চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪। ইহা এইজন্য যে, উহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিল, এবং কেহ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করিলে আল্লাহ তো শাস্তিদানে কঠোর।


 


 


আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রসঙ্গে
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জীবন কানাই চক্রবর্তী। বয়স হবে তাঁর প্রায় আশি বছর। চাঁদপুর জেলার মানুষের কাছে তিনি বিভিন্ন পরিচয়ে পরিচিত। এককালের তুখোড় রাজনীতিবিদ, পেশায় শিক্ষক জীবন কানাই চক্রবর্তী বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। তিনি চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন বলে একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিও বটেন। তাঁর সুযোগ্য ছাত্র চাঁদপুর পৌরসভার সর্বশেষ চেয়ারম্যান এবং প্রথম মেয়র আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাশ (অবঃ), চাঁদপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি ও জেলা বিএমএ'র সাবেক সভাপতি, সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মোঃ এ.কিউ.রুহুল আমিনসহ দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত তাঁর অসংখ্য ছাত্র রয়েছে। একজন আদর্শবান জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে তাঁর সুপরিচিতি ছিলো ঈর্ষণীয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় ধরে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃৃতিক সংগঠন 'সংগীত নিকেতনে'র মাধ্যমে তিনি এ জেলার সংস্কৃতির ভিতকে করেছেন অনেক মজবুত। উপরোক্ত সকল পরিচয়ের বাইরে তাঁর সবচে' মূল্যবান পরিচয় হচ্ছে, তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি অপরাপর সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে 'তথ্যমন্ত্রী' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পরিচয়টি তিনি খুব বেশি অনুরোধ না জানালে সাধারণত দিতে চান না। এক্ষেত্রে তিনি নিভৃতচারী। তাকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু লিখতে বললে, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে বললে তিনি বার বার এড়িয়ে যান, এমনকি বক্তৃতা দিতে বললেও অপারগতা স্বীকার করেন। তারপরও অনুরুদ্ধ হয়ে তাঁকে কখনও কখনও কিছু বলতে হয়। যেমনটি তিনি বলেছেন গত ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুুর মুক্ত দিবসে।



১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা নিশ্চিত পরাজয় অাঁচ করতে পেরে পালিয়ে গেলে চাঁদপুর মুক্ত হয়। এ দিনটি চাঁদপুর জেলাবাসীর জন্যে অত্যন্ত গুরুত্ববহ আনন্দঘন দিন। প্রতি বছর এ দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। ১৯৯২ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় মেলা চালু হবার পর এ দিবসটি মেলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যাপন করা হয়। এবারও উদ্যাপন করা হয়। সে উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জীবন কানাই চক্রবর্তীকে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সারাদেশে কোথায় কী ঘটছে সেটি দেখে কষ্ট পেলেও বেশি কষ্ট পাই যখন দেখি নিজের জেলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়। চাঁদপুরের সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বেশি উচ্চারিত হয় না, অথচ ভুয়াদের নিয়ে বেশি মাতামাতি হয়। তিনি চাঁদপুর মুক্ত দিবস প্রসঙ্গে বলেন, সেদিন মিত্র বাহিনীর ট্যাংক নিয়ে আমি চাঁদপুরে ঢুকি। অথচ আমি জীবিত থাকাবস্থায়ই এ বিষয়ে মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে। বাবুরহাট থেকেও কেউ কেউ ট্যাংকে উঠেছেন, এমন কথা শুনে হাসি পায়।



জনাব জীবন কানাই চক্রবর্তীর মতো মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে চাঁদপুর মুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে আমরা বিজয় মেলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। সাথে সাথে এ কথাও বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে নিভৃতচারী থেকে জীবন কানাই চক্রবর্তীর মতো আরো কিছু লোক মুক্তিযুদ্ধের নামে সুবিধাভোগী ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ইতিহাস বিকৃতি ও আস্ফালন করার সুযোগ দিয়েছেন। এরা মিথ্যা কথা বার বার বলে সেটাকে সত্যের রূপ দিতে চায়। এমন প্রেক্ষাপটে দেরিতে হলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের অভিমান, রাগ ইত্যাদি ভুলে সত্যোচ্চারণে এগিয়ে আসা উচিত, যেমনটি জীবন কানাই চক্রবর্তী এসেছেন। আমরা এজন্যে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই। তিনি সুস্থতার সাথে দীর্ঘজীবন লাভ করুন-স্রষ্টার দরবারে এ প্রার্থনা জানাই।



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৮৩৫৯
পুরোন সংখ্যা