চাঁদপুর। শনিবার ১৯ আগস্ট ২০১৭। ৪ ভাদ্র ১৪২৪। ২৫ জিলকদ ১৪৩৮
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৩। এবং যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ লূতের নিকট আসিল, তখন তাহাদের জন্য সে বিষন্ন হইয়া পড়িল এবং নিজকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করি। উহারা বলিল, ‘ভয় করিও না, দুঃখও করিও না; আমরা তোমাকে ও তোমার পরিবারবর্গকে রক্ষা করিব, তোমার স্ত্রী ব্যতীত; সে তো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত;


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

বিপদকে বিপদ দিয়েই অতিক্রম করা যায়।



-টমাস ফুলার।


প্রভু, তুমি যেমন আমার আকৃতি পরম সুন্দর করে গঠন করেছো, আমার স্বভাবও তদ্রূপ সুন্দর করো।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
এক রাতেই শেষ হয়ে গেলো প্রতিবন্ধী ফরিদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন
এমকে মানিক পাঠান
১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

প্রতিবন্ধিতার বাধা ডিঙ্গিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার যুবক ফরিদ। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের কর্মস্পৃহায় অনেকটা পথ এগিয়েও গিয়েছিলেন। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও দু'মুঠো অন্ন যোগানের জন্যে তিনি সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিজের দোকানে কাজ করতেন। কিন্তু গত বুধবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাতের চুরির ঘটনায় তার সকল স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হওয়ার পথে। চোর দোকানের তালা ভেঙ্গে কম্পিউটার, মোবাইল ও নগদ অর্থসহ প্রায় এক লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। দোকানের মালামাল চুরি হওয়ার পর প্রতিবন্ধী ফরিদের দু'চোখে শুধুই হতাশা। কীভাবে এখন তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা হবে। হাঁড়িতে জুটবে দু'মুঠো ভাত।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব বড়ালী হাজী বাড়ির সোলায়মান হাজীর ছেলে মোঃ ফরিদ হোসেন (২৭) তার শরীরের কোমর থেকে পা পর্যন্ত অকেজো হয়ে গেছে। কিন্তু পঙ্গু শরীর নিয়ে সে বসে থাকেনি। বেছে নেয়নি ভিক্ষা বৃত্তির মতো ঘৃণিত পেশা। তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিলো যত দিন বেঁচে থাকবে নিজের উপার্জন দিয়ে চলবে। সিদ্ধান্ত অনুসারে ঢাকার পক্ষাঘাতগ্রস্থ পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার ও মোবাইল মেরামতের উপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। পরে পূর্ব বড়ালী কবির জুনিয়র হাইস্কুল সংলগ্ন স্থানে ফরিদ কম্পিউটার এন্ড ভ্যারাইটিজ স্টোর নামে একটি দোকান দেন। হুইল চেয়ারে বসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি দোকানদারী করতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। আর এ রাতই প্রতিবন্ধী এই ক্ষুদ্র ব্যবসয়ীর জন্য কাল রাত হয়ে এসেছে। চোরের দল দোকানের তালা ভেঙ্গে দোকান থেকে একটি কম্পিউটার, গ্রাহকের ৭টি মোবাইল, স্ক্র্যাচ কার্ড ও ক্যাশ বাঙ্সহ নগদ টাকা নিয়ে যায়।

ফরিদ এ প্রতিনিধির কাছে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলেন, ভাই আমি ভিক্ষা করতে চাই না। আমি কাজ করে খেতে চাই। রাতের বেলায় চোরের দল আমার দোকান থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় এক লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। আমার অপরাধ কী? আমি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জনাচ্ছি। ফরিদ জানান, আমি প্রতিমাসে দোকান থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করি। যা দিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করে আসছি।

এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান, এই এলাকাতে একটি ভবঘুরে চক্র সক্রিয় রয়েছে। যারা এলাকাতে মাদক বিক্রি, ইভটিজিং, চুরি-ডাকাতির সাথে জড়িত। ইতোমধ্যে এ এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনার পর পৌর মেয়র মাহফুজুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই প্রতিবন্ধী যুবককে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৮৪৭০
পুরোন সংখ্যা