চাঁদপুর, শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


এমন খুঁটির জোরে আছে গোপন সন্ধি ও প্রশ্রয়
০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৫৭:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+




    প্রতি বছর ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুমাস চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের নির্দিষ্ট কিছু নদীতে অভয়াশ্রম কর্মসূচি পালিত হয়। এ কর্মসূচি চলাকালে সকল প্রকার মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালিত হয় কিনা সেজন্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকে। বিগত বছরগুলোতে এই দায়িত্ব পালনে কম-বেশি তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশি^ক মহামারীর প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ অনেক বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সেজন্যে জাটকা নিধন প্রতিরোধে শুধুমাত্র মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ অন্যান্য বছরের ন্যায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। ইতিমধ্যে অভয়াশ্রম কর্মসূচির অর্ধেকের বেশি সময় কেটে গেলেও সাড়া জাগানো সাফল্যে সচেতন মহলে আশার সঞ্চার হচ্ছে না। এর ফরস্বরূপ নেতিবাচক সংবাদে হতাশা দেখা দিয়েছে সর্বত্র। গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় এমন হতাশাব্যঞ্জক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটির শিরোনাম হয়েছে ‘মেঘনায় জাটকা নিধন : আমিন দিদার ও মোজাম্মেলের খুঁটির জোর কোথায়?’ এ সংবাদে আলুরবাজার ও নরসিংহপুর পুলিশ ফাঁড়ির আশেপাশে উপরোক্ত দু ব্যক্তির নেতৃত্বে ১০-১৫টি জেলে নৌকা কতোটা নির্বিঘেœ জাটকাসহ অন্যান্য মাছ নিধন করছে তার নাতিদীর্ঘ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

    ১ এপ্রিল বুধবার চাঁদপুর কণ্ঠের শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে প্রাগুক্ত সংবাদের অনুরূপ আরেকটি হতাশাব্যঞ্জক সংবাদ। এ সংবাদের শিরোনাম হয়েছে ‘পুরাণবাজার হরিসভা বাঁধ ও রণাগোয়াল খালে কারেন্ট জালসহ ৫০ নৌকায় জাটকা ও ইলিশ নিধন’। এ সংবাদে লিখা হয়েছে, যুবলীগ নেতা শাহাদত পাটোয়ারী, রফিক শেখ এবং বিএনপি নেতা শাহজাহান গাজী ও লিটন গাজীর আড়তের জেলেরা কীভাবে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় জাটকাসহ অন্যান্য মাছ ধরছে। এরা শুধু জাটকাই ধরে না, নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশও ধরে। এরা প্রভাবশালী বলে এদের বিরুদ্ধে সাহস করে কথা বলে না। অজ্ঞাত কারণে এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে এবং খুঁটির জোর প্রদর্শন করে। সচেতন মহল মনে করেন, হরিসভা ও রণাগোয়াল ঘাটের জেলে নৌকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং চিহ্নিত কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে অভয়াশ্রম চলাকালে মেঘনায় অবৈধভাবে জাটকাসহ অন্যান্য মাছ ধরা ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হতো।

    আমরা মনে করি, আমিন দিদার, মোজাম্মেল, শাহাদত পাটোয়ারী, রফিক শেখ, শাহজাহান গাজী ও লিটন গাজীসহ কিছু লোক জাটকা ও মা ইলিশ নিধনসহ অন্যান্য অবৈধ কাজ করে শক্তিধর কারো না কারো আশ্রয়-প্রশ্রয়ে। এজন্যে আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের সাথে গোপন সন্ধি অবশ্যই যথাসময়ে সম্পাদিত হয়। এক পর্যায়ে এমন সন্ধির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হয়ে যায়। এজন্যে এরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে। আর ধরা পড়ে বিপথগামী প্রলুব্ধ হওয়া কিছু জেলে, যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রাপ্ত ব্যক্তির ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার এমন কিছু জেলে ধরা পড়ে যাদের কাছে জেল-জরিমানার কষ্টের চেয়ে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষুধার কষ্ট ও অন্যান্য কষ্টকে বিভীষিকার মতো মনে হয়। সেজন্যে ভালো-মন্দ বিচার না করে এরা বেপরোয়া হয়ে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে নামে এবং জাটকা ও মা ইলিশের সর্বনাশ সাধন করে। আমরা জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার কর্মসূচি চলাকালে আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রাপ্ত ব্যক্তিদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করা এবং এ ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৭৫৯৮২
পুরোন সংখ্যা