত সন্তানের লাশ দেখতে পারতো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৩০৯৮
পুরোন সংখ্যা