চাঁদপুর। বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮। ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫। ৩ জিলহজ ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৫। অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করলো।

৪৬। সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন





 


কোনো মহৎ লোকের জীবনই বৃথা যায় না।

-ডব্লিউ এস ল্যান্ডার।


মজুরের গায়ের ঘাম শুকাবার আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও।



 


ফটো গ্যালারি
জাতীয় শোক দিবসে প্রত্যাশা
১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ জাতীয় শোক দিবস। আমাদের জাতির জনকের সপরিবারে শাহাদাতবরণের দুঃসহ স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট এ দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকার ধানম-ীস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে স্ত্রী-পুত্র ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে অপরিসীম ভালোবেসে এবং অগাধ বিশ্বাস করে সরকারি বাসভবনে না থেকে নিজ বাসভবনে থাকতেন এবং ভাবতেন, আমি দেশের মানুষকে, জনগণকে যতোটা ভালোবাসি, তারাও আমাকে ততোটা ভালোবাসে। অতএব, তারা আমাকে কোনোদিন হত্যা করবে না, বড় জোর সমালোচনা করবে, দিকনির্দেশনা দিবে। এই ভালোবাসাই যে ছিলো তাঁর সবচে' বড় দুর্বলতা (যেটি তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন) এবং এ দুর্বলতা ও সরলতার পরিণতিতে যে তাঁকে শেষ পর্যন্ত নির্মমভাবে হত্যাকা-ের শিকার হতে হলো সেটা বিশ্লেষকদের মন্তব্যে প্রতিভাত হয়েছে।



আজ বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে। কিন্তু এভাবে শোক দিবস উদ্যাপনের সুযোগ পঁচাত্তর পরবর্তী বছরগুলোতে ছিলো না। প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন শুরু করে এবং পরবর্তীতে সেটি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর মতো কিছু রাষ্ট্রপ্রধান হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন, কিন্তু সে সকল দেশে এভাবে তাঁদের স্মরণে শোক দিবস পালিত হয় না। কারণ, বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সপরিবারে যেভাবে হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন, এমনটি অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্ষেত্রে হয়নি।



বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের দায় থেকে সংশ্লিষ্টদের মুক্তি দিতে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাসঘাতক সহচর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করেন। ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর উক্ত অধ্যাদেশ আইন হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাওয়া তো দূরের কথা, শোক দিবস পালনও ছিলো অসম্ভব। অনেকটা অনাড়ম্বরভাবে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হতো।



বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে। একই বছর বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চেয়ে ধানম-ী থানায় মামলা দায়ের করেন। সে মতে ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল তৃতীয় বিচারক মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২৫ দিন শুনানির পর ১২ জনের মৃত্যুদ-াদেশ নিশ্চিত করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বাদী-বিবাদীর আপিলের প্রেক্ষিতে চার দফায় রায় প্রকাশ হয়। সর্বশেষ আপিল বিভাগ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর থেকে টানা ২৯ কর্মদিবস শুনানি করার পর ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা বঙ্গবন্ধু হত্যকা-ের আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়। মৃত্যুদ-াদেশপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ছয়জন বিদেশে পালিয়ে রয়েছে।



১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় তাঁর দু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাসিত অবস্থায় বিদেশের মাটিতে কাটে তাঁদের কষ্টকর জীবন। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত ও শক্তিশালী করেন। যার ফলস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা-আদর্শ মুছে দেবার চক্রান্তকারীদের সকল উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা একবার নয় তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেননি, যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করেছেন। তিনি পিতৃবিয়োগের শোককে শক্তিতে পরিণত করে তাঁর পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যার সুস্বাস্থ্য, সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা নিরন্তর প্রত্যাশা করছি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৯০৯১
পুরোন সংখ্যা