চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২০ জুন ২০১৭। ৬ আষাঢ় ১৪২৪। ২৪ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬১। যাহাকে আমি উত্তম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়াছি, যাহা সে পাইবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যাহাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার দিয়াছি, যাহাকে পরে কিয়ামতের দিন হাযির করা হইবে?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


দুষ্ট লোকেরা নিজেরাই নিজেদের নরক তৈরি করে।                                  -মিলটন।


 

বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কর্তৃক অভিনন্দিত হবেন।


আইনের লোকের আইন হাতে তোলা
২০ জুন, ২০১৭ ১৯:৩৬:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন জনগণকে সব সময় নসিহত করে বলে, অপরাধী যেই হোক, পারতপক্ষে তার গায়ে হাত তুলবেন না অর্থাৎ আইন হাতে তুলে নেবেন না। একজন অপরাধীকে মেরে বিক্ষুব্ধ লোকজন থানায় সোপর্দ করতে গেলে পুলিশ সাধারণত চিকিৎসা ছাড়া গ্রহণ করতে চায় না। কিন্তু এই পুলিশই কোনোভাবে প্রভাবিত হলে কিংবা ‘উপরে’র ইঙ্গিত বা নির্দেশ পেলে সন্দেহভাজন, চি‎িহ্নত অপরাধী, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে সুযোগ বুঝে মেরে ‘তক্তা’ বানিয়ে তবে ছাড়ে। মার খাওয়া এই লোক বা লোকেরা যদি নিরীহ হয়, তাহলে তা বিষের মতো হজম করে, আর বুক ফাটলেও মুখ ফাটে না। আর যদি সচেতন কিংবা কম-বেশি প্রভাবশালী হয়, তাহলে পুলিশের মার খেয়ে প্রতিবাদী হয়, পত্রপত্রিকা-টেলিভিশনে সংবাদ ছাপানোর ব্যবস্থা করে, সাংবাদিক সম্মেলন করে, এমনকি আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাও করে। আর মানবাধিকার সংগঠন সমূহ এমন পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় বিবৃতি দেয় এবং সব সময় সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘থার্ড ডিগ্রি মেথড’ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে তথা আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা পরিহার করার আহ্বান জানায়। 

চাঁদপুর জেলা ডিবি পুলিশ চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় জনৈক সাহাদাত হাওলদারকে ঘুম থেকে জাগিয়ে পুলিশ সুপারের কথা বলে তাদের অফিসে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে সাহাদাত পুলিশ সুপারকে দেখতে পাননি, দেখতে পেয়েছেন ডিবির ওসি মোস্তফা কামালকে। সাহাদাত অভিযোগ করে বলেন, তাকে মাটিতে উপুড় করে শুইয়ে একজন ডিবি পুলিশ তার পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, আর ওসি তার পাছায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। লাঠি ভেঙ্গে গেলে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করতে থাকলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। যদিও ওসি সাহেব সাহাদাতকে এমন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে সাহাদাতের ওপর শারীরিক এই নির্যাতনের চিত্র শুক্রবার ফেসবুকে ছাড়া হলে এটি নিয়ে তোলপাড় হয়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেছেন, এসপি স্যারের নজরে বিষয়টি আসায় তিনি আমাকে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

সর্বশেষ জানা যায়, চাঁদপুর মডেল থানায় গোবিন্দিয়া গ্রামের জনৈক মজিবুর রহমানের দায়েরকৃত এক মামলায় 

 

ডিবি পুলিশ সাহাদাতকে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠালেও জেল কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে পাঠায় এবং গত রোববার আদালত সাহাদাতের জামিন মঞ্জুর করে। জামিন পেয়ে সাহাদাত ও তার পরিবার তার ওপর ডিবি পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিকার চাইবে বলে জানিয়েছে। 

আমাদের বিশ্বাস, সাহাদাত হাওলাদার প্রতিকার চেয়ে তার ওপর ডিবি পুলিশের নির্যাতনের কারণ জানতে পারবে এবং পুলিশও পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত করে নিজ বিভাগের দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের উদ্যোগ নেবে। আর সাহাদাত হাওলাদার যদি অহেতুক ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে সাহাদাত হাওলাদারও রেহাই পাবে না বলে আমরা মনে করি। তবে এমন অভিযোগ ডিবি পুলিশের পক্ষে খ-ানো যে সহজ হবে না তার অনেক যৌক্তিক ভিত্তি আছে বলে সচেতন সকলের স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণেই ধরা পড়ে। আমরা জেলা পুলিশের ভাবমূতি উজ্জ্বল করতে সাহাদাত হাওলাদারের ওপর ডিবি পুলিশের নির্যাতনের যথাযথ কারণ অনুসন্ধানে স্বয়ং পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও মনিটরিং প্রত্যাশা করছি।  

 

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭২৫০১
পুরোন সংখ্যা