চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
পত্রিকা প্রেমিক ৯০ বছরের এক বৃদ্ধের কথা
ভিক্ষার টাকায় কেনা পত্রিকা পড়ে ক্ষুধার কষ্ট ভুলে যান ৯০ বছরের বৃদ্ধ ইসমাইল চৌধুরী
‘কে ক্ষমতায় আসলো কে গেলো সেজন্যে পত্রিকা পড়ি না’
শওকত আলী ॥
২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৫৬:২৭
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনস্থ বুক স্টল থেকে ভিক্ষার টাকায় প্রতিদিন পত্রিকা কিনে পড়ে পেটের ক্ষুধার কষ্ট ভুলে যান পত্রিকা প্রেমিক, ৯০ বছর বয়সের ভিক্ষুক মোঃ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী। তার পত্রিকা পড়তে কোনো চশমা ব্যবহার করতে হয় না। প্রতিদিন সকালে কোরআন তেলাওয়াত করে ঘর থেকে বের হন বলে বৃদ্ধ জানান। দিনে ও রাতে তিনি খালি চোখে চশমা ছাড়া পত্রিকা ও কোরআন তেলাওয়াত করে থাকেন। স্টেশন এলাকায় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি উচ্চ স্বরে কথা বলতে গিয়ে বলেন, পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী কাউকে ভয় পাই না। কোনো অপরাধের সাথে জড়িত জীবনে ছিলাম না। এখনও জড়িত নেই। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই তা দিয়ে জীবন জীবিকা চালাই। দেশে কে ক্ষমতায় আসলো আর কে গেলো সেজন্যে পত্রিকা পড়ি না। তিনি বলেন, আদার বেপারী জাহাজের খবর রেখে কী লাভ হবে? প্রতিদিন পত্রিকা পড়ি ক্ষুধা নিবারণের জন্য। পত্রিকা পড়া আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মানুষের কাছে হাত পেতে যে অর্থ পাই তার থেকে হোটেলে গিয়ে খাবার ক্রয় করে খেয়ে জীবন বাঁচাই। তার থেকে একটি পত্রিকা কিনে পড়ে দেশ-বিদেশের খবর পড়ে পেটের ক্ষুধার কষ্ট ভুলে যাই। খাবার কিনার টাকা কম থাকলে হোটেল মালিকদের সামান্য টাকা দিয়ে বুঝিয়ে খাবার খাই।

    ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর পিতা মৃত হাফেজ মোঃ ইদ্রিস মিয়া, গ্রাম মতলব উত্তর এলাকার নাওভাঙ্গা। তার  সাথে এ প্রতিবেদকের পরিচয় হয় চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন এলাকায় প্রয়াত নূর নবী পাটওয়ারীর পাটওয়ারী নিউজ পেপার এজেন্সির সামনে। তিনি জানান, ছোটকালে বাবার সাথে মতলব থেকে হাতিয়া-সন্দ্বীপে চলে যাই। আমার পিতা হাফেজ হযরত মাওঃ ইদ্রিস মিয়া সেখানে শিক্ষকতা করতেন আরবী বিষয়ে। তাঁর কাছে থেকে হাতিয়া-সন্দ্বীপে পড়ালেখা করে মেট্রিক পাস করি। ‘তখন কলেজে পড়লেন না কেন’ এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, পাকিস্তান আমলে আমার মেট্রিক পাস করার পর পিতা মারাত্মক জ¦রে ভুগে মারা যান। পিতার আদর্শে হাতিয়ায় থেকে বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে থাকি। এক সময় ব্যবসা করতে গিয়ে চালানপত্র নষ্ট হয়ে যায়। তারপর জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বাবুর্চি কাজ শিখতে শুরু করি। এক পর্যায়ে একজন প্রথম শ্রেণীর বাবুর্চি হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাবুর্চি কাজ করতে থাকি।

    ব্যক্তি জীবনে ইসমাইল চৌধুরী স্ত্রী, ১মেয়েকে নিয়ে ভালো ভাবেই জীবন কাটাচ্ছিলেন। মেয়ে ফরিদা বেগমকে বিয়ে দিয়েছেন নিজ এলাকায়। মেয়ের জামাতা শ্রমিকের কাজ করে ভালো ভাবেই জীবন চালাচ্ছিল। গত প্রায় ৫ বছর পূর্বে মেয়েটি মারা য়ায়। সে ঘরে একটি নাতনি রয়েছে। সে মাদ্রাসায় আরবি পড়াশুনা করে। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ইসমাইল চৌধুরী তার স্ত্রী আমিনা বেগমকে নিয়ে বসবাস করতেন মতলবের নাওভাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়িতে। হঠাৎ তার স্ত্রী গত দেড় বছর পূর্বে মারা যান। এরপর তিনি একা হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে কাজ কর্ম করতে পারছিলেন না। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বেঁচে থাকার জন্যে ভিক্ষা করার সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তিনি জানান, লজ্জা করছিল ভিক্ষা করতে। তারপরও ভিক্ষা করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সে ভিক্ষার টাকা থেকে স্থানীয় পত্রিকা চাঁদপুর কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আলোকিত বাংলাদেশ, ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন, যুগান্তর, মানবজমিন, মানবকন্ঠ, কালের কণ্ঠ, জনকণ্ঠসহ একেক সময় একেকরকম পত্রিকা ক্রয় করে মনের চাহিদা পূরণ করেন। এ পত্রিকা পড়লে তার অনেক সময় খাওয়ার কথা মনে থাকে না। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমার। জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে খাদ্য খাওয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমি খাদ্য বা আহার না করেও পত্রিকা পড়ে পড়ে সময় কাটাই। পত্রিকা আমার জীবনের সাথে মিশে আছে। পাকিস্তান আমল থেকে পত্রিকা পড়া শুরু করেছি। এখনও পত্রিকা পড়া বাদ দিতে পারি না। জীবনের শেষ বয়সে এসেও পত্রিকা পড়ি। প্রতিদিন সকালে নামাজ পড়ার পর কোরআন তেলাওয়াত করে থাকি। কোরআন পড়তে ও পত্রিকা পড়তে আমার চশমা প্রয়োজন হয় না। দিনে ও রাতে চশমা ছাড়া লেখা পড়তে পারেন ৯০ বছরের এ বৃদ্ধ ইসমাইল।  তিনি প্রতিদিন ৫টাকা দিয়ে জাতীয় দৈনিক ও ৩টাকা দিয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকা ক্রয় করে পড়েন বলে এ প্রতিবেদককে জানান। বৃদ্ধ ইসমাইল জানান, ভিক্ষা করতে, অন্যের কাছে হাত পাততে লজ্জা লাগে। শারীরিক অবস্থার একটু উন্নত হলে বাবুর্চি কাজ শুরু করার চিন্তা আমার রয়েছে। যে টাকা উপার্জন করি সে টাকা সঠিক কাজে লাগাই। বাজে কাজে টাকা ব্যয় করি না। সকলের কাছে দোয়া চাই যেন ভাল ভাবে ইজ্জতের সাথে পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারি।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৬৯০২
পুরোন সংখ্যা