চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
সামিরা আজ্জম : আরব ছোট গল্পের রাজকুমারী
সালাহ উদ্দীন
২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৫৮:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল কাইজার আজ্জম এবং মাতার নাম ছিল অলিম্পি বারী। তিনি আর্কে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ করেন। তারপর ‘তাকলিমেত আল-রাইবাত’ হাই স্কুলে ভর্তি হন। এবং পরবর্তীতে নান-এর একটি কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি ইংরেজি ভাষার উপর একটি কোর্স সম্পন্ন করেন এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষতার সাথে কথা বলা এবং লেখা উভয় বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠেন।

    ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি আর্কে একটা খ্রিস্টান স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৪০ সালের প্রথম দিক থেকেই আজ্জম ‘ফিলাস্তান’ নামক একটা পত্রিকায় ‘দি গার্ল ফ্রম দি কোস্ট’ ছদ্মনামে লেখালেখি শুরু করেন।

    ইসরাইলী আগ্রাসনের কারণে ১৯৪৮ সালে তিনি তার পরিবারের সাথে দেশত্যাগ করে লেবানন চলে যান। সেখান থেকে ইরাকে গিয়ে ‘হিলা গার্লস্ স্কুলে’ দুই বছর শিক্ষকতা করে আবার লেবাননে ফিরে আসেন। লেবাননে এসে তিনি বিভিন্ন ম্যাগাজিনে তাঁর সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করা শুরু করেন।

    ১৯৫২ সালে তিনি সাইপ্রাসের ‘নিয়ার ইস্ট রেডিও’ স্টেশনে ঘোষিকা এবং ‘ওমেনস্ কর্নার’ নামে একটি অনুষ্ঠানের প্রধান হিসাবে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে যখন ওই রেডিও স্টেশনটি বৈরুতে স্থানান্তর করা হয় তখন তিনি ‘হয়েন মর্নিং বিকামস্’ নামে একটি দৈনিক অনুষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

    ১৯৫৭ সালে তিনি বাগদাদে যান এবং সেখানে আদিব ইউসুফ আল-হিস্ন নামে একজন ফিলিস্তিন নাগরিকের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, পরবর্তীতে তিনি তাকে বিয়ে করেন। ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাগদাদ এবং কুয়েত রেডিও স্টেশনে সাহিত্য অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক এবং নির্মাতা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন ইরাক সরকার নেচিরিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে আজ্জম এবং তার স্বামীকে ইরাক থেকে বহিষ্কার করে। এরপর তাঁরা লেবাননে ফিরে আসেন।

    লেবাননে এসে তিনি একটি নামকরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ দেন এবং অনেক ইংরেজি সাহিত্য আরবী ভাষায় অনুবাদ করেন। ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে বৈরুতের বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকায় তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতো। তিনি সাহিত্য ভাবের সাথে সংযুক্ত করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়ের উপর বেশি লিখতেন।

    সামিরা আজ্জমের বেশিরভাগ লেখা ইসরাইলীদের দখলদারিত্ব এবং ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতার উপর আবর্তিত ছিল। তিনি তাঁর লেখার মূল বিষয়কে স্পষ্ট প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন কৌশল মাধ্যম সংযুক্ত করেছিলেন। তাঁর গল্পগুলো প্রায়শই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা অভিমতের মধ্যে আবর্তিত হচ্ছিল। আজ্জমের প্রথম ছোট গল্প সংগ্রহ ‘লিটল থিংকস’ ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। ওই গল্প গ্রন্থের সবক’টি চরিত্রই ছিল সংগ্রামী এবং অনেকক্ষেত্রে তাদের উদ্যম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তিনি দেখিয়েছেন যে,  তাদের মধ্যে অভিন্নতাবোধের অভাবে তারা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হচ্ছে। ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি রাজনীতিতে অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেন। ‘বিকজ হি লাভ দেম’ গল্পে তিনি সবকিছু হারানো একজন পলায়নপর কঠোর পরিশ্রমী ফিলিস্তিন কৃষকের হৃদয়গ্রাহী জীবন কাহিনী চিত্রিত করেছেন। ওই কৃষক পরবর্তীতে তার দুঃখ লাঘব করার জন্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং একদিন মাতাল অবস্থায় প্রচ- ক্রোধে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করে। এ ভাবেই তিনি তাঁর গল্প শেষ করেন। তিনি পুরো গল্পজুড়ে ওই কৃষককে অশুভ এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ না দেখিয়ে বরং অভিনব চরিত্র হিসাবে উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন যে,  ওই কৃষক তার ভালবাসার সব কিছু হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে এ ধরণের হীন কাজ করেছে। তিনি এ গল্পে তাঁর বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে কৃষকের স্ত্রী হত্যার কারণ হিসেবে তার স্বামীর ভূমিকার চেয়ে ওই সময়ের পারিপার্শি¦ক পরিস্থিতি, সামাজিক ত্রুটি এবং তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয়কে দায়ী করেছেন এবং ওই হত্যাকা-টিকে ‘পরিস্থিতির শিকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    আজ্জম তাঁর প্রথম দিকের লেখায় সমাজে নারীদের ব্যাপক ভূমিকা রাখার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রচলিত নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সেটি করেন নি। বরং তিনি পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত নারীদের বিরুদ্ধে অনুযোগ করেছেন। তিনি এ বিষয়টিকে সমাজের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেছেন। ওই সময়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে ব্যাপকভাবে লিখেছেন এবং প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই গল্পগুলো ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংগ্রামকে অধিক থেকে অধিকতর ভাবে রূপকথার মত প্রতিষ্ঠিত করেছে। লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে অনেক জাগ্রত করেছে। এবং মাঝে মাঝে তাঁর গল্পগুলোকে মাত্রাধিক শিল্পবোধ সম্পন্ন মনে হয়েছে। ‘ওন দি ওয়ে অব সলোমনপোল’ গল্পে আজ্জম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একজন স্কুল শিক্ষকের একাকী প্রতিরোধের কথা বলেছেন। ওই স্কুল শিক্ষক জীবনবাজি রেখে অনতিক্রম্য ইসরাইলী সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়েছেন; যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তার এই সংগ্রাম ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধকে উৎসাহিত করেছিলো। গল্পের এক জায়গায় তিনি দেখিয়েছেন যে,  ওই শিক্ষক তার নিহত একমাত্র পুত্র সন্তানকে একটা গাছের নিচে সমাহিত করেছেন। এ বিষয়টাকে উপস্থাপন করে তিনি বুঝিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনিদের আবেগ এবং অনুভূতি  চিরদিন জাগরুক হয়ে থাকবে এবং দখলিকৃত ভূমি একদিন তাদেরই হবে।

    আজ্জম তাঁর সারাজীবনের ঘাত প্রতিঘাতের বৃন্ত থেকে অনেক গল্প সৃষ্টি করেছেন। তাঁর গল্পের নায়িকারা অনেক স্বাধীন এবং তাদের অনেকেই আজ্জমের মতই অল্প বয়স থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। আবার অনেকেই পরিবারের দায়িত্ব পালন করার লক্ষ্যে অর্থ উপার্জনের জন্যে কাজ করতে যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। সমালোচকদের মতে তাঁর গল্পের চরিত্রগুলো ছিল স্বভাবতই অতিমাত্রায় বাস্তববাদী। আজ্জম ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ হিসেবে বর্ণনা করেেছন। তিনি সার্বিকভাবে তাদের জাতীয় পরিচয় বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরে ওই সময়ে সাহিত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন।

     আজ্জম তাঁর নিজস্ব একটা বিশ্বে সৃজনশীলতার বিস্তার ঘটিয়েছেন। সমালোচকরা আজ্জমের জীবদ্দশায় তাঁর সাহিত্য কর্মের প্রতি যথাযথভাবে মনোযোগ দেন নি। তাঁর প্রকাশনা সংস্থার মতে, ‘ওই সৃজনশীল নারী ছিলেন আরব ছোট গল্প রাজ্যের পথিকৃৎ। তিনি যতটুকু যোগ্য ছিলেন তাঁকে ততটুকু মূল্যায়ন করা হয় নি এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম প্রায় উপেক্ষার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল’। ১৯৬৭ সালে আজ্জমের মৃত্যুর পর তাঁর ৫টি গল্পগ্রন্থ পাওয়া যায়। ‘টিনি ম্যাটারস্’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে, ‘গ্রেট শেডো’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে এবং অন্যান্য গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। আজ্জমের আরও অনেক সাহিত্যকর্ম তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

    আজ্জমের রচনাবলির উপর দুটি স্বতন্ত্র আলোচনা করা যায়। প্রথমত তিনি ছিলেন ফিলিস্তিন বিপ্লবের একজন খাঁটি লেখক। তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে বিপ্লব এবং বিদ্রোহ একান্তভাবে সম্পৃক্ত ছিল। দ্বিতীয়ত অনেকে বলে থাকেন যে, আজ্জম ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের দুঃখ দুর্দশার চিত্র সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারেন নি। কারণ তিনি সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে অনেক উঁচুস্থানে ছিলেন। তাই তিনি তাদের কাছ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন এবং তাঁর চিন্তা ছিল নারীসুলভ। আজ্জমের গল্পগুলো পরোক্ষ ভাবের সাথে খুব বেশি সমান্তরাল এবং সূক্ষ্ম হতাশার সংকেত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    বিভিন্ন সাহিত্য সমালোচকদের সমালোচনা সত্ত্বেও আজ্জমকে এখনো আরবদের ছোট গল্প উন্নয়নের পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। সোহেলী ইদ্রিস নামে একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং সাহিত্য সমালোচক আজ্জমের ‘টিনি ম্যাটার’ গল্প সংকলন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, “এই সংকলনটিতে আজ্জম বড় মাপের লেখক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁর লেখা সামাজিক আবহ যোগাতে সক্ষম। তাঁর মধ্যে ছিল বড় মাপের লেখনী শক্তি। আজ্জমের লেখার ধরণ অনেক প্রাণবন্ত, উজ্জ্বল, নিরেট, সুরেলা এবং সংবেদনশীল”।

     অন্য এক সমালোচক আজ্জমকে ‘আমার শিক্ষক এবং আমার প্রশিক্ষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘সামিরা আজ্জমকে অনেকে নারীবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও আসলে তিনি তা ছিলেন না। তিনি ফিলিস্তিনের নাগরিকদেরকে জাগ্রত হতে জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়ে পুরুষের সাথে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যুদ্ধে অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে সমমর্যাদা লাভের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে নারীরা পিছিয়ে পড়ে নির্যাতিত হওয়ার জন্যে এক্ষেত্রে তিনি পুরুষদের চেয়ে নারীদের বিরুদ্ধে বেশি অনুযোগ দিয়েছেন। তাঁর লেখনীতে ফিলিস্তিন নারীদের মানসিক অবস্থা এবং ভাবপ্রবণ বাস্তবতার কথা উঠে এসেছে’। হাসেম ইয়াগী নামে অন্য এক সমালোচক বলেছেন যে, আজ্জমের ‘দি গ্রেট শেডো’ গ্্রন্থখানি পড়লে মনে হয় তিনি শিল্পকর্ম সম্পর্কে অনেক বেশি যতœশীল এবং শিল্প চাতুর্যের অনুমাপক হিসেবে তিনি তাঁর লেখার প্রতি যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন। আজ্জম তাঁর ‘টিনি ম্যাটারস্’ গ্রন্থের চেয়েও এ গ্রন্থে অনেক বেশি এবং ব্যতিক্রমধর্মী সাফল্য লাভ করেছেন।

    কবি আবু সালমা লিখেছেন যে, ‘সামিরার লেখায় সৃজনশীলতা, প্রাণবন্ত রচনাশৈলী, উঁচু মানের দূরদর্শিতা, স্পষ্ট ও সুন্দর ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা এবং সুবুদ্ধিসম্পন্ন উষ্ণতা তাঁকে অনন্য এক মাত্রায় অধিষ্ঠিত করেছে। কোনো আরব ছোট গল্পকার তাঁর সমক্ষতা অর্জন করতে পারবে কিনা এতে আমার সন্দেহ রয়েছে’। মিসরের প্রখ্যাত সাহিত্য সমালোচক রাজা আন নাকাস তাঁকে ‘আরব ছোট গল্পের রাজকুমারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আজ্জম লিখনির মাধ্যমে



ফিলিস্তিন জাতীয়তাবাদ এবং তার বাস্তবতাকে যৌক্তিক রূপে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিপ্লবধর্মী। আমার মতে তাঁর সাহিত্যকর্মই একটা বিপ্লব’।

    ষাটের দশকের প্রথম দিকে ফিলিস্তিনিদের কিছু সংখ্যক গোপন সংগঠন গড়ে উঠে। ওই সংগঠনগুলো গড়ে তোলার পেছনে আজ্জম প্রথম সারির ভূমিকা পালন করেন। তিনি তাঁর গোপনীয়তা রক্ষা করে নিরন্তর কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আজ্জম অতি শীঘ্রই যুদ্ধক্ষেত্রে নারী অংশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

    আরব বিশ্বের অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং সাহিত্য সমালোচকদের সাথে তাঁর গভীর যোগাযোগ ছিল। আরব নারীদের মধ্যে সাংবাদিকতা, ঘোষিকা এবং গোপন জাতীয়তাবাদী সংগঠনের মূল পথিকৃৎ ছিলেন তিনি।

    আজ্জম তাঁর কৃতকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে পিএলও তাঁকে শিল্প এবং সাহিত্যে অবদানের জন্য মরণোত্তর ‘জেরুজালেম মেডেল ফর কালচার’ পদকে ভূষিত করে।

    ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের ঐতিহাসিক যুদ্ধে আরবদের পরাজয়ের পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ওই যুদ্ধের কিছুদিন পর তিনি তাঁর কতিপয় সহযোদ্ধা সহ শরণার্থী শিবিরে সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্যে আম্মানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু পথিমধ্যে তিনি হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪১ বছর। তাঁর লাশ বৈরুতে আনা হয় এবং তাঁকে প্রোটেস্টান্ট সমাধিতে সমাহিত করা হয়।

    আজ্জম ছিলেন মনেপ্রাণে একজন খাঁটি আরব। তিনি সব সময় তাঁর জাতির হতাশা এবং যন্ত্রণাকে বুকে ধারণ করতেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল নিজেদেরকে বিজয়ী, একতাবদ্ধ এবং ভোগান্তি মুক্ত হিসে¬বে দেখা। আর সকলের মন যেন ঘন কালো মেঘ মুক্ত থাকে তা দেখে যাওয়া।

    বাহ্যত তাঁর দেহান্তর ঘটলেও ফিলিস্তিন জাতীয়তাবাদের সার্বিক চেতনায় সামিরা আজ্জম বিশেষ স্থান অধিকার করে চির ভাস্বর হয়ে আছেন।



লেখক : সালাহ উদ্দীন, চাঁদপুর। মোবাইল ফোন : ০১৭১২১৫৩৬৮১।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৫৫০৪
পুরোন সংখ্যা