চাঁদপুর। বুধবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৮ ভাদ্র ১৪২৫। ১ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২১। জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবে : তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তাা বলবে : আল্লাহ, যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।

২২। তোমরা কিছু গোপন করতে না এই বিশ^াসে যে, তোমাদের কর্ণ, চক্ষু এবং ত্বক তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না- উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করতে তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


মহৎ আত্মাগুলি নীরবতায় ভোগে বেশি।                    

-বেন জনসন।


রাসূলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মনি।



 


ফটো গ্যালারি
স্বাগত হিজরি ১৪৪০
১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

নীল গগনে মহররম মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো নতুন হিজরি বর্ষের সূচনা। বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার সাক্ষী হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেলো ১৪৩৯ হিজরি। স্বাগত হিজরি নববর্ষ ১৪৪০।

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস হিসেবে আলাদা বৈশিষ্ট্যের দাবিদার হলেও এ মাসকে কেন্দ্র করে রয়েছে ঐতিহ্যম-িত নানা ঐতিহাসিক ঘটনা। সর্বশেষ ঘটনা যেটা ঘটবে তা হচ্ছে এ মাসের ১০ তারিখ মহাপ্রলয় তথা কিয়ামত সংঘটিত হবে। তবে বিশেষ করে মহররমের ১০ তারিখ অর্থাৎ আশুরার দিনে রয়েছে উল্লেখযোগ্য বহু ঘটনাপ্রবাহ। এগুলোর মধ্যে বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে কারবালার হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। যে স্মৃতি এখনো মানুষের আন্তরকে বিষাদের কালো মেঘে ঢেকে দেয়। আবার অন্যদিকে কারবালার ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষ এ শিক্ষা পায় যে, সত্যের উপর অবিচল থাকতে গিয়ে আমার শেষ বিদায় নির্মমভাবে হবে এটা নিশ্চিত জেনেও সত্য থেকে চুল পরিমাণও বিচ্যুত হওয়া যাবে না। তাইতো কারবালার শিক্ষা কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের উপর অবিচল থাকতে আর অত্যাচারী ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সৃষ্টির অদিকাল থেকে চলে আসছে সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্ব। আল্লাহর পরীক্ষিত বান্দারা এ সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যে স্বীকার করেছেন নজিরবিহীন ত্যাগ। ৬১ হিজরির ১০ মহররম এমন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয় দৌহিত্র বেহেশতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হোসাইন (রাঃ)। ইসলামের সুশোভিত বাগানকে স্বৈরাচার, দুরাচার ও পাপিষ্ঠ ইয়াজিদের খপ্পর থেকে রক্ষার জন্যে এদিন তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহচরদের নিয়ে ৭২ জনের ক্ষুদ্র অথচ ঈমানী তেজে উজ্জ্বীবিত দল বিশাল বাহিনীর সাথে লড়ে অবশেষে শাহাদাতের সুধা পান করেন। এ বিশাল আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি এ শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে, একজন মুসলমান মাত্রই অন্যায়, অবিচার, স্বেচ্ছাচার, জুলুম, অরাজকতা এবং

ইসলামবিরোধী কর্মকা-ের সাথে আপস করতে পারে না। অন্যায় ও জুলমকারী যত প্রভাবশালীই হোক, তার কাছে মাথা নত করা যাবে না।

দুরাত্মা ইয়াজিদের প্রেতাত্মারা বর্তমানেও বিশ্বে সক্রিয়। বিভিন্ন দেশে মুসলিম ও অসহায় নিরপরাধ মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়নে নিত্য নতুন কারবালার সৃষ্টি করছে। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, বসনিয়া, চেচনিয়ার পর মিয়ানমারের মুসলিমদের উপর সবচে নৃশংসতম বর্বর হত্যাযজ্ঞ চলছে। এ অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন রুখতে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কারবালার চেতনাকে ধারণ করতে হবে।

সর্বোপরি কারবালার ঘটনাপ্রবাহ আমাদের কী শিক্ষা দিচ্ছে তা গভীর থেকে গভীরতরভাবে অনুধাবন করতে হবে। সে ঘটনাপ্রবাহকে নানাভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কোনো অমুসলিম নয়, একদল মুসলমানের (বিপথগামী) হাতেই তো আহলে বাইত তথা নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশের প্রদীপগুলো একে একে শহীদ হলো। যে আহলে বাইতকে নবীজী হযরত নূহ (আঃ)-এর কিস্তির (নৌকা) সাথে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ হযরত নূহ (আঃ)-এর সময় যে মহাপ্লাবন হয়েছিলো তখন যারা হযরত নূহ নবীর নৌকায় আরোহন করেছে, তারাই সেদিন আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা পেয়েছে। তদ্রূপ নবীজীর আহলে বাইতকে যারা অনুসরণ, অনুকরণ ও মহব্বত করবে তারাই নাজাতপ্রাপ্ত হবে বলে প্রিয় নবী হাদিসে পাকে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। আর আল্লাহ পাক নিজেও কোরআন পাকে ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর লা'নত তথা অভিশাপ এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি"। এখন যারা ইমাম হোসাইন (রাঃ)সহ নবী বংশের আওলাদগণকে কারাবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ করেছে, তারা কি আল্লাহর এই ঘোষণার আওতায় পড়ে না? এর দ্বারা কি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কষ্ট পান নি? অতএব ইয়াজিদ বাহিনীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আল্লাহ নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। আর সেই ইয়াজিদ চরিত্রের মুসলমান অতীতে ছিলো, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে, নিজের ঈমান ও আমলকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৫৫৫০
পুরোন সংখ্যা