চাঁদপুর। শুক্রবার ৮ ডিসেম্বর ২০১৭। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১২। আর স্মরণ কর, মুনাফিকরা ও যাহাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি, তাহারা বলিতেছিল, ‘আল্লাহ এবং তাঁহার রাসূল আমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন তাহা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নহে।’

১৩। আর উহাদের এক দল বলিয়াছিল, ‘হে ইয়াছরিববাসী! এখানে তোমাদের কোন স্থান নাই, তোমরা ফিরিয়া চল’ এবং উহাদের মধ্যে একদল নবীর নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করিয়া বলিতেছিল, আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত; অথচ ওইগুলো অরক্ষিত ছিল না, আসলে পলায়ন করাই ছিল উহাদের উদ্দেশ্য।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


একজন লোকের জ্ঞানের পরিধি তার অভিজ্ঞতা দ্বারা খ-ায়িত করা যায় না।

-জনলক।


যে সব ব্যক্তি নিন্দুক এবং যারা অপমানকারী, তাদের সর্বনাশ, অর্থাৎ তারা কষ্টদায়ক পরিণতি প্রাপ্ত হবে।


ফরিদগঞ্জে ৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জনকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান জেলহাজতে
এমকে মানিক পাঠান
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ফরিদগঞ্জ জনকল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ (জিএফএল)-এর প্রকল্প চেয়ারম্যান শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গতকাল ৭ ডিসেম্বর আদালতে তিনি আত্মসমর্পন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। অপর ২নং আসামী তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে অস্থায়ী জামিন দেয়া হয়।



মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে সমবায়ের সনদ নিয়ে মোঃ শাহজাহান, মোঃ আলকায়েত হোসেন, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ মোরশেদ আলম ও মোঃ মাহাবুবুর রহমান যৌথভাবে ফরিদগঞ্জ জনকল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ (জিএফএল) রেজিঃ নং ৫৯৬/চাঁদ/০৪-এর কার্যক্রম চালু করেন। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রমে সদস্য সংগ্রহ, আমানত সংগ্রহ ও ঋণদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উপজেলাব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পর্যায়ক্রমে একের পর এক নানা প্রকল্প শুরু করে এ সমিতি। প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফরিদগঞ্জ মেডিকেল সেন্টার, জিএফএল সুজ ফ্যাক্টরী, জিএফএল প্রোপার্টিজ, জিএফএল পিভিসি পাইপ কারখানা ইত্যাদি। প্রতিটি প্রকল্পের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে প্রধান দায়িত্ব পালন করেন প্রকল্প চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান। বাকি ৪ জন শেয়ারদারকে নামমাত্র দায়িত্ব দিয়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন শাহজাহান।



এক পর্যায়ে শাহজাহান তার নিজের স্ত্রীকে প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক বানিয়ে নেন। এতে তার অর্থ আত্মসাতের পথ আরো সুগম হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কোটি কোটি টাকা আমানতকারীদের আমানতের লভ্যাংশ ও আমানত ফেরৎ দিতে ব্যর্থ হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার গ্রাহক প্রতিষ্ঠানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। উপায়ন্তর না পেয়ে এক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সবকিছু ফেলে তারা পালিয়ে যায়।



পরে শাহজাহান ব্যতীত বাকি ৪ জন সদস্য মোঃ আলকায়েত হোসেন, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ মোরশেদ আলম ও মোঃ মাহাবুবুর রহমান সমিতির বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা সমবায় কর্মকর্তা সমিতির সকল হিসাব পর্যালোচনা করেন। এতে আত্মসাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জেলা সমবায় কার্যালয়ে বিষয়টি শুনানীর পূর্বে অভিযুক্ত শাহজাহানকে বারবার নোটিস করা সত্ত্বেও তিনি উপস্থিত হননি। পরে ২৮/১১/২০১৬খ্রিঃ তারিখে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত শাহজাহান কর্তৃক বিভিন্ন খাতে সর্বমোট ৩৪ কোটি ৮০ লাখ একশত ঊনত্রিশ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে প্রতিবেদন দেন। এতে তার স্ত্রী (সম্পাদক) হিসেবে তাকে আত্মসাতে সহযোগিতা করেন বলে উল্লেখ করা হয়।



জেলা সমবায় কর্মকর্তার আদেশের প্রেক্ষিতে ১২/০১/২০১৭খ্রিঃ তারিখে মোঃ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মোঃ শাহজাহানকে ১নং আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- সিআর-১৫৯/১৭। ওই মামলায় ৩ ও ৪নং আসামী মাইন উদ্দিন (ম্যানেজার) ও শ্রীকৃষ্ণ দাস (ক্যাশিয়ার) জামিনে থাকলেও ১ ও ২নং আসামী শাহজাহান ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল ৭ ডিসেম্বর শাহজাহান ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ ও আমলী আদালত ফরিদগঞ্জে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক শফিউল আজম ১নং আসামী শাহজাহানের জামিন নামঞ্জুর করেন। আর অপর আসামী তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে অস্থায়ীভাবে জামিন দেয়া হয়।



এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি আলকায়েত হোসেন বলেন, আমাদের সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন কৌশলে পরিকল্পিতভাবে শাহজাহান প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেন। এতে আমিও ব্যক্তিগতভাবে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে কিছু কিছু গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করি এবং পরিবার পরিজন ত্যাগ করে যাযাবরের মতো দিন অতিবাহিত করছি। তার বিচার অবশ্যই হবে এবং সাধারণ মানুষের আমানতের টাকা ফেরৎ পাবে ইনশাল্লাহ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫২৬৫৬
পুরোন সংখ্যা