চাঁদপুর, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৪। যাহারা কার্পণ্য করে ও মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয় এবং যে মুখ ফিরাইয়া লয় সে জানিয়া রাখুক আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।


 


 


 


 


 


আমরা বই পড়ে মানুষ চিনতে পারি না। -ডিজরেইলি।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
লঞ্চের কেবিন নিয়ে ভাবনা
০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিভিন্ন রূটে চলাচলকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটগুলোতে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজিতে অগ্রিম বুকিংয়ে আগ্রহী যাত্রীরা সব সময় আসন সঙ্কটই দেখে থাকেন। এভাবে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ওরা বাড়তি আয়ের ফন্দি ফিকির করেন। কিন্তু বিমানে ভ্রমণ করতে গেলে দেখা যায়, অনেক আসনই ফাঁকা। সেজন্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অকপটে বলেই ফেলেছেন, অগ্রিম বুকিং দিতে গিয়ে যাত্রীরা বিমানের টিকেট না পেলেও ফ্লাইটগুলোতে ঠিকই অনেক আসন ফাঁকা দেখা যায়। চাঁদপুর-ঢাকা নৌরূটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর অধিকাংশেই কর্মচারীদের কারসাজিতে কেবিন সঙ্কট সৃষ্টি করে রাখা হয়। এমন লঞ্চগুলোতে কোনো ভদ্র বেশী যাত্রী কেবিন চাইলে কেবিন পান না, এমনকি বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীর প্রয়োজনেও কেবিন পাওয়া যায় না। তবে প্রেমিক-প্রেমিকা ও পরকীয়ায় আসক্ত পুরুষ-নারী এমন লঞ্চে নির্দিষ্ট ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত দিয়ে ঠিকই কেবিন পেয়ে যায়। এদেরকে লঞ্চ কর্মচারীরা ভালো করেই চেনে। কোনো কোনো কর্মচারী নিজেই কেরানীকে কেবিনের পুরো ভাড়ার টাকা পরিশোধ করে টিকেট ও কেবিনের চাবি নিয়ে নেয় এবং তারপর বেশি ভাড়ায় অপকর্মকারীদের নিকট সে টিকেট ও চাবি হস্তান্তর করে। মাঝে মাঝে কাঙ্ক্ষিত যাত্রী না পেয়ে এমন অসাধু কর্মচারীকে ফেরিওয়ালার মতো ডেকে ডেকে কম মূল্যে কেবিনের টিকেট বিক্রি করতেও দেখা যায়।



চাঁদপুর-ঢাকা-চাঁদপুর নৌরূটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর অধিকাংশেই নিরিবিলি পরিবেশের কিছু নির্দিষ্ট কেবিন অনৈতিক সম্পর্কের চর্চা এবং অসামাজিক কাজের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। লঞ্চে কোনো পুলিশ বা আনসার না থাকায় লঞ্চের ক'জন অসাধু কেরানী ও কিছু কর্মচারী উক্ত কেবিনগুলোকে অনেকটা বেশ্যালয় বানিয়ে ফেলেছে বলে কিছু বিক্ষুব্ধ যাত্রী এবং পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকাসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো মহল থেকেই এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়নি। ইতঃমধ্যে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের পর ধর্ষকের নদীতে ঝাঁপ দেয়াসহ বহু ধরনের ঘটনা ঘটলেও কারো কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছে না।



সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর কণ্ঠের সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে যে, ৩০ অক্টোবর চাঁদপুর-ঢাকা নৌরূটে চলাচলকারী একটি লঞ্চের কেবিনে ফরিদগঞ্জের এক ষষ্ঠ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর অপহরণকারী কর্তৃক দুবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতা এই ছাত্রীটি গত ৫ নভেম্বর আদালতে এ ব্যাপারে জবানবন্দি দিয়েছে।



আমরা এ সম্পাদকীয় নিবন্ধে চাঁদপুর-ঢাকা নৌরূটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর অধিকাংশের কেবিনে যে অসামাজিক আপত্তিকর কাজ ওপেন সিক্রেট পদ্ধতিতে নির্বিঘ্নে চলে এবং এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক কিছু ব্যবস্থাগ্রহণের মাধ্যমে যে সেটা বন্ধ করা যায় সেজন্যে নৌপুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনকে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেগুলো অরণ্যে রোদন বলেই মনে হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, এ পরামর্শগুলো কাজে না লাগানোর পরিণতিতে একদিন এমন ভয়াবহ কিছু ঘটবে, যাতে শুধু নৌ পুলিশ নয়, লঞ্চ মালিক ও কর্মচারী নয়, আরো অনেকেই প্রচণ্ড ভাবে নড়ে উঠবে।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৯৩২২৮১
    পুরোন সংখ্যা