চাঁদপুর। সোমবার ২৮ মে ২০১৮। ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ১১ রমজান ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৬। তারা বলে, হে আমাদের পরওয়ারদেগার, আমাদের প্রাপ্য অংশ হিসাব দিবসের আগেই দিয়ে দাও।

১৭। তারা যা বলে তাতে আপনি সবর করুন এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদকে স্মরণ করুন। সে ছিল আমার প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।

১৮। আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত;   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ঈশ্বরের পরবর্তী স্থানই হল পিতামাতার   

 -উইলিয়াম পেন।


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী 


ফটো গ্যালারি
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নকশাকে পাশ কাটিয়ে
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারসাজিতে ব্যক্তিস্বার্থে চলছে মধুরোড রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন ও সংস্কার কাজ
গোলাম মোস্তফা
২৮ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বর্তমান সরকারের দেশকে এগিয়ে নেয়ার বেশ ক'টি পদক্ষেপের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের আধুনিকায়ন ও সংস্কার হচ্ছে অন্যতম। রেললাইন থেকে শুরু করে সকল অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সে মোতাবেক চাঁদপুরে সে কাজ প্রায় ২-৩ বছর আগ থেকে শুরু করে এখন প্রায় অনেকটাই শেষের পথে। চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের চিতোষী, মেহের, হাজীগঞ্জ, বলাখাল ও শাহতলী রেল স্টেশনের অধিকাংশ কাজ শেষ করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার পথে রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মধুরোড রেল স্টেশনের কাজটি এখনও ৫০%ও শেষ হয়নি।



জানা যায়, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের লাইন ব্যতীত অবকাঠামো নির্মাণ কাজটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কাশেম কনস্ট্রাকশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান পায়। পাওয়ার পর থেকেই তারা রেল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সিডিউল ও নকশার বাইরে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কাজটি করে আসছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একটি অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মধুরোড রেলওয়ে স্টেশনের অবকাঠামোসহ সকল উন্নয়নে এ প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করে আসছে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের চাপের কারণে কাজটি মোটামুটি প্রায় ৫০% শেষ করে। কিন্তু স্টেশনের প্লাটফরমে যাতায়াতের রাস্তাসহ কয়েকটি নির্মাণ অনিয়মের মধ্য দিয়ে করছে। তারা রেল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নকশা ও সিডিউলকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের ইচ্ছে মত কাজটি করছে। কাজটিতে শুধু অনিয়মই নয়, যেনো সাগর চুরি করছে এ প্রতিষ্ঠান।



জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার সুমন উক্ত মধুরোড স্টেশনের অলি বেপারী (অলি কান্ডা) ও ইসমাইল হাজী নামে দুই ব্যক্তির স্বার্থরক্ষায় সরকারের অনুমোদিত নকশাকে পাশ কাটিয়ে এবং সরকারের দেয়া সিডিউলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্টেশনের প্লাটফরমে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করছেন। শুধু তাই নয়, নিয়ম অনুযায়ী প্লাটফরমটির দৈর্ঘ্য ১২০০ স্কয়ার ফুট ও প্রস্থ ১৮ স্কয়ার ফুট নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান না করে তারা প্লাটফরমটি সাড়ে ৭শ' ফুট লম্বা এবং প্রস্থ করেছে মাত্র ১২ ফুট। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার সুমন অনুমোদিত নকশায় গাইড ওয়াল করার মূল নকশাকে বাদ দিয়ে প্লাটফরম থেকে কয়েক ফুট দূরে গিয়ে গাইড ওয়াল করে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ করার কাজ করছেন। আর এ কাজটিতে ইঞ্জিনিয়ার সুমনকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় অলি কান্ডা ও ইসমাইল হাজী । গাইড ওয়ালটি ২.৫০ ফুট প্রশস্ত করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে মাত্র ২০ ইঞ্চি। আর এই গাইড ওয়ালটি স্টেশন ভবনের পাশ থেকে ৩৩ ফুট দূর পর্যন্ত করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে মাত্র ২২ ফুট।



ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এ স্টেশন সংস্কার ও আধুনিকায়নের শুরুতে উক্ত স্টেশনের সকল স্থাপনাসহ অনেক গাছপালা কেটে পরিষ্কার করে কাজ শুরু করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অলি বেপারী (অলি কান্ডার) ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ছোঁয়া না লাগিয়ে তাকে ব্যবসা করার জন্য নির্বিঘ্নে সুযোগ করে দিয়েছে। এক কথায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার সুমনের সাথে স্থানীয় অলি কান্ডা ও ইসমাইল হাজীর নেতৃত্বে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের কারসাজিতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারের অনুমোদিত নকশা ও সিডিউলকে পাশ কাটিয়ে কাজটি শুরু থেকেই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় উক্ত কাজটি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে বেশ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে যে কোনো মুহূর্তে স্থানীয় জনগণের সাথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। তাই স্থানীয় জনগণের দাবি, অবিলম্বে মধুরোড রেলওয়ে স্টেশনের বর্তমান চলমান কাজটি বন্ধ করে সরকারের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তা করা হোক।



এ বিষয়ে ডি.আর.এম. তথা বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ব্যবস্থাপকের সাথে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে (০১৭১১৫০৬১৩৮) কথা হলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে নকশা অনুযায়ী কাজ না করায় কাজটি বন্ধ রয়েছে। তবে আপনি দয়া করে রেলওয়ের পূর্ত বিভাগের বা এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট প্রধানের সাথে যোগাযোগ করলে আমার চাইতে তারা আরও ভালো বলতে পারবে। পরবর্তীতে উক্ত বিভাগের প্রধানের সাথে যোগাযোগের জন্যে মোবাইল ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পূর্ত বিভাগের বা রেলওয়ের এ ধরনের কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের চাঁদপুর-লাকসাম-কুমিল্লায় দায়িত্বরত একজন ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার জানা মতে মধুরোড রেল স্টেশনের কাজটি বন্ধ রয়েছে। কাজটি বর্তমানে চলছে এমন তথ্য আমার জানা নেই। আর অনুমোদিত নকশাকে বাদ দিয়ে ঠিকাদার স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করলে সেটি অবশ্যই অবৈধ। আপনি আগামীকাল অফিস সময়ে স্যারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। দয়া করে আগামী দিন ফোন দিন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৬৭২৩
পুরোন সংখ্যা