চাঁদপুর, সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
নারী মহাশক্তির আধার
বিবেকলাল মজুমদার
২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হিন্দু পুরাণে আছে, ভগবানব্রহ্মা মহিষাসুর দৈত্যের আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে বর দিতে চেয়েছিলেন, মহিষাসুর 'অমর' বর প্রার্থনা করেছিল, ব্রহ্মা সরাসরি অমরত্ব বর না দিয়ে বর দিলেন, বিশ্বব্রহ্মা-ের কোনো পুরুষের হাতে মহিষাসুরের মৃত্যু হবে না। ভগবানব্রহ্মা, যিনি বিশ্বব্রহ্মা- সৃষ্টি করেছেন, তার কাছ থেকে এমন বর পেয়ে মহিষাসুর ধরাকে সরাজ্ঞান করতে আরম্ভ করে। সে ধরেই নিয়েছিল যেহেতু নারীরা শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল এবং কোনো পুরুষের হাতে তার মৃত্যু নেই, তাই সে হবে অপরাজেয়, অমর। তার খুব ইচ্ছা হলো স্বর্গ-মর্ত্য জয় করার, দেবতাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে দিল, তার অত্যাচারে স্বর্গের দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। দেবরাজ ইন্দ্রকে পরাজিত করে মহিষাসুরের অত্যাচার দেবতাদের আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। এভাবেই মহিষাসুর অপরাজেয় এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে, এরপর সে স্বর্গের দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়ন করতে শুরু করে।



অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন, তারা ব্রহ্মার দেওয়া কঠিন বরের ভেতরেই আলো দেখতে পান। ব্রহ্মা বর দেওয়ার সময় বলেছিলেন, কোনো পুরুষের হাতে মহিষাসুরের মৃত্যু হবে না, এখানে নারীর কথা উহ্য রাখা হয়েছে। তার মানে নারীর হাতে মহিষাসুরের পরাস্ত হওয়ায় কোনো বাধা নেই। তখন 'ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিব'র আহ্বানে দশভুজা যে নারী মূর্তির আবির্ভাব হলো, তিনিই দেবী দুর্গা। যেহেতু মহাপরাক্রমশালী মহিষাসুরের সঙ্গে লড়তে হবে, দুই হাতে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেই দেবী দুর্গাকে দশ ভুজারূপে কল্পনা করা হয়েছে। দুর্গা আবির্ভূত হওয়ার পর দুর্গার দশ হাত মারণাস্ত্র দিয়ে সুসজ্জিত করে দেওয়া হলো। শিব দিলেন ত্রিশূল, বিষ্ণু দিলেন চক্র, ইন্দ্র দিলেন তীর ধনুক, তরবারি, ঢাল, বিষধর সর্প, তীক্ষ্ন কাঁটাওয়ালা শঙ্খ, বিদ্যুৎবাহী বজ্র শক্তি এবং একটি পদ্মফুল। দেবী দুর্গা এবং মহিষাসুরের মধ্যে দশ দিনব্যাপী মহাযুদ্ধ হয়েছিল, মহিষাসুরকে পরাস্ত করা রীতিমতো অসাধ্য হয়ে উঠেছিল, কারণ সে মায়ার খেলা জানত, দুর্গাকে বিভ্রান্ত করতে সে একেকবার একেক জন্তু-জানোয়ারের রূপ ধারণ করছিল, দেবী দুর্গার জন্য যুদ্ধ ভীষণ কঠিন হয়ে উঠে যখন অসুরের ক্ষতস্থান থেকে রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়া মাত্র সেখান থেকে একই চেহারার আরেকটি অসুর জন্ম নিচ্ছিল। এভাবে দুর্গার তরবারির কোপে রক্তাক্ত অসুরের প্রতি রক্তবিন্দু থেকে শত সহস্র অসুরের জন্ম হলো এবং দুর্গার দিকে ধেয়ে এলো। তখনই দেবী দুর্গা অন্য মূর্তি ধারণ করলেন, সে মূর্তির রূপ হলো আরও ভয়ঙ্কর, লম্বা জিভ, চার হস্ত কালী মূর্তি, যার প্রধান কাজই ছিল অসুরের রক্তবীজ মাটি স্পর্শ করার আগেই লম্বা জিভ বের করে চেটে খেয়ে ফেলা। এভাবেই রক্তবীজ থেকে অসুরের উৎপত্তি বন্ধ হয়ে গেল এবং যুদ্ধের দশম দিনে অসুর মহিষের রূপ নিয়েছিল, উপায়ান্তর না দেখে মহিষের দেহ থেকে বেরিয়ে এলো বিশালদেহী মানুষের রূপে, তখনই দেবী দুর্গার হাতের ত্রিশূল মহিষাসুরের বক্ষ্যভেদ করল। মহিষাসুরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্বর্গ, মর্ত্য, পাতালে শান্তি ফিরে এলো। স্বগের্র দেবতারা দেবী দুর্গার নামে জয়ধ্বনি করিলেন।



শরৎকালে পূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে দুর্গাপূজাকে 'শারদীয় দুর্গোৎসব' বলা হয়। মূল দুর্গাপূজা শুরু হয়েছিল বসন্তকালে, সেই পূজার আরেক নাম 'বাসন্তী পূজা'। হিন্দু পুরাণে আছে, শরৎকালীন দুর্গাপূজার প্রচলন হয় রামায়ণ যুগ থেকে। রাক্ষসরাজ রাবণ শ্রীরামের স্ত্রী সীতাদেবীকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে গেছিল, রাজা রাম স্ত্রী সীতাকে রাক্ষসরাজ রাবণের বন্দীশালা থেকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে 'দেবী চ-ি'রূপী দুর্গার পূজা করেছিলেন। ১০৮টি নীলপদ্ম এবং ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করেছিলেন। (রামায়ণে বর্ণিত আছে, ১০৭টি পদ্ম জোগাড় হয়েছিল, শ্রীরাম ছিলেন 'নীলনয়ন', উপায়ান্তর না দেখে শ্রীরাম নিজের একখানি চোখ দান করতে উদ্যত হয়েছিলেন, শ্রীরামের ভক্তিতে দেবী দুর্গা সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং শ্রীরামকে চোখ দান করা থেকে নিবৃত্ত করেন।) বসন্তকালের পরিবর্তে শরৎকালে দুর্গাপূজা করেছিল বলেই এ পূজাকে 'অকাল'বোধন বলা হয়।



বাংলায় শারদীয় দুর্গোৎসব কোথায় সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার সঠিক উত্তর জানা নেই। তবে দিনাজপুর এবং মালদার জমিদার বাংলায় সর্বপ্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন বলে জানা যায়। তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৬০৬ সালে তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ অথবা নদীয়া জেলার ভবানন্দ মজুমদার মহাশয় শরৎকালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। দুর্গাপূজার মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিতে নারীর ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, দুর্গাকে মাতৃরূপে বর্ণনার মাধ্যমে প্রথমত নারীর চিরন্তন মাতৃরূপকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, দুর্গা কর্তৃক মহিষাসুর বধের মাধ্যমে নারীকে মহাশক্তির আধার রূপে চিত্রিত করা হয়েছে। দুর্গাকে বলা হয়েছে সৃষ্টির প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক, সুরক্ষার প্রতীক, দুর্গার আদলেই নারীকে চিত্রিত করা হয়েছে। নারী সৃষ্টির প্রতীক, নারী সন্তান জন্ম দেয়, সন্তানের মুখে আহার তুলে দেয়, সন্তানকে প্রতিকূলতা থেকে সুরক্ষা করে, নারী সংসার গড়ে, সমাজ গড়ে, সমাজ-সংসারকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষাও করে, নারী বিপন্নকে আশ্রয় দেয়, নিরন্নকে অন্ন দান করে, এভাবেই নারী হয়ে ওঠে দুর্গার প্রতিমূর্তি। মূলত দশ দিনের উৎসব। শুরু হয় দেবীপক্ষে, শুরুর পবের্র নাম 'মহালয়া', মহালয়াতে দেবী দুর্গাকে পিত্রালয়ে আবাহন জানানো হয়। মহালয়ার পরের দিন দ্বিতীয়া, এভাবেই তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং দশমী। এ দশ দিনের মধ্যে মহালয়া এবং সপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী এবং দশমী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ষষ্ঠী পূজার দিনে দেবী দুর্গা চার ছেলেমেয়ে গণেশ, লক্ষ্মী, কার্তিক ও সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীতে আসেন, এই পৃথিবীতেই উনার পিতার বাড়ি। ষষ্ঠী পূজার সন্ধ্যায় মূলত মূর্তির উপর থেকে ঢাকা সরিয়ে দেওয়া হয়, কুমোর তুলির এক টানে দেবী দুর্গার চোখ আঁকেন, যাকে বলা হয় 'দৃষ্টিদান', এরপর শুরু হয় 'কল্পারম্ভ', 'বোধন', আমন্ত্রণ এবং অধিবাস। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা শেষে অনুষ্ঠিত দশমীবিহীত পূজা। যা বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। বিজয়া দশমী হচ্ছে দেবী দুর্গাকে ঘটা করে বিদায় সংবর্ধনা জানানো, পিত্রালয় থেকে চোখের জলে ভেসে দেবীর স্বামীগৃহে প্রত্যাবর্তনের দিন। দশমীতে ভক্তকুলের মনে বিষাদের ছায়া নেমে আসে, স্বর্গ থেকে মা এসেছিলেন তার সন্তানদের মাঝে, মা আবার ফিরে যাবেন স্বর্গে, এ ভেবে ভক্তকুলের চোখ ভিজে ওঠে, মন ভারি হয়। দশমী পূজার আয়োজনে আড়ম্বর থাকে না, মঙ্গলঘটের জলে দেবীকে প্রতীকী বিসর্জন দেওয়া হয়



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৯-সূরা নাযি 'আত


৪৬ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৩। ইহা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ,


১৪। তখনই ময়দানে উহাদের আবির্ভাব হইবে।


১৫। তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি?


১৬। যখন তাহার প্রতিপালক পবিত্র উপত্যকা তুওয়া-য় তাহাকে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিলেন,


 


 


সৌভাগ্য এবং প্রেম নির্ভীকের সঙ্গ ত্যাগ করে।


-ওভিড।


 


 


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে (অর্থাৎ মুসলমান বলে দাবি করে) সে ব্যক্তি যেন তার প্রতিবেশীর কোনো প্রকার অনিষ্ট না করে।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৮৩৭৮
পুরোন সংখ্যা