চাঁদপুর, বুধবার ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


দাবি যথাসময়ে, তবে বিলম্বিত নিষেধাজ্ঞা
০৮ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:১১:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হবার পর মধ্য মার্চে রাজধানীর বাইরে মাদারীপুর জেলার শিবচরে এই সংক্রমণের ব্যাপকতা লক্ষ্য করে সেখানে লকডাউন করা হয়। এমতাবস্থায় চাঁদপুর শহরবাসী আতঙ্কিত হয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী শরীয়তপুর এবং সংলগ্ন মাদারীপুর জেলার সাথে চাঁদপুর জেলার সকল প্রকার নৌ যোগাযোগ বন্ধের দাবি জানায়। কিন্তু এ দাবি আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে মাদারীপুরে সংক্রমিত এলাকা থেকে আত্মীয়তা, ব্যবসায়িক ও অন্যান্য সূত্রে লোকজন চাঁদপুরে যাতায়াত করেছে। অতি সম্প্রতি শরীয়তপুরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হবার পর চাঁদপুর জেলা পুলিশের টনক নড়েছে। টনক নড়া ছাড়া উপায় নেই এ কারণে যে, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর যেনো একই বৃন্তে দুটি ফুলের মতো। শরীয়তপুরের লোকজন তাদের জেলা সদরে যেতে যতোটা না পছন্দ করে, তারচে’ বেশি পছন্দ করে চাঁদপুর জেলা সদরে আসতে। তার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ নৌযোগাযোগ। এছাড়া চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যে বিদ্যমান ফেরির কারণেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। শরীয়তপুরের সংক্রমিত এলাকা থেকে নৌ যোগাযোগের কারণে লোকজন সরাসরি চাঁদপুরে চলে আসাটা স্বাভাবিক। শরীয়তপুরের লোকজন মারাত্মক অসুস্থ হলে তারা চাঁদপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসে সর্বাগ্রে। শরীয়তপুরের অসংখ্য লোকজনের স্থায়ী বসতি রয়েছে চাঁদপুরে। সে কারণে এবং আত্মীয়তা সূত্রে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের লোকজনের মধ্যে যাতায়াত অস্বাভাবিক বেশি।

    এ সকল বাস্তবতা মাথায় রেখে চাঁদপুর জেলাকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে চাঁদপুর জেলা পুলিশ গত ৬ এপ্রিল সোমবার থেকে চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী অর্থাৎ সব ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এজন্যে চাঁদপুর শহরে মেঘনা ও ডাকাতিয়া তীরে শরীয়তপুরগামী নৌযানগুলোর যতো ঘাট আছে, সেসব ঘাটে, নদী বন্দরে ও পুরাণবাজারে মাইকিং করে ব্যবসায়ী, নৌযানযাত্রী ও মাঝি-মাল্লাদের সতর্ক করেছে। এ ব্যাপারে চাঁদপুরে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অব কমার্সকেও অবহিত করা হয়েছে।

    আমরা চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌযোগাযোগে বিলম্বিত নিষেধাজ্ঞার জন্যে জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই, যদিও এর কম-বেশি পরিণতি সময়ান্তরে টের পাওয়া যাবে। সাথে সাথে দেশের আরেকটি সংক্রমিত এলাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে নৌপথে ও সড়কযোগে যাতে কেউ চাঁদপুরে যাতায়াত করতে না পারে সে ব্যাপারে জেলা পুলিশের সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, জেলা পুলিশের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সর্বোত্তম সহযোগিতা করতে পারে। কেননা তাদের প্রধান কর্মক্ষেত্রই হচ্ছে নদী। বর্তমানে চাঁদপুরের মেঘনা ও শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় দু মাসব্যাপী অভয়াশ্রম চলছে। এই অভয়াশ্রম কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সর্বাত্মক তৎপরতার ওপর। তারা তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখলে নদীতে যেমন কোনো অসাধু জেলে জাল ফেলতে পারবে না, তেমনি চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যে কোনো নৌযান চলতে পারবে না। নারায়ণগঞ্জ থেকেও নৌযানযোগে চাঁদপুর কেউ আসতে পারবে না। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারার কাজটি ভালোভাবে হবে। আমরা এ ব্যাপারে জেলা পুলিশকে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন করার জন্যে জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৯৩৪৯২
পুরোন সংখ্যা