চাঁদপুর । শুক্রবার ১৩ জুলাই ২০১৮ । ২৯ আষাঢ় ১৪২৫ । ২৮ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৪। বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহরই ইখতিয়ারে, আকাশম-লী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহরই, অতঃপর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হইবে’।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


দুষ্ট লোকেরা তাদের গড়া নরকেই বাস করে।

 টমাস ফুলার।


যারা অতি অভাবগ্রস্ত, দীন-দরিদ্র, কেবল তারা ভিক্ষা করতে পারে।



                       


ফটো গ্যালারি
পন্টুনবিহীন ঘাট এবং লঞ্চযাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় শত বছর ধরে ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল নৌরূটে ভারী নৌযান হিসেবে সরকারিভাবে স্টিমার সার্ভিস চালু আছে। এক সময় এই সার্ভিস ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল-খুলনা এবং চাঁদপুর-গোয়ালন্দ নৌরূটেও চালু ছিলো। নাব্যতা সঙ্কটের কারণে ঢাকা থেকে স্টিমার সার্ভিস বরিশালের পর ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা পেরিয়ে বড় জোর মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত যেতে পারে, খুলনা আর যেতে পারে না। সেজন্যে ঢাকা থেকে খুলনাগামী স্টিমার যাত্রীরা পিরোজপুরের হুলারহাট ঘাটে নেমে সড়কযোগে খুলনা যাতায়াত করে। এমতাবস্থায় ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত সরাসরি স্টিমার সার্ভিস আর টিকে নেই। অবিভক্ত ভারতে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সংক্ষিপ্ত যাতায়াতে চাঁদপুর-গোয়ালন্দ স্টিমার সার্ভিস ছিলো ভীষণ জনপ্রিয়। আসাম থেকে ট্রেনে চড়ে লোকজন চাঁদপুর আসতো এবং স্টেশন সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর ঘাট থেকে চাঁদপুর-গোয়ালন্দ স্টিমারে চড়তো, আর গোয়ালন্দে স্টিমার থেকে নেমে ট্রেনযোগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যেতো। ভারত বিভক্ত হবার পর ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাঁদপুর-গোয়ালন্দ স্টিমার সার্ভিসের অস্তিত্ব ছিলো। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর সে সার্ভিস চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।



সারাবিশ্বে হাতেগোণা যে ক'টি প্যাডেল স্টিমার আছে তার মধ্যে ২-৪টি আছে এখনও বাংলাদেশে। এগুলোর নাম হচ্ছে : মাসহুদ, অস্ট্রিচ, লেপচা ও টার্ন। এর মধ্যে সবচে' বড় হলো 'মাসহুদ' ও 'অস্ট্রিচ'। এ স্টিমার দুটি নির্মিত হয়েছিলো যথাক্রমে ১৯২৮ ও ১৯৩৮ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে। বড় বড় প্যাডেল দিয়ে নদীর পানি কেটে সামনের দিকে এগিয়ে যায় বলে এগুলোর নাম প্যাডেল স্টিমার। অজানা কারণে ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল রূটের প্যাডেল স্টিমারসহ অন্যান্য স্টিমার সার্ভিসের নাম হয়ে গেছে রকেট স্টিমার সাভিস। এই স্টিমার সার্ভিস দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ সকল শ্রেণীর নৌযাত্রীদের কাছে খুব জনপ্রিয়।



সরকারি এই স্টিমার সার্ভিসের বৈশিষ্ট্য হলো নির্দিষ্ট ঘাট ও যথাযথ পন্টুন ছাড়া থামে না এবং পন্টুনের সাথে দুপাশে শক্ত হাতলওয়ালা চওড়া সিঁড়ির সংযোগ নিশ্চিত করা ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করায় না। যার ফলে স্টিমার থেকে ওঠানামার সময় যাত্রীদের দুর্ঘটনা কবলিত হবার ঘটনা একেবারে বিরল। কিন্তু বিআইডবিস্নউটিএ'র আওতায় বেসরকারি লঞ্চ সার্ভিস যতোটাই চাকচিক্যময় ও বিলাসবহুল হোক না কেনো, যাত্রী ওঠনামার বিষয়টি স্টিমারের মতো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বড় বড় ঘাটে ছাউনিসহ বিস্তৃত পন্টুন থাকলেও ছোট ছোট ঘাটের কোনো কোনোটিতে পন্টুন আছে এবং কোনো কোনোটিতে পন্টুন মোটেও নেই। এমতাবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করে যাত্রীরা। চাঁদপুর



জেলার ভাঙ্গনবিপন্ন হাইমচর উপজেলায় এমন কিছু লঞ্চঘাট রয়েছে, যেগুলোতে পন্টুন নেই, যার ফলে যাত্রীদের বাধ্য



হয়ে লঞ্চঘাটে সরু কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে হয়। লঞ্চ কর্মচারীর হাত দিয়ে ধরে রাখা সরু বাঁশই থাকে এই সিঁড়ির নড়বড়ে হাতল, যে হাতল ও সিঁড়ি থেকে ফসকে পড়ে দুর্ঘটনা কবলিত হবার সম্ভাবনা থাকে বিদ্যমান। এ সংক্রান্ত সচিত্র একটি সংবাদ গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে ফলাও করে। এ সংবাদটি পড়ে সচেতন পাঠকমাত্রই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাথে সাথে আমরাও উদ্বিগ্ন।



এ উদ্বেগ নিরসনে বিআইডবিস্নউটিএ প্রতিটি লঞ্চঘাটে পন্টুন স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করুক-এটা যাত্রীসহ অন্য সকলের জোর দাবি। এ দাবি পূরণ করাটা যে সময়সাপেক্ষ সেটা বলার প্রয়োজন পড়ে না। এমতাবস্থায় লঞ্চগুলো যাাতে পন্টুনবিহীন ঘাটে দু পাশে শক্ত হাতলবিশিষ্ট মজবুত কাাঠের সিঁড়ি ব্যবহার করে যাত্রীদের ওঠানামা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা জারির জন্যে আমরা বিআইডবিস্নউটিএর নিকট সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যারা লঞ্চ বানাতে বা কিনতে পারেন, তারা তাদের ব্যবসার মূল উপাদান যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামার স্বার্থে হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি হাতলবিশিষ্ট মজবুত কাঠের সিঁড়ি জোগাড় করা খুব কঠিন কাজ নয়। আমাদের বিশ্বাস, এক্ষেত্রে আন্তরিকতাই যথেষ্ট, অর্থব্যয় বড় বাধা নয়।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩০৮৮০
পুরোন সংখ্যা