চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
হয়তো তমার জন্যে
সোহেল নওরোজ
২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মোতাহার চরম আবেগী একজন মানুষ। আবেগের বেগ মাপার যন্ত্র থাকলে তাতে সর্বোচ্চ রিডিং পাওয়া যেতো। আবেগ নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা হলে তাতেও পদক জিততো। অনেকদিন বাদে বন্ধু মোতাহারকে ফেসবুকে খুঁজে পেয়েছি। পুরোনো বন্ধুদের ফেসবুকে দেখলে বুকের মধ্যে একটা কই মাছের অস্তিত্ব টের পাই। মাছটা আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। চোখ বলে 'পাইছি তোরে' আর মন বলে 'খাইছি তোরে'! বন্ধু মোতাহারের ওপর 'খাইছি তোরে' ভাব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট পাঠালাম। পাছে যদি চিনতে না পারে তাই ইনবঙ্ েমেসেজ দিয়ে রাখলাম। মেসেজে যা লিখলাম, তা পড়ে বন্ধু আমার কোনোভাবেই স্থির থাকতে পারবে না। এমনও হতে পারে পুরনো বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল! অতি আবেগে কি না হয়!



আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেই ক্ষ্যান্ত হলো না, মোতাহার আমার ফেসবুকের পরিচয় নিয়ে রীতিমতো সন্দেহ প্রকাশ করে চরমভাবে অপমান-অপদস্থ করল। 'যদি সত্যিই আমার বন্ধু হোস আর বুকে সাহস থাকে তো ফোনে কল দে!' মোতাহারের কথা আমাকে এতটাই আঘাত করল যে মোবাইল ফোন ভেবে টেলিভিশনের রিমোট চাপতে লাগলাম। অন বাটনে চাপ পড়তেই টেলিভিশন চালু হয়ে গেল। আমি বিস্মিত হলাম এই ভেবে যে, মুঠোফোন দিয়েও আজকাল টেলিভিশন চালু করা যায়! আমার ভুল ভাঙাতে টপাক করে মুঠোফোনের মেসেঞ্জারে আরেকটা ক্ষুদে বার্তা আগমনের শব্দ বেজে উঠল। এটাও মোতাহার পাঠিয়েছে, 'আমার সাথে নাটক করিস! আমাকে তোর নাটকের দর্শক মনে হয়? বন্ধু বলে বস্ন্যাকমেইল করতে চাস? তোকে আজ উচিত শিক্ষা দেবো।' এমনিতেই পড়াশোনা করতে করতে জীবনটা তেজপাতা করে ফেলেছি, তার ওপর বন্ধুর কাছ থেকে 'উচিত শিক্ষা' পেলে কী হবে ভাবতেই গা শিউরে উঠল। তড়িঘড়ি করে ওর নম্বরে ফোন দিলাম।



হ্যালো মোতাহার, আমি সেলিম বলছি। তোর বন্ধু।



সেলিম বুঝব ক্যামনে? ফেসবুক আইডির কোথাও তো সেলিম নাম নাই?



ইচ্ছা করেই দিইনি।



বাপ-মায়ের দেওয়া নাম ভালো লাগে না, তাই না? ডার্লিংয়ের দেওয়া নামে আইডি খুলেছিস!



তুই বুঝলি ক্যামনে?



আমি ওই কোর্স শেষ করে এসেছি দোস্ত। তমার কথা শুনে আমিও একই কাজ করেছিলাম। নিজের ভুল বুঝতে পেরে এখন লাইনে এসেছি। তুইও লাইনে আই।



তোকে যখন পেয়ে গেছি, তখন লাইনে না ফিরে উপায় আছে!



তমার কথা মনে পড়তেই কলেজের দিনগুলোতে ফ্ল্যাশব্যাক করলাম। মোতাহার তমাকে একটু বেশিই পছন্দ করতো। তার সবকিছুতেই মুগ্ধ হয়ে যেত। ক্লাসের মধ্যে হাঁচি দিলেও আমাদের ডেকে দেখাত, 'দেখেছিস হাঁচি দেয়ার ভঙ্গি কত সুন্দর! এমন সুন্দর ভঙ্গিতে হাঁচি দিতে আগে কাউকে দেখিনি।' তমার সব বিষয়ে তুমুল উৎসাহ ছিলো ওর। মেয়েরা আবার বেশি উৎসাহী ছেলেদের পছন্দ করে না। মোতাহারকেও তেমন পাত্তা দিত না। কিন্তু মোতাহার চুম্বকের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়ে এক মেরু ধরে রেখে অপর মেরুর পিছনে লেগে থাকল। দিনের বেলার কথা বাদ দিলাম, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলেও বেসুরো গলায় জেমসের 'সুন্দরী তমা আমার' গানটা গেয়ে উঠত। একবার তমার জন্মদিন উপলক্ষে দিন-রাত পরিশ্রম করে, খেয়ে না-খেয়ে যেসব গানে 'তমা' শব্দ আছে সেগুলো একত্র করে ক্যাসেটে রেকর্ড করল। সেই ক্যাসেট অবশ্য তার পক্ষ থেকে তমার হাতে পেঁৗছায়নি। তমাকে দেওয়ার জন্য আরেক বন্ধুর শরণাপন্ন হয়েছিল। যার কাছে দিয়েছিল সে নাকি ক্যাসেটটি হারিয়ে ফেলেছিল! আসলে মোতাহারের কষ্টের ধন পিঁপড়ার বদলে ফারুক খেয়েছিল। ক্যাসেট ঠিকই তমার হাতে পড়েছিল, শুধু প্রেরকের জায়গায় মোতাহারের বদলে ফারুকের নাম লেখা ছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই ফারুকের সঙ্গে তমার চরম ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়ে।



 



মোতাহারের তখন চেয়ে চেয়ে দেখার দিন চলছে। তবু তমার জন্য আর কী কী করা যায়, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু করল। এক ক্যাসেটে যদি তমা এভাবে ফারুকের ঘনিষ্ঠ হতে পারে, তবে সে এমন কিছু করবে যাতে জীবনভর তমা তার পিছু পিছু ঘুরবে। এবার আর কোনো মাধ্যম নয়, সে নিজেই তমার কাছের মানুষ হওয়ার মিশনে নেমে পড়ল। রাত জেগে তমার জন্য নোট তৈরি করা, প্র্যাকটিক্যাল খাতা লিখে দেওয়াসহ যতভাবে পারা যায় চেষ্টা চালিয়ে গেল। 'তোমার ঋণ কখনো শোধ হবে না' জাতীয় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তমা সেগুলো সানন্দে গ্রহণ করত। যার প্রভাব পড়ল পরীক্ষার ফলাফলে। তমার রেজাল্টের গ্রাফ যতটা ঊর্ধ্বমুখী ঠিক ততটাই নিম্নমুখী হলো মোতাহারের রেজাল্টের গ্রাফ। একবার তো কোরবানির গরু কিনতে বাড়ির কাজের লোকের সঙ্গে মোতাহারকে পাঠিয়েছিল। সে বিয়ের শপিং করতে যাওয়ার মতো আনন্দচিত্তে বেছে বেছে সুন্দর নাদুস-নুদুস একটা গরু কিনে দিল। তমাদের বাড়ি থেকেও মোতাহারের জন্য প্রশংসা জুটেছিল।



 



মেয়েদের ভালো রেজাল্টের প্রভাব অনেক জায়গায় পড়ে। তমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হলো না। প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হলো। মোতাহারের মতো কাজে পটু একটা ছেলে থাকলে বিয়ের ঝামেলা পানি হয়ে যায়। তমার বাবা-মায়ের অনুরোধ ফেলতে না পেরে সে বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিল। বর-কনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় মোতাহারের বুকটা সত্যিই ফেটে যাচ্ছিল। এতদিনে সে মমতাজের গানের মর্ম উপলব্ধি করল। বিয়ের কিছুদিন পরেই তমাকে নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয় নতুন জামাই।



জানার ইচ্ছেটা সংবরণ করতে না পেরেই ওকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তমার সঙ্গে কী তোর যোগাযোগ আছে?'



না রে, কে রাখে কার খবর!



এখন কী করছিস্?



চাকরি বদল করতে করতে শেষ পর্যন্ত একটা সংস্থায় থিতু হয়েছি। এটাও তমার জন্যই। এখানে কাজ করে আমি শান্তি পাই।



ও কি এখানে থিতু হতে বলেছে নাকি তোকে তারা তমার কাছে পেঁৗছে দেবে?



ঘটনা তা না। সংস্থাটি প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে। এখানে যা-ই করি না কেন মনে হয় এর সুবিধা তমাও তো পাচ্ছে! মন্দ কী বল!



 



ভালো-মন্দ বলার ঝুঁকিতে যেতে হয় না। পিংকির ফোন আসায় লাইন কেটে দিই। মেয়েরা ওয়েটিংয়ে থাকতে যেমন অপছন্দ করে, তেমনি ছেলেদের ওয়েটিংয়ে রাখতে ভালোবাসে। খেয়াল হলো, ওর বাবার সঙ্গে কোরবানির গরু কিনতে যাওয়ার কথা। মোতাহারের সঙ্গে কথা বলার পর এখন আর উৎসাহ পাচ্ছি না। এটাও নিশ্চয়ই তমার জন্য!



 



লেখক : গল্পকার।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৩১৭
পুরোন সংখ্যা