চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আলোচিত জয়ন্তী চক্রবর্তীরর খুনি আটক, ১৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় চাঁদপুর পিবিআই কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৪। মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায় ?


২৫। বস্তুত ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই।


২৬। আকাশে কত ফিরিশতা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর; যাহার জন্য ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।


 


 


 


assets/data_files/web

একজন অল্প বয়স্ক মেয়ে স্ত্রী হিসেবে অথবা মা হিসেবে কোনোটাতেই ভালো নয়। -নজ এডামস।


 


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


 


 


ফটো গ্যালারি
জখমের সত্যায়িত ফটোগ্রাফ প্রসঙ্গ
১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এক সময় একজন চিকিৎসক দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, যিনি রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের চাইতে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানে অধিক মনোযোগী ছিলেন। ধূমপায়ী ও মাদকাসক্ত এই চিকিৎসক ছিলেন কুখ্যাত জুয়াড়ী। তিনি চিকিৎসকদের একটি সংগঠনের শীর্ষ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। কেউ হাতাহাতি করে সামান্য ব্যথা পেলেও তিনি মেডিকেল সার্টিফিকেটে নীলা ফুলা, জখম ইত্যাদি ইচ্ছামত লিখে পকেটে টাকা ঢুকাতেন। এই চিকিৎসক তার মেডিকেল অফিসার পদবীর চাইতে মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) অফিসার হিসেবেই যেনো অনেক বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি অত্যধিক এমসি দেয়ায় প্রতিদিন যতোক্ষণ হাসপাতালে থাকতেন তারচে' বেশি কোর্টের বারান্দায় এবং কোর্টের ভেতরে থাকতেন। কারণ, এমসি প্রদানকারী হিসেবে তাকে বাদী সাক্ষী মানতো এবং তিনি সেমতে সাক্ষ্য দিতে কোর্টে যেতেন। মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে, এমসি দিয়ে তিনি অবৈধভাবে যা রোজগার করতেন, রাতে ক্লাবে গিয়ে জুয়া খেলে তা উড়িয়ে আসতেন। এটা যে কেবল এই চিকিৎসকই করেছেন এমনটি কিন্তু নয়। আরো অনেকে করেছেন এবং করছেন।



রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের তদবিরে যে সকল চিকিৎসক পছন্দের জায়গায় পোস্টিং নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করেন, হাসপাতালে ডিউটিকালীন সময়েও প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ ভাগ কমিশন প্রাপ্তির লোভে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করান, এমন চিকিৎসকরা তাদের তদবিরকারীদের অনুরোধে কিংবা চাপে মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) প্রদান করেন বেশি। আবার কোনো কোনো নিরীহ, সৎ চিকিৎসকও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুরোধে, চাপে পড়ে কিংবা চক্ষু লজ্জায় মিথ্যা তথ্য সম্বলিত মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করেন। এমসি প্রদানে চিকিৎসকদের কারো কারো এমন অসততা এবং অসহায়ত্ব সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা ও কোর্টের বিচারকগণ ঠিকই বুঝেন, কিন্তু এর প্রতিকারে যেনো কিছুই করতে পারছিলেন না। দীর্ঘদিন পর অবশেষে কিছু একটা করার উপায় খুঁজে বের করেছেন চাঁদপুরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে, যেটি চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরে আলম জানিয়েছেন গণমাধ্যমকে।



উক্ত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, মেডিকেল সার্টিফিকেটে জখমীর জখমের সঠিক তথ্য এবং বাস্তব অবস্থা সঠিকভাবে নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সেজন্যে আগামী ২১ জুলাই হতে সকল প্রকার জখমের মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) চিকিৎসককে জখমের ছবি বা ফটোগ্রাফ সত্যায়িত করেই তবে প্রদান করতে হবে। এমনটি না করলে সেই এমসি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রহণ করবেন না। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলম গণমাধ্যমকে বলেন, এমসির মাধ্যমে সিআর মামলা আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের আলোকে জখমের সত্যায়িত ফটোগ্রাফ ছাড়া কোনো এমসি গ্রহণ করবেন না।



জখমের সত্যায়িত ফটোগ্রাফ ব্যতীত মেডিকেল সার্টিফিকেট গ্রহণ না করার বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে গৃহীত সিদ্ধান্তকে সুধীজন ন্যায় বিচারের স্বার্থে খুবই ইতিবাচক বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ও হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ফাঁক ফোকর খুঁজে আবার কোনো মহল অপতৎপরতা চালায় কিনা সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানাতে চাই। কারণ, অনেক ইতিবাচকতা অপতৎপরতাকারীদের নেতিবাচকতার আবর্তে ঘুরপাক খায়। এমতাবস্থায় কারো কারো হতাশায় 'যথা পূর্বং তথা পরং' হয়ে যায়। আমরা উপরোক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাত্মক তদারকি, সতর্কতা ও আন্তরিকতা প্রত্যাশা করছি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৬৯৪৫৩
পুরোন সংখ্যা