চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
কোরবানির ইতিবৃত্ত ও নিয়মাবলি
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৫৫:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


কোরবানি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ। কেননা বান্দাহ কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে। কোরবান শব্দটি কুরবুন শব্দ থেকে উৎকলিত। অর্থাৎ নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ করা। যেহেতু আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার মাধ্যম হলো কোরবানি, তাই এর নাম কোরবানির ঈদ। এইদিনে ঈদ পালন করা হয়ে থাকে এজন্যে একে কোরবানির ঈদ বলে। এ ঈদের অপর নাম ঈদুল আদ্বহা। আরবি শব্দ আদ্বহা অর্থ কোরবানির পশু, যেহেতু এইদিনে কোরবানির পশু যবেহ করা হয়, তাই একে ঈদুল আদ্বহা বলা হয়।



কোরবানির গুরুত্ব :

    কোরবানি হলো ইসলামের একটি শিয়ার বা মহান নিদর্শন। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিয়েছেন, তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো ও পশু কোরবানি করো। [সূরা আল-কাউসার : ২]। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না সে যেনো আমাদের ঈদগাহের ধারে কাছে না আসে। [মুসনাদ আহমাদ, ইবন মাজাহ-৩১২৩ হাদিসটি হাসান]। যারা কোরবানি পরিত্যাগ করে তাদের প্রতি এ হাদিস একটি সতর্কবাণী। অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানি করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, হে লোকসকল, প্রত্যেক পরিবারের ওপর কোরবানি দেয়া অপরিহার্য। [সুনান ইবন মাজাহ-৩১২৫, হাদিসটি হাসান]। উল্লেখিত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেক ওলামায়ে কিরাম কোরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন।



কোরবানির ইতিহাস :

    কোরবানি আল্লাহ তা’আলার একটি বিধান। হযরত আদম আলাইহিসসালাম হতে প্রত্যেক নবীর যুগে কোরবানি করার ব্যবস্থা ছিলো। যেহেতু প্রত্যেক নবীর যুগে এর বিধান ছিলো সেহেতু এর গুরুত্ব অত্যধিক। যেমন : ইরশাদ হয়েছে, আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণস্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেনো তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে। [সূরা আল-হাজ্জ : ৩৪]। আর তুমি তাদের নিকট আদমের দুই পুত্রের সংবাদ যথাযথভাবে বর্ণনা করো, যখন তারা উভয়ে কোরবানি পেশ করলো। অতঃপর একজন থেকে গ্রহণ করা হলো আর অপরজনের থেকে গ্রহণ করা হলো না। [সূরা আল-মায়িদাহ : ৩৪]।

    আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধু ইব্রাহীম আলাইহিসসালামকে বিভিন্ন পরীক্ষায় অবতীর্ণ করেছেন এবং ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহীমকে তাঁর রবের কয়েকটি বাণী দিয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর সে তা পূর্ণ করলো। তিনি বললেন, আমি তোমাকে নেতা বানাবো। [সূরা আল-বাকারাহ-১২৪]। নিজ পুত্র যবেহ করার মতো কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন হয়েছিলেন ইব্রাহীম আলাইহিসসালাম। এ বিষয়ে সূরা আস-সাফ্ফাতের ১০০ থেকে ১০৯ আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থ : তিনি বললেন, হে প্রভু! আমাকে নেক সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম এক অতীব ধৈর্যশীল সন্তানের। পরে যখন সে সন্তান তার সাথে দৌড়াদৌড়ি করে বেড়ানোর বয়সে পৌঁছলো তখন তিনি (ইব্রাহীম আঃ) একদিন বললেন, হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আল্লাহর হুকুমে তোমাকে যবেহ করছি এখন তুমি চিন্তা-ভাবনা করে দেখো এবং তোমার অভিমত কী? তিনি (ইসমাঈল) বললেন, হে পিতা আপনি তাই করুন যা করতে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন। অতঃপর যখন দু’জনই আল্লাহর আদেশ মানতে রাজি হলেন, তখন তিনি (ইব্রাহীম আঃ) পুত্রকে যবেহ করার জন্যে শুইয়ে দিলেন। আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই নেক বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটি বড় পরীক্ষা। আর আমি তাকে বিনিময় করে দিলাম এক বড় কোরবানির দ্বারা এবং তা পরবর্তীর জন্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম। শান্তি বর্ষিত হোক ইব্রাহীম (আঃ)-এর ওপর। একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় এবং আল্লাহ প্রদত্ত কঠিনতম পরীক্ষায় সাফল্যজনকভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্যে এক মহান পিতার প্রাণাধিক পুত্রকে কোরবানি করার মধ্য দিয়ে ধৈর্যশীলতার উত্তম নমুনা পেশ পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। কুরআন মাজীদে উল্লেখিত আয়াতসমূহে ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমুস সালামের আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর প্রতি সীমাহীন আনুগত্যের সাবলীল বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, স্বীয় পুত্র যবেহ না হয়ে দুম্বা যবেহ হওয়ার মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।



কোরবানির উদ্দেশ্য :

    কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদত করার জন্যে। তাই আল্লাহ তাআলার বিধান তাঁর নির্দেশিত পথে পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আমি জিন ও মানুষকে এ জন্যে সৃষ্টি করেছি যে, তারা শুধু আমার ইবাদত করবে। [সূরা আয্যারিয়াত-৫৬]। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোরবানির বিধান আমাদের উপর আসার বেশ কিছূ উদ্দেশ্যও রয়েছে :

    ১. শর্তহীন আনুগত্য : আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাহকে যে কোনো আদেশ দেয়ার ইখতিয়ার রাখেন এবং বান্দাহ তা পালন করতে বাধ্য। তাই তাঁর আনুগত্য হবে শর্তহীন। আল্লাহর আদেশ সহজ হোক আর কঠিন হোক তা পালন করার বিষয়ে একই মন-মানসিকতা থাকতে হবে এবং আল্লাহর হুকুম মানার বিষয়ে মায়া-মমতা প্রতিবন্ধক হতে পারে না। ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর আনুগত্য ছিল শর্তহীন। এ জন্যে মহান আল্লাহ যেভাবে বিশ্ব মানবম-লীকে বিভিন্ন জাতিতে বিভক্ত করেছেন ঠিক সেভাবে সর্বশেষ জাতি হিসেবে মুসলিম জাতির পিতাও মনোনয়ন দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে : এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত; তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম। [সূরা আল-হাজ্জ : ৭৮]।

    ২. তাকওয়া অর্জন : তাকওয়া অর্জন ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না। একজন মুসলিমের অন্যতম চাওয়া হলো আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন। পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কোরবানি দাতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্যে যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে। [সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭]

    ৩. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা : প্রত্যেক ইবাদাতই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। তাই কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্যে যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে। [সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭]।

    ৪. ত্যাগ করার মহান পরীক্ষা : কোরবানির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি করা। আল্লাহর বিধান পালনে জান-মালের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। কোরবানির ঈদকে গোশত খাওয়ার অনুষ্ঠানে পরিণত করা নয়, বরং নিজেদের মধ্যকার পশুসুলভ আচরণ ত্যাগ করার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে। নফসের আনুগত্য ত্যাগ করে আল্লাহর একান্ত অনুগত হওয়াই কোরবানির উদ্দেশ্য। আমি তোমাদেরকে অবশ্যই ভয়, দারিদ্র্য, সম্পদ ও জীবনের ক্ষয়ক্ষতি করার মাধ্যমে পরীক্ষা করবো। [সূরা আল-বাকারাহ : ১৫৫]।



কোরবানির ফযিলত :

    ১. কোরবানিদাতা কোরবানির পশুর জবাইর মাধ্যমে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বাস্তবায়ন করতে পারে। আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আমরা মহাকোরবানির বিনিময়ে তাকে মুক্ত করেছি। [সূরা আস-সাফফাত : ১০৭] এ আয়াতের তাফসীরে তাফসীর বিশারদগণ উল্লেখ করেছেন, সকল কোরবানি এ মহাকোরবানির অন্তর্ভুক্ত। এজন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ ইবনে আরকাম বর্ণিত হাদীসেও কোরবানিকে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর সুন্নাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ২. কোরবানির রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো এজন্যে যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে। [সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭]।

    ৩. কোরবানি আল্লাহ তাআলার অন্যতম নিদর্শন। সূরা হজ্জের ৩৬নং আয়াতে আল্লাহ বলেন- কোরবানির উটসমূহকে আমরা তোমাদের জন্যে আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম করেছি। তোমাদের জন্যে যাতে কল্যাণ রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দ-ায়মান অবস্থা এগুলোর উপর তোমরা আল্লাহর নাম স্মরণ করো আর যখন কাত হয়ে পড়ে যায় তখন সেগুলো হতে খাও। আর আহার করাও ধৈর্য্যশীল অভাবী ও ভিক্ষাকারী অভাবগ্রস্তকে এভাবে আমি ওদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। এ আয়াতে কোরবানির ফযিলত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা



হয়েছে এবং কোরবানির পশুকে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    ৪. পশু দ্বারা কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর যিকির বা স্মরণের বাস্তবায়ন করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে। [সূরা আল-হাজ্জ : ৩৪]।

    ৫. কোরবানির প্রবাহিত রক্ত আল্লাহ তাআলার কাছে দুটি কুচকুচে কালো ছাগলের চেয়ে প্রিয় ও পবিত্র। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোরবানির প্রবাহিত রক্ত আল্লাহ তাআলার কাছে দুটি কুচকুচে কালো ছাগলের চেয়ে অধিক প্রিয়। [সুনান বায়হাকী]

    ৬. ইসলামে হাজ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইবাদত। হজ্জের সাথে কোরবানির অনেক বিষয় জড়িত। হাজীগণ এ দিনে তাদের পশু যবেহ করে হজ্জকে পূর্ণ করেন। এ জন্যে এর নাম হল শ্রেষ্ঠ হজের দিন। হাদীসে এসেছে, ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন জিজ্ঞেস করলেন এটা কোন্ দিন? সাহাবাগণ উত্তর দিলেন এটা ইয়াওমুন্নাহর বা কোরবানির দিন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা হলো ইয়াওমুল হাজ্জিল আকবার বা শ্রেষ্ঠ হজের দিন। [সুনান আবু দাউদ]।

    ৭. কোরবানির মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়। সমাজে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার জন্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রেরণা তৈরি হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আলে ইমরান : ১০৩]।

    ৮. কোরবানিতে গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়। যারা বছরে একবারও গোশ্ত খেতে পারে না, তারাও গোশ্ত খাবার সুযোগ পায়। দারিদ্র বিমোচনেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কোরবানির চামড়ার টাকা গরিবের মাঝে বণ্টন করার মাধ্যমে গরিব-দুঃখী মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। অপরদিকে কোরবানির চামড়া অর্থনীতিতে একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে।



কোরবানির পশু :

    ১. কোরবানির পশু উৎসর্গ করা হবে কেবল এক আল্লাহর উদ্দেশ্যে, অন্য করো জন্যে নয়, কেননা কোরবানি হচ্ছে ইবাদত। তিনি বলেন, বলুন! আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে, তাঁর কোনো শরীক নেই, আর আমি এর জন্যেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম। [সূরা আল-আনআম : ১৬২-১৬৩]।

    ২. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কোরবানির পশু উৎসর্গ বা যবেহ করা যাবে না, বরং এ প্রকার কাজ শির্ক। এ ব্যাপারে কঠোর শাস্তির বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে পশু যবেহ করে আল্লাহ তার উপর লানত করেন। [সহীহ মুসলিম]।

    ৩. এমন পশু দ্বারা কোরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা। এগুলোকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় বাহীমাতুল আনআম। যেমন ইরশাদ হয়েছে : আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদেরকে জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে। [সূরা আল-হাজ্জ : ৩৪]। ]

    ৪. শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দু বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের। হাদীসে এসেছে, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্যে দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কোরবানি করতে পার। [মুসলিম- ১৯৬৩]।

    ৫. গুণগত দিক দিয়ে উত্তম হল কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হওয়া। কোরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। যেমন হাদীসে এসেছে, বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন আর আমার হাত তার হাতের চেয়েও ছোট; তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েয হবে না। (অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না) অন্ধ; যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত; যার কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে গেছে। নাসায়ির বর্ণনায় আহত শব্দের স্থলে পাগল উল্লেখ আছে। [তিরমিযি-১৫৪৬, নাসায়ি- ৪৩৭১, হাদিসটি সহীহ]।

    ৬. উট ও গরু-মহিষে সাত ভাগে কোরবানি দেয়া যায়। যেমন হাদীসে এসেছে, জাবের ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উট ও গরু দ্বারা সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা বৈধ। [ইব্ন মাজাহ-৩১৩২]।

    ৭. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে কোরবানি করা জায়েয। প্রকৃতপক্ষে কোরবানির প্রচলন জীবিত ব্যক্তিদের জন্যে। যেমন আমরা দেখি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাগণ নিজেদের পক্ষে কোরবানি করেছেন। অনেকের ধারণা কোরবানি শুধু মৃত ব্যক্তিদের জন্যে করা হবে। এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। তবে মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ হতে কোরবানি করা জায়েয আছে। কোরবানি এক প্রকার সদকাহ। আর মৃত ব্যক্তির নামে যেমন সাদাকাহ করা যায় তেমনি তার পক্ষ হতে কোরবানিও দেয়া যায়।



কোরবানির পশু যবেহ :

    ১. কোরবানিদাতা নিজের কোরবানির পশু নিজেই যবেহ করবেন, যদি তিনি ভালোভাবে যবেহ করতে পারেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যবেহ করেছেন। আর যবেহ করা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। তাই প্রত্যেকের নিজের কোরবানি নিজে যবেহ করার চেষ্টা করা উচিত। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের মেয়েদের নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেন নিজ হাতে নিজেদের কোরবানির পশু যবেহ করেন। [ফাতহুল বারী ১০/২১]

    ২. কোরবানির পশু যবেহ করার দায়িত্ব নিজে না পারলে অন্যকে অর্পণ করা জায়েয আছে। কেননা সহীহ মুসলিমের হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেষট্টিটি কোরবানির পশু নিজ হাতে যবেহ করে বাকিগুলো যবেহ করার দায়িত্ব আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অর্পণ করেছেন। [সহীহ মুসলিম- ১২১৮]।

    ৩. কোরবানির পশু যবেহ করার সময় তার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে, তাকে আরাম দিতে হবে। যাতে পশু কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। হাদীসে এসেছে, শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুটি বিষয় আমি মুখস্থ করেছি, তিনি বলেছেন : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সকল বিষয়ে সকলের সাথে সুন্দর ও কল্যাণকর আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব তোমরা যখন হত্যা করবে তখন সুন্দরভাবে করবে আর যখন যবেহ করবে তখনও তা সুন্দরভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা যবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। [সহীহ মুসলিম-১৯৫৫]।

    ৪. যবেহ করার সময় তাকবীর ও বিসমিল্লাহ বলা। যেমন হাদিসে এসেছে, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : আর তার কাছে একটি দুম্বা আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে যবেহ করলেন এবং বললেন বিসমিল্লাহ ওয়া আল্লাহু আকবার, হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মাঝে যারা কোরবানি করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে। [আবু দাউদ : ২৮১০]

    অন্য হাদীসে এসেছে, আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি শিংওয়ালা ভেড়া যবেহ করলেন, তখন বিসমিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বললেন। [সহীহ বুখারী]।

    ৫. যবেহ করার সময় যার পক্ষ থেকে কোরবানি করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ করে দোআ করা জায়েয আছে। এভাবে বলা, হে আল্লাহ তুমি অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করে নাও। যেমন হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দুম্বা যবেহ করার সময় বললেন : আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজন এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করে নিন। [মুসলিম- ১৯৬৭]।

    ৬. ঈদের সালাত আদায় ও খুতবা শেষ হওয়ার পর পশু যবেহ করা। কেননা হাদীসে এসেছে, জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিন সালাত আদায় করলেন অতঃপর খুতবা দিলেন তারপর পশু যবেহ করলেন। [সহীহ আল-বুখারী : ৯৮৫]।



কোরবানির গোশত :

    ১. কোরবানির গোশত কোরবানিদাতা ও তার পরিবারের সদস্যরা খেতে পারবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুঃস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও। [সূরা আল-হজ্জ : ২৮]

    ২. উলামায়ে কিরাম বলেছেন, কোরবানির গোশত তিন ভাগ করে একভাগ নিজেরা খাওয়া, এক ভাগ দরিদ্রদের দান করা ও এক ভাগ উপহার হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের দান করা মুস্তাহাব।

    ৩. কোরবানির গোশত যতদিন ইচ্ছা ততদিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে। কোরবানির গোশত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর। [সহীহ আল-বুখারী : ৫৫৬৯]।



    ৪. কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি বা অন্য কোনো কিছু বিক্রি করা জায়েয নেই। কসাই বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেয়া জায়েয নয়। হাদিসে এসেছে : আর তা প্রস্তুতকরণে তা থেকে কিছু দেয়া হবে না। [বুখারী-১৭১৬] তবে দান বা উপহার হিসেবে কসাইকে কিছু দিলে তা না-জায়েয হবে না।



কোরবানির সময়কাল :

    কোরবানির শেষ সময় হচ্ছে যিলহজ মাসের তের তারিখের সূর্যাস্তের সাথে সাথে। অতএব কোরবানির পশু যবেহ করার সময় হলো চার দিন। কোরবানি ঈদের দিন এবং ঈদের পরবর্তী তিনদিন অর্থাৎ যিলহজ মাসের দশ, এগার, বার ও তের তারিখ। এটাই উলামায়ে কেরামের নিকট সর্বোত্তম মত হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে। কারণ, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদের চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিযিক হিসেবে দান করেছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। [সূরা আল-হাজ্ব : ২৮] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন : এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনগুলো বলতে বুঝায়, কোরবানির দিন ও তার পরবর্তী তিন দিন। [ফাতহুল বারী, ২য় খ-, পৃ-৫৬১] অতএব এ দিনগুলো আল্লাহ তাআলা কোরবানির পশু যবেহ করার জন্যে নির্ধারণ করেছেন। এ ব্যাপারে জুবাইর ইবন মুতইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আইয়ামে তাশরীকের প্রতিদিন যবেহ করা যায়। [মুসনাদ আহমদ- ৪/৮২, হাদিসটি সহীহ]আর আইয়ামে তাশরীক সম্পর্কে বলা হয়, আইয়ামে তাশরীক বলতে এগার, বার ও তের যিলহাজ্জকে বুঝায়। তবে কারো কারো মতে, কোরবানি ঈদের দিন এবং ঈদের পরবর্তী দুই দিন করা যায়।

    

কার উপর কোরবানি আবশ্যক?

    কোরবানির পশু যবেহ করতে আর্থিকভাবে সামর্থবান ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব। সামর্থবান কাকে বলা হবে এ বিষয়ে ওলামায়ে কিরামের মতপার্থক্য রয়েছে।

    ১. হানাফী মাযহাবের আলেমদের মতে, ব্যক্তিগত আসবাবপত্র ও ঈদের দিনগুলোর মধ্যে খাওয়া-দাওয়ার অতিরিক্ত যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের উপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

    ২. একদল আলেমের মতে, ঈদের দিনগুলোতে কোরবানির পশু খরিদ করার মতো অর্থ যার কাছে রয়েছে সে কোরবানি আদায় করবে। (তাবয়ীনুল হাক্বাইক-৩/৬, শারহ আর-রিসালাহ-পৃ : ৩৬৭, হাশিয়াতুল বাজুরী ২/৩০৪, কাশ্শাফুল কিনা ৩/১৮)। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস দ্বিতীয় মতটিকে শক্তিশালী করে। হাদীসে এসেছে : যে কোরবানি করার মত আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করে সে যদি কোরবানি না করে তবে সে যেন আমাদের ইদগাহে না আসে। এতে প্রমাণিত হয়েছে কোরবানির পশু যবেহ করার স্বচ্ছলতাই এর জন্যে অন্যতম শর্ত। কোরবানির জন্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত নয়।

    

কোরবানিদাতার করণীয় :

    ১. শুধু কোরবানির গোশত খাওয়ার জন্যে কোরবানির পশু যবেহ করা নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার কোরবানি করবেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : আর যে কেউ সালাতের পূর্বে নাহর করবে বা যবেহ করবে, সে তো তার পরিবার বর্গের জন্যে গোশতের ব্যবস্থা করলো, কোরবানির কিছু আদায় হলো না। [সহীহ বুখারী : ৯৬৫]

    ২. কোরবানিদাতা ঈদের চাঁদ দেখার পর স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত বিরত থাকবেন। হাদীসে এসেছে, উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মাঝে যে কোরবানি করার ইচ্ছে করে সে যেন যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। ইমাম মুসলিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

    ৩. কোরবানির দ্বারা পরিবেশ দূষিত হয় এমন কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সুতরাং পশুর রক্ত মাটি দ্বারা ঢেকে দেয়া, ময়লা, আবর্জনা সরিয়ে ফেলা একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার তাওফীক দিন। আমীন।



লেখক : প্রভাষক (আরবি), মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ, চাঁদপুর।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৫৪৬২
পুরোন সংখ্যা