চাঁদপুর। বুধবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৮ ভাদ্র ১৪২৫। ১ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২১। জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবে : তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তাা বলবে : আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

২২। তোমরা কিছু গোপন করতে না এই বিশ^াসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না- উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


মহৎ আত্মাগুলি নীরবতায় ভোগে বেশি।                    

-বেন জনসন।


রাসূলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মনি।



 


ফটো গ্যালারি
ভোটের মাঠের আলোচনায় 'চাঁদপুর সেতু
ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি হলেও টোল বন্ধের উদ্যোগ বারংবার হোঁচট খাচ্ছে
প্রবীর চক্রবর্তী
১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ দুই উপজেলাবাসীর কাছেই চাঁদপুর সেতু গুরুত্ববহ। দুই আসনের এমপিরা সংসদে, জেলা পর্যায়ের সভাসহ নানা ভাবে কথা বললেও এই সেতুর টোল আদায় বন্ধ না হওয়ায় এর রহস্য জানতে আগ্রহী সাধারণ জনগণ। গত ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে আসলে তাঁর কাছে যে ক'টি দাবি জানানো হয়, তার মধ্যে চাঁদপুর সেতুর টোল বন্ধের বিষয়টিও ছিলো। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবিতে পরিণত হয়েছে টোল আদায় বন্ধের বিষয়টি। সুধীজনের মতে, ভোটের মাঠের আলোচনায় চাঁদপুর সেতু এখন উল্লেখযোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।



১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এরই মধ্যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। ফলে বিএনপির আমলে নেয়া এই প্রকল্পটি ধীরে চলো নীতিতে গিয়ে পড়ে। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর সেতুটির বাকি কাজ সম্পন্ন হয়।



২০০৫ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে প্রতি বছরই সওজ কর্তৃপক্ষ সেতুর টোল আদায়ের জন্য ইজারা দিয়ে আসছে। সেই থেকে প্রতি বছর ইজারা চালু রয়েছে।



এদিকে চাঁদপুর সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে সেতুকে ঘিরে দুই পাড়ে জনবসতি ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নির্মাণ চলছে। সরকারি অধিদপ্তরগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা নির্বাচন অফিস সেতুর অনতি দূরে চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যেই সেতুর উত্তর পাড়ে একপাশে গুচ্ছ গ্রাম ও পৌরসভার পানি শোধনাগার গড়ে উঠেছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের নিজস্ব আবাসস্থলও গড়ে উঠছে। অপর পাশে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। নদীর দক্ষিণ পাড়ে একপাশে মেরিন একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অপর পাশে সদ্য ঘোষিত চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ নির্মাণের জন্যে স্থান চূড়ান্ত হওয়ার পর অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ।



এদিকে চাঁদপুর সেতুর দক্ষিণ পাশে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ঘোষণায় চাঁদপুর সেতুর উভয় পাড়ের জমিগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক কথায় বলতে গেলে চাঁদপুর সেতুকে ঘিরে বড় ধরনের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু যেই সেতুকে ঘিরে এতকিছু সেই সেতুর টোল আদায় বন্ধ হয়নি গত ১৪ বছরে। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ১৮ কোটি টাকা হলেও, এরই মধ্যে আয় হয়েছে ২৯ কোটি টাকা।



বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই ডাকাতিয়া নদীর ওপর অবস্থিত চাঁদপুরের নতুনবাজার-পুরাণবাজার ও হাজীগঞ্জ সেতুর টোল আদায় বন্ধ করলেও বন্ধ হয়নি চাঁদপুর সেতুর টোল আদায় ।



সেতুটির টোল বন্ধ না করায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। টোল বন্ধের দাবিতে সেতুর উপরে ইতিপূর্বে দয়ায় দফায় মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশ, বিক্ষোভ মিছিল, অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। সংসদে এমপি মহোদয়রা বারংবার বললেও আমলে নিচ্ছে না অর্থ মন্ত্রণালয়।



এবার এক নজরে দেখা যাক চাঁদপুর সেতুর আদ্যোপান্ত।



নির্মাণ ব্যয় ও আয় :



কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-বেগমগঞ্জ সড়কে ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে ১৮ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৪৮ মিটার দৈঘ্র্যের চাঁদপুর সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ২০০৫ সালের মার্চ থেকে সেতুর উপর দিয়ে পারাপারকারী যানবাহন হতে ইজারার মাধ্যমে টোল আদায় শুরু হয়। ১ মার্চ ২০০৫ থেকে ৩১ মে ২০১৮ পর্যন্ত ২৯ কোটি ৩৬ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা টোল আদায় হয়েছে এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।



বর্তমান টোল আদায়ের অবস্থা :



মেসার্স কর্ণফুলী এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ১২ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা চুক্তিতে সেতুর টোল আদায়ের ইজারা নেয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি তিন মাস অন্তর এক কিস্তি করে সর্বমোট ১২ কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সেতু থেকে টোল আদায় শুরু করেছে।



যে হারে আদায় করা হচ্ছে টোল : ট্রেলর ২৫০, হেভী ট্রাক ১৭০, মিডিয়াম ট্রাক ১০০, বড় বাস ৯০, মিনি ট্রাক ৭৫, কৃষিকাজে ব্যবহৃত যান ৬০, মিনিবাস ৫০, মাইক্রোবাস ৪০, ফোর হুইলবাহিত যানবাহন ৪০, সিডান কার ২৫, ৩-৪ চাকার মোটরবাইক ১০ টাকা।



চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত :



২০১৭ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ফরিদগঞ্জ নির্বাচনী আসনের সংসদ সদস্য ড. মোঃ শামছুল হক ভঁূইয়া চাঁদপুর সেতুর টোল প্রত্যাহারের দাবি উত্থাপন করেন। টোল মুক্ত করার বিষয়ে উক্ত সভায় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।



সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সেতুটির টোল মওকুফের আবেদন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সময়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আলোচনা ও নথি উত্থাপিত হলে অর্থ বিভাগ সেতুর টোল প্রত্যাহারের প্রস্তাবটিতে অসম্মতি জানায়।



এদিকে টোল প্রত্যাহার নিয়ে সর্বশেষ গত ১৯ জুন চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আবারো আলোচনা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৫ জুলাই ২০১৮ চাঁদপুর সড়ক ও প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত চাঁদপুর সেতু থেকে টোল প্রত্যাহারের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কুমিল্লা বরাবরে একটি আবেদন করেন।



চাঁদপুর সেতুর টোল আদায় বন্ধে আইনি জটিলতা :



সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়ক, সেতু ও ফেরির পুনঃনির্ধারিত টোল নীতিমালা ২০১৪ অনুযায়ী ২০০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু সমূহ টোলের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। চাঁদপুর সেতুর দৈর্ঘ্য ২৪৮ মিটার হওয়ার নীতিমালা মোতাবেক সেতুটি টোল আদায়ের ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। যার কারণে একাধিকবার আবেদন করেও সেতুটির টোল বন্ধ হচ্ছে না। তবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত, সরকার চাইলে জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে যে কোনো সময় এই সেতুর টোল মওকুফ করে দিতে পারে। প্রয়োজনে ভোটের রাজনীতির কথা চিন্তা করে হলেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ ভাবে এই সেতু নিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দাবির কথা জানানো উচিত।



চাঁদপুর নতুন বাজার-পুরাণ বাজার ও হাজীগঞ্জ সেতুর টোল বন্ধ হলো যেভাবে :



২০০৩-০৪ অর্থ বছরে ২২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৬০.৫৯ মিঃ দৈর্ঘ্যের 'চাঁদপুর নতুন বাজার-পুরান বাজার সেতু' নির্মাণ করা হয়। ১৯ অক্টোবর ২০০৬ থেকে ১০ মার্চ ২০১১ পর্যন্ত ৭৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা টোল আদায় করা হয় এই সেতু থেকে।



চাঁদপুরের জনগণের তীব্র দাবির প্রেক্ষিতে চাঁদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজ পৃথকভাবে সেতুটি থেকে টোল আদায় বন্ধের জন্যে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বরাবরে আবেদন করে। পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতভাবে সেতুটিকে টোল মুক্ত করার জন্যে সিদ্ধান্ত হয়।



এর প্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট ২০১০ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ১১ মার্চ ২০১১ থেকে চাঁদপুর নতুন বাজার-পুরাণ বাজার সংযোগ সেতুর টোল মওকুফ করা হয়। এই টোল আদায় বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি'র সার্বিক সহযোগিতা ছিলো।



একই ভাবে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর উপর নির্মিত ১১৬.৬১ মিঃ দৈঘ্র্যের হাজীগঞ্জ সেতুর টোলও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এই সেতুর টোল আদায় বন্ধে সার্বিক সহযোগিতা করেন স্থানীয় এমপি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।



সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া :



শুধুমাত্র চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলাবাসীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুরসহ আরো বেশ কয়েকটি জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে চাঁদপুর সেতুর গুরুত্ব রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই সংক্ষিপ্ততম পথ হিসেবে মতলব হয়ে এই সেতুর উপর দিয়ে যাওয়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে। ফলে সেতুটির টোল আদায় নিয়ে এসব মানুষের মাঝে রয়েছে নানা অভিযোগ-অনুযোগ।



চাঁদপুর সেতুর টোল আদায় বন্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছেন বাস মালিক সমিতির নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজা। তিনি বলেন, টোল আদায় বন্ধের জন্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় এমপি ড. মোঃ শামছুল হক ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আবু ওসমান চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। এছাড়া হাজার-হাজার মানুষ টোল বন্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর দিয়েছে। এমনকি সেতুর উপর মানববন্ধন করা হয়েছিলো। কিন্তু টোল বন্ধ হয়নি। জনগণের স্বার্থে টোল প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।



চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার লোকজন যারা প্রতিনিয়ত এই সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করছেন, তাদের দাবি জনকল্যাণে এবার টোল আদায় বন্ধ করা উচিত। শফিক, বিটন, শংকর, আলমগীর, কামালসহ কয়েকজন বলেছেন, মানুষের মঙ্গলের জন্য সরকার এ সেতু নির্মাণ করলেও আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। তারা বলেন, একটা অটোতে যাত্রী উঠুক আর না উঠুক, প্রতিবার ১০ টাকা করে দিয়ে যেতে হয়। টোলঘর অতিক্রম করলেই টাকা না দিয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না।



তারা আরো জানান, চাঁদপুরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারাসজির কারণেই এই সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধ হচ্ছে না।



এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যা বলেছেন :



সেতুটির টোল বন্ধের জন্য সবেচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন ফরিদগঞ্জ থেকে নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া এমপি। তিনি সংসদে, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এবং প্রকাশ্যে জনসভায় সেতুটির টোল বন্ধের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, প্রয়োজনে তাঁর নেতৃত্বে জনগণ সেতুর টোল আদায় বন্ধে মাঠে নামবে। একই ভাবে এই আসনের সাবেক এমপি লায়ন হারুন-অর রশিদ জাতীয় সংসদে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি সেতুর টোল বন্ধের পক্ষে কথা বলেন।



এ সম্পর্কে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন, সেতুটি দিয়েই ফরিদগঞ্জ, রায়পুর, লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চলাচল করে। টোল আদায় বন্ধে কার সমস্যা তা বোধগম্য নয়।



সওজ কর্তৃপক্ষ :



চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত জানান, সরকার চাইলে গণদাবির প্রেক্ষিতে যে কোনো মুহূর্তে এই সেতুর টোল প্রত্যাহার করতে পারে। এরই মধ্যে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে টোল মওকুফের আবেদন করা হয়েছে।



সুশীল সমাজ ও জনসাধারণের দাবি, চাঁদপুর সেতু নির্মাণের পর হতে বিগত ১৩ বছরে সেতুর নির্মাণ ব্যয় সরকারের নিকট প্রদানসহ আয় হিসেবে অতিরিক্ত আরো ১১ কোটি টাকা রাজস্ব জমা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র এলাকাবাসীর কল্যাণার্থে চাঁদপুর সেতুটিকে টোলমুক্ত ঘোষণা করা হলে চাঁদপুরবাসী কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রে এর প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করবে এবং সরকারের কর্মকা-ের উপর জনগণের আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব প্রতিষ্ঠিত হবে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৮৮৯১
পুরোন সংখ্যা