চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কিংবদন্তীতুল্য সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর আর বেঁচে নেই। আজ ভোর ৪টায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।বাদ জুমা পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে বাসস্ট্যান্ড গোর-এ-গরিবা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
মৎস্য আইন, যথাযথ বাস্তবায়ন ও সচেতনতা
১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ (আইন) অধিশাখা দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৫ সালের মৎস্য আইন অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই আইনটি পাস হওয়ার তিন বছর পর এ বছর কার্যকর করেছে সরকার। গত দুই বছর শুধু চট্টগ্রামের বড় বড় ফিশিং জাহাজের জন্যে এই আইনটি কার্যকর ছিল। এ বছর গোটা উপকূলীয় জেলেদের ওপর বঙ্গোপসাগরে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর ফলে জেলেদের মাঝে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ঈদুত্তর ব্যস্ত সড়কসমূহে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরো কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দিয়েছেন। অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে অসহায় ও বেকার জেলেদের পুনর্বাসনে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা একেবারে অপর্যাপ্ত।



গত মার্চ ও এপ্রিল দু মাস চাঁদপুরের মেঘনা-পদ্মায় অভয়াশ্রম চলাকালে জেলেদের সকল ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিলো। যদিও সে নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্থল পুলিশ এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক অনেক সক্রিয় থাকলেও নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সক্রিয়তায় ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। দিনের আলোতে জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও রাতের অন্ধকারে বলা যায় উল্লেখযোগ্য কিছুই করা যায়নি। ফলে রাতে ধৃত বিপুল পরিমাণ জাটকা, পাঙ্গাশসহ অন্যান্য মাছ শহরের পাড়া-মহল্লাসহ গ্রামীণ জনপদে অবাধে বিক্রি হয়েছে। দামে তুলনামূলক সস্তা পেয়ে সীমিত আয়ের ভোক্তা সাধারণও সেটা কিনেছে। সরকারের অপর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার অভিযোগে উক্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনে জেলেদের বিরাট একটি অংশ বেপরোয়া ছিলো বলে প্রতীয়মান হয়েছে।



ভাগ্যিস, চলমান নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের জেলেরা পড়েনি। তবে প্রতিবেশী জেলা লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীসহ ফেণী, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, কঙ্বাজার ইত্যাদি সমুদ্র উপকূলীয় জেলাসমূহের জেলেরা ২০১৫ সালের মৎস্য আইনের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। যদি এই নিধেষাজ্ঞায় চাঁদপুরের জেলেরাও পড়তো তাহলে যে কী বেসামাল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হতো, তা গত মার্চ ও এপ্রিলের সংবাদচিত্র থেকে অনুমান করা যায়।



আমাদের দেশের মৎস্য বিজ্ঞানী ও মৎস্য গবেষকরা নিঃসন্দেহে দেশপ্রেম থেকেই দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বছরের বিভিন্ন সময়ে নদী ও সাগরে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপে নির্দিষ্ট আইনের আওতায় সরকারকে বাধ্য করে। সরকার নিশ্চয়ই মৎস্য বিজ্ঞানী ও মৎস্য গবেষকদের উত্থাপিত তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তিতে প্রলুব্ধ হয় এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নে উৎসাহী হয়ে উঠে। কিন্তু এই আইন বাস্তবায়নের জন্যে স্থানীয় প্রশাসন যন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকে বলে মনে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে অনেক ঘাটতিই পরিলক্ষিত হয়।



মৎস্য আইনসহ কিছু আইন বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া যাচাই, ব্যাপক জনমত সৃষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে যে পরিমাণ পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সরকার সেটি নেয় না কিংবা নানা কারণে নিতে পারে না। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবহারের জন্যে সাংবাদিক সমাজকে গতানুগতিক তাগিদ দেয়া হয় এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে সরকারি কিছু কর্মকর্তা এমনভাবে কথা বলেন, যেনো আইন বাস্তবায়নের মুখ্য দায়িত্ব সাংবাদিক সমাজসহ গণমাধ্যমেরই। প্রকৃতপক্ষে আইনের সঠিক প্রয়োগে সচেতনতা সৃষ্টিতে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের ব্যাপকভাবে সংশ্লিষ্ট করার অনিবার্যতা রয়েছে। সাথে সাথে আইন প্রয়োগের সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া আগাম যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের দূরদর্শিতা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় দেবার আবশ্যকতাও রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় না রেখে সরকার মৎস্য আইনসহ কিছু আইন নিছক বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কথায় দ্রুত প্রয়োগ করতে চাইলে সেটা কেবল চাপিয়ে দেয়ার সামিল, কখনো কখনো প্রহসনে পরিণত হওয়া এবং অনেকটাই অকার্যকর থাকার দোষে দুষ্ট হবে বলে আমরা মনে করি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭১০৩১৬
পুরোন সংখ্যা