চাঁদপুর। বুধবার ১৫ নভেম্বর ২০১৭। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ২৫ সফর ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩২- সূরা সেজদাহ

৩০ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১। আলিফ-লাম-মীম

২। এই কিতাবের অবতরণ বিশ্ব পালনকর্তার নিকট থেকে, এতে কোনো সন্দেহ নাই।

৩। তারা কি বলে,  এটা আপনি মিথ্যা রচনা করেছেন? বরং এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে সত্য, যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন, যাদের কাছে আপনার পূর্বে কোনো সতর্ককারী আসেনি। আশা করা যায় এরা সুপথপ্রাপ্ত হবে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সফলতা কখনো অন্ধ হয় না।


-টমাস হাডি।


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।

 


অ্যাপ্রোচ সড়ক না হওয়ায় নতুন সেতু উপকারের চেয়ে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে
কামরুজ্জামান টুটুল
১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুটি এখন সংশ্লিষ্ট এলাকার ত্রিশ গ্রামবাসীর উপকারের পরিবর্তে দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এর কারণ, সেতুর দুই পাড়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক না হওয়া। বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নবনির্মিত এই সেতুর কাজ বেশ কয়েক মাস আগে শেষ হয়েছে। তবে যেই জনগণের উপকারে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে সেই জনগণের উপকারের চেয়ে দুর্ভোগ যেনো আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গেলো বর্ষাসহ বর্তমান সময় পর্যন্ত সেতুর দু'পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের জায়গায় বাঁশের সাঁকো দেয়ায় হাজার হাজার এলাকাবাসীকে এই দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। সবচে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। যারা প্রতিদিন এই সাঁকো বেয়ে সেতুটি পারাপার হতে হচ্ছে। আর এই দুর্ভোগ ঠিক কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছে না। অথচ সেতুর সাথে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণেও বরাদ্দ ধরা আছে। কিন্তু ঠিকাদার এখনো তা করছে না।



হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল ও ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কাঁচা রাস্তার একটি অংশে নবনির্মিত এ সেতুটির অবস্থান। সেতুটির পূর্ব পাড়ে ৯নং গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের পালিশারা গ্রাম এবং পশ্চিমপাড়ে ৬নং বড়কুল ইউনিয়নের দিকচাইল গ্রাম। সেতুটির নির্মাণ কাজ আরো কয়েক মাস আগে পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। সেতুর উভয় পাড়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক না হওয়ায় দুই পাড়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠতে-নামতে হচ্ছে জনগণকে। সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়কের অভাবে স্থানীয় ইউনিয়নগুলোর হাজার হাজার মানুষকে এবারের পুরো বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।



এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় একুশে গার্লস স্কুল, বেলচোঁ কারিমাবাদ ফাযিল মাদ্রাসা, পালিশারা উচ্চ বিদ্যালয়, পালিশারা মাদ্রাসাসহ স্থানীয় বেশ ক'টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এ সেতু ব্যবহার করে আসা-যাওয়া করতে হয়। এছাড়া স্থানীয় দিকচাইল, মোল্লাডহর, ভাউরপাড়, পাঁচৈ, পালিশারা, মৈশামুড়া, সর্বতারা, বড়কুল, মধ্য বড়কুল, মালিগাঁও, পালিশারা বাজার, পয়ালযোশসহ তৎসংলগ্ন গ্রামগুলোর মানুষকে অতি সহজে আসা-যাওয়া করতে সেতুটি খুবই গুরুত্ব বহন করে।



একুশে গার্লস স্কুলের পাশের বটতলা এলাকার মাসুদ স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, পালিশারা বেপারী বাড়ির আরিফ হোসেন ও ভাউরপাড় গ্রামের হাফেজ রায়হান জানান, এই সেতুটির দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হলে আমাদেরকে হাজীগঞ্জ বাজারে যেতে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ বেঁচে যাবে। তারা আরো জানান, বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীরা কী দুর্ভোগে পড়ে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না।



স্থানীয় দৈশামুড়া নতুন বাড়ির সরাফাত আলী জানান, সেতুটির দুই পাড়ে বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুটি পারাপার হতে গিয়ে এবারের বর্ষায়ে বহু ছাত্র-ছাত্রীকে পানিতে পড়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।



এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে। আর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে মাটির কাজ ধরা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আমাকে বলেছে অ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ফেলতে না কি স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বাধার সৃষ্টি করছে।



এদিকে এই সেতুর ঠিকাদার আকবর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, আমি সেতুটির দুইপাশে মাটি ফেলার জন্যে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে ৭০ হাজার টাকা চুক্তি দিয়েছি। সে কিছু মাটি ফেলার পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে মাটি ফেলা হবে।



সেতুটির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি দেখছি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৭৪২১
পুরোন সংখ্যা