চাঁদপুর। সোমবার ২৮ মে ২০১৮। ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ১১ রমজান ১৪৩৯
ckdf
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় আজ ঈদ পালিত হচ্ছে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৬। তারা বলে, হে আমাদের পরওয়ারদেগার, আমাদের প্রাপ্য অংশ হিসাব দিবসের আগেই দিয়ে দাও।

১৭। তারা যা বলে তাতে আপনি সবর করুন এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদকে স্মরণ করুন। সে ছিল আমার প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।

১৮। আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত;   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ঈশ্বরের পরবর্তী স্থানই হল পিতামাতার   

 -উইলিয়াম পেন।


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী 


ফটো গ্যালারি
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন
বাবুরহাটে খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ একের পর এক বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত
বিষয়টি জেলা প্রশাসকের গোচরীভূত সওজ সার্ভেয়ারের কারসাজিতে খাল হয়েছে 'বোরোপিট', তবে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়টিকে সিরিয়াসভাবে দেখার আশ্বাস শারমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়া হয়নি : সহকারী পরিচালক বিষয়টি আমার এখতিয়ারে না পড়লেও দৃষ্টিকটু : পাউবো তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মতো বড় প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া করা সম্ভব নয় : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
এএইচএম আহসান উল্লাহ/গোলাম মোস্তফা
২৮ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'নদী, খাল-বিল ও সাগরের জোয়ার-ভাটার পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সব ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সব জেলা প্রশাসককে জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পাঠাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জোয়ার-ভাটার পানিও যেনো বাধাহীনভাবে ওঠানামা করতে পারে যে বিষয়টি বাস্তবায়নেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।' সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউন নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।



হায়রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা! প্রধামন্ত্রীর এমন কঠোর নির্দেশনার পরও চাঁদপুরে প্রশস্ত একটি খালকে ভরাট করে ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসন শুধু নীরবেই চেয়ে চেয়ে দেখছে। মনে হয় যেনো তারা অনেকটা অসহায়।



যে কোনো জলাশয় ভরাট না করার ব্যাপারে সরকারের সাধারণ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় সরকারি পুকুর ভরাট করে বিশাল মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ি করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম কানুনের কোনো বালাই এখানে নেই। যেমন বাবুরহাট হাই স্কুলের সামনে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের পাশে একাদশ ক্লাব মার্কেট। এ মার্কেটটি এখন যেখানে অবস্থিত সেখানে কয়েক বছর আগেও বিশাল পুকুর ছিলো। এই পুকুরের একটি অংশ ছিলো সড়ক ও জনপথের আর অপর অংশ নাকি ছিলো একাদশ ক্লাবের। একাদশ ক্লাবের নামে কিছু অংশ থাকার সুবাদেই পুরো পুকুরটি ভরাট করে সেখানে সুবিশাল মার্কেট করা হয়। এ ক্ষেত্রে দখলবাজরা একটু চালাকি করে। তারা পুকুরের সওজ-এর অংশটি ভরাট করে পুরো পাকা করে ফেলেছে, তবে কোনো দোকানপাট করেনি। আর মার্কেট নির্মাণ করেছে একাদশ ক্লাবের জায়গার অংশে। তবে সওজ'র জায়গাটিও এখন মার্কেটের কাজেই ব্যবহার হয়ে আসছে। তখন সওজ'র জলাশয় ভরাট করে ফেললেও কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছে অথবা তাদেরকে ম্যানেজ করেই এসব করেছে।



শুধু এই পুকুরটিই নয়, আরো বহু সরকারি পুকুর-জলাশয় ভরাট করে বাবুরহাট এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছর যাবৎ চলছে সেখানে সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে জলাশয় ভরাট করার প্রতিযোগিতা। যে কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের দক্ষিণ পাশ লাগোয়া প্রশস্ত খালটি তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দখলবাজরা খালটি ক্রমান্বয়ে গিলে খাচ্ছে। তারা খালটির অপর প্রান্তে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ি করেছেন। যেখানে যাতায়াতে খাল পার হয়ে যেতে হয়। তাই খাল ভরাট করে ছোট কালভার্ট করার প্রতিযোগিতায় নেমে গেছে প্রভাবশালীরা। এগুলোর অধিকাংশেরই অনুমতি নেই। অনুমতি যেগুলোর ছিলো সেগুলো অনেকটা নিয়ম রক্ষা করেই করেছে। আর যেগুলোর অনুমতি নেই সেগুলো খাল ভরাট করে খালের অস্তিত্ব অনেকটা বিলীন করে দিয়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক করে মাঝখানে ছোট একটি কালভার্ট করে নামমাত্র খালের চিহ্ন রাখা হয়েছে। এভাবেই বাবুরহাট এলাকায় চলছে খাল ভরাটের প্রতিযোগিতা।



একইভাবে সম্প্রতি বেশ জোরালোভাবে আলোচনায় আসে বাবুরহাটে জেলা পরিষদ ভবনের দক্ষিণ পাশে সরকারি খালটির অপর প্রান্তে শারমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশন (প্রস্তাবিত) নামে যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেটি নিয়ে। যার মালিক হচ্ছেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। দেখা গেছে যে, তার সিএনজি স্টেশনে যাতায়াতের জন্যে খালটির প্রায় ৮০ ভাগ ভরাট করা হয়েছে গাইডওয়াল দিয়ে। আর মাঝখানের ২০ ভাগ জায়গায় ছোট একটি কথিত কালভার্ট করা হয়েছে। যেটিকে বলতে গেলে নর্দমা বলা যায়। অথচ কালভার্ট করার ক্ষেত্রে যে প্রশস্ততা রাখতে হয় তার ধারে কাছেও নেই।



গত ক'দিন যাবৎ এ দুষ্টিকটু এবং গর্হিত কাজটি নিয়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জাতীয় দৈনিকেও খবর প্রকাশিত হয়। তাই সরজমিনে দেখতে এই দুই প্রতিবেদক গতকাল রোববার ঘটনাস্থলে যান। তারা খালটির করুণ ও ভয়াবহ দৃশ্য দেখেন।



এ বিষয়টি নিয়ে গতকাল প্রথমেই কথা হয় জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার সাথে সাথে সওজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে সরকারের অনুমতি আছে। এখন আপনারা তাদের সাথে কথা বলেন।



এরপর যাওয়া হয় সড়ক ও জনপথ চাঁদপুর অফিসে। এ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্তের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কালভার্ট নির্মাণে কতটুকু প্রশস্ততা রাখতে হয়। তিনি জানালেন, ৩০ ফুট প্রশস্ততা রাখতে হয়। তখন তাঁকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নির্মাণাধীন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যাতায়াতের জন্যে খালের উপর যে কালভার্ট করা হচ্ছে মোবাইল ফোনে তুলে আনা সে ছবিটি দেখানো হয়। ছবিটি দেখে তিনিও কিছুটা হতবাক হয়ে যান। অর্থাৎ ছবিতেও এটি স্পষ্ট যে, কীভাবে খালটি দুই পাশ ভরাট করে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ মারুফ হোসেনকে ডেকে আনেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটার ডিজাইন কে করেছে, মারুফ বললেন, আমি। তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হয়, এর প্রশস্ততা কতটুকু রাখা হয়েছে? তখন মারুফ বললেন, ৬মিটার। নির্বাহী প্রকৌশলী তখন বললেন, ৬মিটার হবে কোনো? এটা ৩০ ফুট হবে। আপনি তো ভুল বলতেছেন। এটা তো খাল। তখন মারুফ তার অনিয়মের বৈধতা দিতে এক সময়ের প্রবহমান এ খালকে 'বোরোপিট' বলে চালিয়ে দেন। তখন নির্বাহী প্রকৌশলী এ প্রতিবেদকদ্বয়কে বললেন, ঠিক আছে, আমি শারমিন ফিলিং স্টেশনের মালিক জিন্নাহ পাটওয়ারীকে ডাকাবো, বিষয়টা আমি সিরিয়াসভাবেই দেখবো।



এরপর যাওয়া হয় চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরে। এ দপ্তরের সহকারী পরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, শারিমন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেয়া হয়েছে কিনা। তিনি জানালেন, না নেয়া হয়নি। তবে মালিক এসেছিলেন, ছাড়পত্রের ব্যাপারে কথা বলে গেছেন।



এদিকে যে কোনো খাল-নদীর পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে চাঁদপুর পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ নিজামুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি আমার এখতিয়ারে পড়ে না। তবে এটি আমারও নজরে পড়েছে। বিষয়টি দৃষ্টিকটু। আপনারা পৌর মেয়র এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন।



এ বিষয়ে নির্মাণাধীন শারমিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে কালভার্ট করছি। এতো বড় প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া করা সম্ভব নয়। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি মরা খাল। তাছাড়া অনুমতি পত্রে যেভাবে বলা আছে, সেভাবেই করেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজও রয়েছে। এক কথায় আমি প্রতিষ্ঠান করার জন্যে যা দরকার সব নিয়ে কাজ করছি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৩৪৯৭
পুরোন সংখ্যা