চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ৩০ ভাদ্র ১৪২৪। ২২ জিলহজ ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৬। হে আমার মু’মিন বান্দাগণ!নিশ্চয় আমার পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং তোমরা আমারই ‘ইবাদত কর। 


৫৭। জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


বিদ্রোহের ন্যায্যতা নির্ভর করে ইহার কৃতকার্যতার উপর। -টমাস বি রিড।


 

ব্যভিচারী হইতে ঈমান দূরে পলায়ন করে, কিন্তু সে ব্যভিচার ত্যাগ করিলেই ঈমান আবার তাহার নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে।  


হাইমচরে ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া নিয়ে বহুবিধ জটিলতা ও হয়রানি
মির্জা জাকির
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নদী সিকস্তি উপজেলা হাইমচরে সরকারি খাস জমি দেয়ার নামে ভূমিহীনদের সাথে চলছে নানা ছলছাতুরি। যারা ভূমি পাচ্ছেন তাদের সইতে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনা। আর যেসব ভূমিহীন জমি পাননি তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। এ খাস জমি নিয়ে একাধিক তৃতীয় পক্ষ সুবিধা লুটে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সৃষ্ট তিনটি পক্ষ তিন ধরণের অভিযোগ করছে। সর্বশেষ বুধবার সকালে ৮১জন ভূমিহীনকে ১একর করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সর্দারের মৌখিক এবং ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিজান সর্দারের লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে কাগজপত্র অধিক যাচাইয়ের নির্দেশ দেন উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার। অবশ্য চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের আপত্তির প্রতিবাদে ভূমিহীনরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে হাইমচর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।



হাইমচর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, পূর্বের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত ৮১ জন ভূমিহীনকে এক একর জমি রেজিস্ট্রি করতে তাদের অফিসে ঢাকা হয়। সবার সই নিয়ে দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসলে ৪নং নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সর্দার সাব রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলামকে মৌখিক এবং ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজান সর্দার লিখিত অভিযোগ করেন। এ সময় সালাউদ্দিন বলেন, আবেদনকারীর মধ্যে অনেকের ভূমি আছে। ঘর আছে। বাড়ি আছে। কারো কারো বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। কেউ কেউ ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এখানে অনেকেই আছেন পূর্বে সরকারি খাস ভূমি পেয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী পাচ্ছেন। অথচ নীলকমল ইউনিয়নে আরো অনেক ভূমিহীন খোলা আকাশ বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে বসবাস করছেন। ৩০-৩৫টি চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট নকল তৈরি করা হয়েছে। ওই চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তার ইউপির বর্তমান সদস্য আছাদুজ্জামান এসব স্বাক্ষর নকল করেছেন বলে জানান।



তাৎক্ষণিক অভিযোগ শুনে সাব-রেজিস্ট্রার উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল হাসানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুনঃ যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এ সময় কাগজ যাচাই করে দেখা যায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন আহমেদ রতনের সময়ে দেয়া চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট ও ভূমিহীন সার্টিফিকেট রয়েছে ১৮টি। ৩ নম্বর দক্ষিণ আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল মাস্টারের দেয়া আছে ৫টি। কাগজপত্র ঠিক করে রেজিস্ট্রি করতে নির্দেশ দেয়া হলে উপস্থিত প্রকৃত ও কথিত ভূমিহীনরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আছাদুজ্জামান স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা সুমনসহ আরো অনেকে।



যদিও একাধিক ভূমিগ্রহীতাও টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, অফিসিয়াল এবং রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে।



উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল হাসান জানান, যারা নিয়মানুযায়ী আবেদন করেছে তাদের আবেদন যাচাই বাছাই শেষে কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে আজ রেজিস্ট্রি করার জন্যে প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু সালাউদ্দিন চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় এমন অভিযোগ করেছেন। আবেদনের অধিকাংশই তার দেয়া সার্টিফিকেট। আড়াই তিন বছর আগে যারা আবেদন করেছে তাদের সার্টিফিকেট ছিলো সাবেক রতন চেয়ারম্যানের দেয়া। আর ভূমিহীন যে কোনো স্থানের বাসিন্দাই হতে পারে। তবে তিনি ভূমিহীন হতে হবে। টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। বর্তমান পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আছাদুজ্জামান স্বপন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নকল করা এবং লোকজনের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।



সাব রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম জানান, সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়নি। উপজেলা ভূমি অফিস কাগজপত্র ঠিক করে নিয়ে আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।



হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় বলেন, খাস জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটির সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।



হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী ভূমিহীনদের মাঝে ভূমি বন্দোবস্ত দেয়ার নাম করে একটি চক্রের বাণিজ্যের কথা শুনেছেন বলে জানান। প্রকৃত ভূমিহীনরা যাতে ভূমি পায় তার জন্যে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৯৫৫৪
পুরোন সংখ্যা