চাঁদপুর, বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
এমন চিত্র অনেক সপ্রাবির, তারপরও...
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর কণ্ঠের হাজীগঞ্জ ব্যুরো ইনচার্জ কামরুজ্জামান টুটুল তাঁর অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে বিশেষ সংবাদ পরিবেশন করেছেন, যার শিরোনামটি পড়ে পাঠককে থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। এ সংবাদটির সারাংশ হচ্ছে : হাজীগঞ্জ উপজেলার ১২৯নং সিহিরচোঁ মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে অনেক কম-মাত্র ৫৮ জন। এদেরকে পাঠদানের জন্যে নিয়োজিত ৫ জন শিক্ষককে সরকার বছরে বেতন দিচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং আরো দিচ্ছে আনুষঙ্গিক সুবিধাদি। কিন্তু শিক্ষকগণ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলছেন। আর নিকটবর্তী একটি মাদ্রাসার শিক্ষকগণ ও গভর্নিং বডির লোকজন সক্রিয়তার পরিচয় দিয়ে ওই সপ্রাবির ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিশুদেরকে মাদ্রাসা শিক্ষার দিকে ধাবিত করে চলছেন। সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক একদিকে বলছেন, এলাকায় জন্মহার কম এবং সেজন্যে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে; অন্যদিকে বলছেন, এলাকাবাসী মাদ্রাসামুখী হওয়ার কারণে তারা তাদের বাচ্চাদের নিকটবর্তী ফাযিল মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছে। সপ্রাবির এসএমসির সভাপতিও বললেন প্রায় একই কথা। আর অভিভাবকরা বলেছেন, বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখার মান ভালো না, সেজন্যে এলাকার সচেতন লোকজন তাদের সন্তানদের নিকটবর্তী মাদ্রাসা ও পার্শ্ববর্তী অন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করাচ্ছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেছেন, এসএমসির সদস্য, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে বসে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগামী শিক্ষাবর্ষে এই সপ্রাবিতে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি করা হবে।



সত্যি কথা বলতে কি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সপ্রাবি)-এর এমন চিত্র কেবল হাজীগঞ্জেই রয়েছে এমনটি কিন্তু নয়। খোদ চাঁদপুর শহরেও রয়েছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসএমসির সদস্যদের কারো কারো রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট, এমনকি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কারো কারো তদবিরের জোরে কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারছে না। এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, চাঁদপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কিছু সপ্রাবির সুনাম ও ভালো ফলাফলের জোরে শত শত সপ্রাবির দুর্নাম ও খারাপ ফলাফল চাপা পড়ছে। এমন সপ্রাবির সাথে সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করতে গেলে তাদের কেউ কেউ মন্ত্রী-এমপি-সচিবের ফোনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শাসায়, বদলির হুমকি সহ নানা হুমকি দেয়, যাতে বুক ফাটলেও অনেকে মুখ ফাটিয়ে কথা বলার সাহস দেখান না।



সপ্রাবির এমন চিত্র হতাশাব্যঞ্জক, আপত্তিকর। প্রধান শিক্ষকদের মাসিক মিটিং, ক্লাস্টার মিটিং ও প্রশিক্ষণ সমূহে প্রশিক্ষকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচ্চারিত আপ্ত বাক্যসমূহের কতোটুকু প্রতিফলন বাস্তবে ঘটছে তা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারগণ দেখার কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকই তাদের পাত্তা দেন না। কখনো ম্যানেজ করেন, ক্ষমতা প্রদর্শন করেন কিংবা সমিতির প্রভাবসহ অন্যান্য ক্ষমতা দেখিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখার প্রয়াস চালান। এমতাবস্থায় এসব অফিসার প্রকৃত দায়িত্ব পালন করতে পারেন না এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান রক্ষায় কিংবা উন্নয়নে কার্যত ফলপ্রসূ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন না। প্রশ্ন হলো : এমন অবস্থা আর কতোদিন চলবে? কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের আশা করা কি খুব বেশি কিছু হয়ে যাবে?



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৮৫৫০
পুরোন সংখ্যা