চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২০ জুন ২০১৭। ৬ আষাঢ় ১৪২৪। ২৪ রমজান ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬১। যাহাকে আমি উত্তম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়াছি, যাহা সে পাইবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যাহাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার দিয়াছি, যাহাকে পরে কিয়ামতের দিন হাযির করা হইবে?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দুষ্ট লোকেরা নিজেরাই নিজেদের নরক তৈরি করে।                                  -মিলটন।


 

বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কর্তৃক অভিনন্দিত হবেন।


স্বজন-সনাকের বিশেষ উদ্যোগ
বিদ্যাবতী ও এসবি খাল পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে মানববন্ধন
স্মারকলিপি প্রদান ও বিলবোর্ড স্থাপন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নদীঘেরা এ নগরের প্রাণ হচ্ছে খাল। এসবি (শ্রীরামদী ও বিষ্ণুদী) এবং বিদ্যাবতী খাল দুটি চাঁদপুর শহরের রক্ত পরিসঞ্চালনের মতো বয়ে যেতো বুক ভরা জল নিয়ে। কিন্তু আজ এই খাল দুটি স্থানে স্থানে ভরাট হয়ে দখল হয়ে যাচ্ছে ভূমি দস্যুদের হাতে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই শহরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পালনে ঘাটতি ও অসচেতন মানুষের ফেলা ময়লা আবর্জনায় খালটি আজ মৃত প্রায়। এতে করে নগরবাসী পরিবেশগত ও বহুবিধ ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।



এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে 'টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি খাতে সুশাসন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনঅংশগ্রহণ' এই শ্লোগান নিয়ে গতকাল ১৯ জুন স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন) ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চাঁদপুর-এর আয়োজনে ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় নগরিকদের অংশগ্রহণে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া বিদ্যাবতী ও এসবি (শ্রীরামদী-বিষ্ণুদী) খাল পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের ব্রীজ সংলগ্ন (হকার্স মার্কেটের পূর্ব মাথায়) ঘোষপাড়া ব্রীজ সংলগ্ন ২টি স্থানে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর ও মেয়র, চাঁদপুর পৌরসভার বরবারে স্মারকলিপি প্রদান এবং খালের উপর 'খাল বাঁচাও আন্দোলন' নামে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার এবং মেয়র, চাঁদপুর পৌরসভার পক্ষে প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। তাঁরা চাঁদপুরের খাল পুনরুদ্ধারের জন্য সনাকের এই আন্দোলনকে স্বাগত জানান।্ এছাড়াও চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালী আসন্ন পবিত্র ঈদের পর পৌরসভার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।



মানববন্ধনে সনাক সভাপতি কাজী শাহাদাত বলেন, চাঁদপুরের বিদ্যাবতী এবং এসবি (শ্রীরামদী-বিষ্ণুদী) খাল সহ অনেক খাল আজ হুমকির সম্মুখীন। অপরিকল্পিত নগরায়ন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা এবং নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে এই খালগুলো আজ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোন উন্মুক্ত জলাশয় নেই। অনেকক্ষেত্রে এই খালগুলোকে আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া এই খালগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের আজকের এই কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই খালগুলিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য। সনাকের সাবেক আহ্বায়ক ও সদস্য এবং চাঁদপুর পরিবেশ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মনোহর আলী বলেন, অতীতে এই খালগুলি চাঁদপুরকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আজকে এই খালগুলোকে ধ্বংস করার পাশাপাশি পরিবেশকেও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি এই খালগুলিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। মেয়র, চাঁদপুর পৌরসভার নিকট স্মারকলিপি প্রদানের প্রাক্কালে টিআইবি'র প্রোগ্রাম ম্যানেজার করুনা কিশোর চক্রবর্তী বলেন, চাঁদপুরের সর্বস্তরের মানুষের স্বার্থে সনাক চাঁদপুর জলবায়ু ও পানি খাতে সুশাসন বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এই কার্যক্রমের আওতায় সনাকের নেতৃত্বে আজকের এই খাল পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। তিনি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে খাল দু'টি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জনান। তিনি সহযোগিতার পাশাপাশি সত্যিকার গণদাবি ও ব্যাপক হারে গণসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।



সনাক সদস্য ও গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্বাস উদ্দিন বলেন, মানুষের শরীরের শিরা উপশিরার মতো আমাদের নদী ও খালগুলো চাঁদপুরের শিরা উপশিরা হিসেবে কাজ করছে। তাই আমাদেরই স্বার্থে এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে এই খালগুলোকে বাঁচাতে হবে। চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, খাল ও নদী আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। এই খালগুলোকে যদি আমরা বাঁচিয়ে রাখতে না পারি তাহলে একদিন এই চাঁদপুরের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তিনি এ জন্য সকলের প্রতি খাল পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান। টিআইবি'র জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নেওয়াজুল মওলা বলেন, খাল পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনটি একটি মহতী উদ্যোগ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্দোলনের মাধ্যমে এই খালগুলিকে বাঁচাতে হবে। স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন)-এর সমন্বয়কারী কাজী আব্দুর রহমান বলেন, চাঁদপুরের খাল-জলাশয়গুলোকে পুনরুদ্ধার করার জন্য আমাদের এই আন্দোলন। এই খালগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। স্বজন সদস্য সাবিহা সুলতানা বলেন, ভূমিদস্যু কর্তৃক দখলকৃত খাল দুটি পুনরুদ্ধার করা আমার আপনার সবার দায়িত্ব। সনাকের ইয়েস গ্রুপের দলনেতা তানজিলা আক্তার তামান্না বলেন, চাঁদপুরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং চাঁদপুরকে বাঁচাতে এই খালগুলোকে বাঁচাতে হবে। তিনি সকলকে সনাকের এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। ইয়েস সদস্য খোরশেদ আলম প্রায় বিলীন হওয়া খাল দু'টির বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।



এছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন কালের কণ্ঠ ও সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমেদ, চাঁদপুর সেন্ট্রাল ইনার হুইল ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তা পীযূষ, পুরানবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কল্পনা সরকার, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেবেকা সুলতানা বকুল সহ অন্য অতিথিবৃন্দ। এছড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৬৮৭৪
পুরোন সংখ্যা