চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৯-সূরা হুজুরাত


১৮ আয়াত, ২ রুকু, 'মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। যাহারা ঘরের বাহির হইতে তোমাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাহাদের অধিকাংশই নির্বোধ,


৫। তুমি বাহির হইয়া উহাদের নিকট আসা পর্যন্ত যদি উহারা ধৈর্য ধারণ করিত, তাহাই উহাদের জন্য উত্তম হইত। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


 


 


কোনো বড় কাজই উৎসাহ ছাড়া লাভ হয়নি। -ইমারসন।


 


 


 


নিঃসন্দেহে তিন প্রকার লোকের দোয়া কবুল হয়-পিতার দোয়া, মোসাফিরের দোয়া এবং অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া।


 


 


ফটো গ্যালারি
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না
২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শনিবার দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় ডান দিকের নিচে ডাবল কলামে একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে, যার শিরোনাম 'নূতন নিয়মে নামাজ পড়ানোর জের : জুমার নামাজের সময় মুসলি্লদের মারামারি প্রতিরোধের মুখে ইমামের পলায়ন'। পরদিন রোববার একই বিষয়ে সংবাদটির ফলোআপ হয়েছে, যার শিরোনাম 'জুমার নামাজের সময় এলাহী মসজিদে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা'। এই এলাহী মসজিদ হচ্ছে চাঁদপুর শহরের পূর্ব নাজিরপাড়া এলাকায়।



এ দুটি সংবাদ থেকে জানা যায়, মুসলমানদের মধ্যে ফেৎনা সৃষ্টিকারী আহলে হাদিসের অনুসারী মুজাফ্ফর বিন মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে গত ১৯ এপ্রিল শুক্রবার মসজিদে সদলবলে আসার আমন্ত্রণ জানান মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ সোহেল। সভাপতি নিয়মিত ইমামকে বসিয়ে রেখে মুজাফ্ফর নামের ওই ব্যক্তিকে নামাজ পড়াতে বলেন। তিনি নামাজ পড়াতে গিয়ে শত শত বছর ধরে প্রচলিত নিয়মকে বাদ দিয়ে নূতন নিয়মে খুৎবা হতে শুরু করে নামাজ পড়ানোর কাজ সম্পন্ন করেন। নূতন নিয়মের মধ্যে ছিলো-আরবির পরিবর্তে বাংলায় খুৎবা দেয়া, খুৎবার পূর্বে ছানি আজান না দেয়া, চার রাকাত কাবলাল জুমার পরিবর্তে দু রাকাত কাবলাল জুমার নামাজ পড়তে বলা, একামত দিতে না বলা ইত্যাদি। এই নূতন নিয়মে অনভ্যস্ত পুরানো মুসলি্লদের সাথে নামাজ আদায়ের পর পর সভাপতি সহ আহলে হাদিসের অনুসারী আগন্তুক মুসলি্লদের প্রথমে হট্টগোল হয় এবং পরে মারামারি বেঁধে যায়। এমতাবস্থায় বিতর্কিত ইমাম পালিয়ে যান। এ ঘটনার রেশ দীর্ঘক্ষণ থাকায় পুলিশ পাহারায় আসর নামাজ আদায় করতে হয় পুরানো মুসলি্লদের।



মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম আলহাজ্ব আবদুল মান্নান তালুকদার। তাঁর অবর্তমানে তাঁর পুত্র মোঃ ইয়াসিন তালুকদার হচ্ছেন এই মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী। তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, আমি এতোটুকুই বুঝি, বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যেভাবে নামাজ পড়ানো হয় আমাদের মসজিদেও সেভাবেই নামাজ পড়ানো হচ্ছিল এবং সব সময়ই হবে। তিনি মসজিদ কমিটির পরিবর্তনের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও এলাকাবাসী ও পাঞ্জেগানা মুসলি্লরা সবাই বর্তমান বিতর্কিত সভাপতির পরিবর্তন চান। কেননা তিনি ও তার ভাই গত শুক্রবারের ঘটনার মূল হোতা। তারা আগামী শুক্রবারও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর পাঁয়তারা করছেন বলে এলাকাবাসী ও মসজিদের নিয়মিত মুসলি্লদের আশঙ্কা। সেজন্যে এই মুসলি্লরাও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে তারা মনে করছেন। সাথে সাথে চাঁদপুর শহরের সচেতন সুধীবৃন্দও এমনটি মনে করছেন।



এই ঘটনা সম্পর্কে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন বলেছেন, আমরা গত শুক্রবার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বিষয়টিকে আমরা খতিয়ে দেখছি। তাঁর এমন বক্তব্যে শতভাগ আশ্বস্ত হবার মতো উপাদান নেই বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। সেজন্যে বিষয়টিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কিংবা তাঁদের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের নাক গলানোর যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। যদি আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল পূর্ব নাজিরপাড়া এলাহী মসজিদে জুমার নামাজ নূতন নিয়মে পড়ানোকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়ে হতাহতের মতো ঘটনাই ঘটে যায়, তখন জেলার এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনোরূপ দায় এড়াতে পারবেন বলে মনে হয় না। কাজেই যথাসময়ে তাঁদের যথার্থ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮৬৫৪১
পুরোন সংখ্যা