চাঁদপুর, শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ১১ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৩-সূরা মুয্যাম্মিল


২০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


 


২০। তোমার প্রতিপালক তো জানেন যে, তুমি জাগরণ কর কখনও রাত্রির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কখনও অর্ধাংশ এবং কখনও এক তৃতীয়াংশ এবং জাগে তোমার সংগে যাহারা আছে তাহাদের একটি দলও এবং আল্লাহই নির্ধারণ করেন দিবস ও রাত্রির পরিমাণ। তিনি জানেন যে, তোমরা ইহা পুরাপুরি পালন করিতে পারিবে না, অতএব আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হইয়াছেন। কাজেই কুরআনের যতটুকু আবৃত্তি করা তোমার জন্য সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর, আল্লাহ জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেহ কেহ অসুস্থ হইয়া পড়িবে, কেহ কেহ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশ ভ্রমণ করিবে এবং কেহ কেহ আল্লাহর পথে সংগ্রামে লিপ্ত হইবে। কাজেই তোমরা কুরআন হইতে যতটুকু সহজসাধ্য আবৃত্তি কর। অতএব সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহকে দাও উত্তম ঋণ। তোমরা তোমাদের নিজেদের মঙ্গলের জন্য ভাল যাহা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করিবে। তোমরা তাহা পাইবে আল্লাহর নিকট। উহা উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসাবে মহত্তর। আর তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


 


 


assets/data_files/web

জনসমর্থনহীন সরকারের পতন অবধারিত।


-জ্যোতি বসু।


 


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


ফটো গ্যালারি
মায়ের স্বপ্ন
অমৃত ফরহাদ
০৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অদৃষ্ট বঞ্চিত সুমাইয়া। পৃথিবীর কোনো কিছুর সাথে সে খাপ খেয়ে নিতে পারে না। যেখানে যায় সেখানে শুধু নেই আর নেই। তার জীবনটা শুধুই হতাশার। এ যেনো মহা হাহাকার। সবখানে কেবল শূন্যতা বিরাজ করে। তার স্বামী কঠিন এক রোগে মারা গেছে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে। একমাত্র ছেলে সুফিয়ানকে নিয়ে তার পথচলা। সুফিয়ান যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে তখন তার বাবা মারা যায়। তার বাবা বেশকিছু ভূমি রেখে যায়। কিন্তু তাতে কি হবে? একটা অনুষ্ঠান যেমন পরিচালক ছাড়া পরিকল্পনা করা যায় না। পরিচালক ছাড়া যেমন একটি সংগঠন চলে না। সরকার ছাড়া যেমন রাষ্ট্র চলে না। ঠিক তেমনি একজন অভিভাবক ছাড়া সংসারটিও ভালোভাবে চলে না। সুফিয়ানদের সংসারটাও পরিচালক ছাড়া চলছে কোনোরকম।



সুমাইয়া সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। মৌসুমী শস্য বিক্রি করে সে অর্থ দিয়ে টানা- হেঁচড়া করে কোনো রকমে সংসার চলে যাচ্ছে। আগের থেকে এখন সংসারের আয় কমে গেছে। কারণ শস্যের উৎপাদন কমে গেছে কয়েক গুণ। ৫/৬ বছর আগেও গাছভর্তি সুপারি ধরতো, এক একটি নারিকেল গাছে ২০/২৫টি নারিকেল ধরতো। এখন কি যে হয়েছে? আল্লাহ মালুম। মনে হয় কলি কাল চলে এসেছে। যে বছর শস্য উৎপাদন কম হয়, সে বছর খুব কষ্টেই কাটে সুমাইয়ার সংসার। সে সময় খেয়ে, না খেয়ে তাদের দিন চলে।



জন্মের পর প্রতিটি মানুষের জীবন কাটে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায়। কখনো সুখ আসে ক্ষণিকের জন্যে। হয়তো কারো জীবন চলে সুখের স্বর্গে। আর দুঃখ কারো জীবনে ভর করে থাকে মৃত্যু পর্যন্ত। সুখের কথা ভুলে গিয়ে দুঃখকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকতে হয় আমাদেরকে। কথা বলতে বলতে সুমাইয়ার চোখ পানিতে ভিজে যায়। মায়ের চোখে পানি দেখে সুফিয়ান প্রশ্ন করে, 'তুমি কাঁদছ মা'? মাকে শান্ত্বনা দিয়ে সে বলছে 'মা, হয়তো এটা বিশ্ব বিধাতার একটা অগি্নপরীক্ষা। মা আমাকে আর পড়ালেখা না করালে হয় না? সংসারের যে টানাপোড়ন; এ অবস্থায় কি আর পড়ালেখা হয়'?



-ও কথা বলো না বাবা। তোমাকে যে পড়ালেখা করতেই হবে। তোমার বাবার স্বপ্ন ছিলো তোমাকে পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবে। তুমি যেনো পৃথিবীকে জয় করতে পারো। তুমি যখন তা করতে পারবে, তখন দেখবে আমাদের আর অভাব-অনটন থাকবে না। মনে রাখবে বাবা, অন্ধকারের পরেই কিন্তু আলো ফুটে ওঠে। আর অন্ধকার আছে বলেই আলোর এতো নাম-দাম। সুখ-দুঃখ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।



মায়ের কথাগুলো গভীর মনোযোগ সহকারে শুনলো সুফিয়ান। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো একদিন সে বড় মানুষ হবে। মা-বাবার স্বপ্ন তাকে পূরণ করতেই হবে। মায়ের দু চোখের জল চিরতরে মুছে দিতে হবে। তাই সে পড়ালেখায় মনোযোগ দিয়েছে। সুফিয়ানের মেধা ভালো, ব্যবহারও ভালো। সব শিক্ষক তাকে ভালোবাসে, আদর করে। সুফিয়ান কিন্তু ডানপিটে ছেলে নয়। শান্ত স্বভাবের। সবসময় চুপচাপ থাকে। তার মুখে হাসি নেই। কি যেনো ভাবে সে। শিক্ষকেরা জানে তার বাবা নেই। তাদের সংসার অনেক কষ্টে চলে। তবুও এ বয়সের ছেলেরা চঞ্চল হয়। কদিন পরই বৃত্তি পরীক্ষা। সে একজন পরীক্ষার্থী। তার খরচটা স্কুলের এক হৃদয়বান শিক্ষক চালাবে। সুফিয়ান এখন দৈনিক সাত ঘণ্টা পড়ে। আগে পাঁচ ঘণ্টা পড়তো। বৃত্তি পরীক্ষার জন্যে দু ঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়েছে। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতে পড়ার চেষ্টা করে। মাঝে মাঝে এশার নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়া সম্ভব হয় না। কারণ তাদের বাড়ি থেকে মসজিদ প্রায় অর্ধ কিলোমিটার দূরে। তাই এশার নামাজ বাড়িতেই পড়া লাগে।



রাত এগারোটা। সমস্ত গ্রাম ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছে সে কখন। প্রাণিজগতের সব নিদ্রাদেবীর কোমল হাতের পরশে ঘুমে বিভোর। প্রকৃতি নিস্তব্ধ। শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার অবিরাম ধ্বনি ভেসে আসছে। সুফিয়ানের মাও ঘুমে অচেতন। শুধু সে একা রাত জেগে পড়ছে। সুফিয়ান শান্ত হলেও ভীতু নয়। সে ভূতে বিশ্বাসী নয়। তবে জি্বনে বিশ্বাসী। সময় রাত সাড়ে এগারটা ছুঁই ছুঁই করছে। সুফিয়ান ঘর থেকে বের হলো। ঘরের পাশেই পুকুর। সে এশার নামাজের অজু করতে পুকুরঘাটে যায়। প্রায় সময় সে এশার নামাজ এগারটার দিকে পড়ে। নামাজ শেষে সে আল্লাহর কাছে আবেগজড়িত একটি মোনাজাত ধরলো_'হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া তো এ বিশাল পৃথিবীতে আমাদের আর কেউ নেই। তুমি আমাকে শক্তি দাও। আমি যেনো সত্যকে জয় করতে পারি। তুমি তো দেখছো আমার মা কত কষ্ট করে আমার পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছে। আমার মায়ের স্বপ্নটুকু তুমি পূরণ করে দিয়ো। হে আল্লাহ; তুমি আমাকে দুনিয়া এবং আখিরাতের সমস্ত পরীক্ষা পাস করার তৌফিক দিও। আমিন! ছুম্মা আমিন।' নামাজ শেষে সুফিয়ান শুয়ে পড়লো। চিন্তা করতে করতে সে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে সে বৃত্তি পরীক্ষায় পাস করেছে।



তৌহিদ সুফিয়ানদের গ্রামের ছেলে। সেও খুব ভালো। বলতে গেলে তারা দুজন বিলাসপুর গ্রামের দুটি নক্ষত্র। তৌহিদ অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের দুজনের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক। তৌহিদ নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়ে। উপজেলা সদরে অবস্থিত 'সানিম পাঠাগার'র সদস্য সে। সেখানে গিয়ে পত্রিকা এবং সৃজনশীল বই পড়ে। স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। সেখানে সুফিয়ানের নাম দেখে তৌহিদ একটি পত্রিকা কিনে আনে। সে সুফিয়ানকে দেখে ডাক দেয়।



-আমাকে ডাকছেন কেনো ভাইয়া?



তৌহিদ পত্রিকা দেখিয়ে বলে 'এই দেখো তুমি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছ'।



আনন্দ আর আবেগে ভরে গেলো সুফিয়ানের মন। পত্রিকা নিয়ে সে বাড়ির দিকে দৌড় দিলো। মা-মা বলে চিৎকার করতে করতে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলো। ছেলের চিৎকার শুনে সুমাইয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায়।



-কী রে সুফিয়ান কি হয়েছে?



সুফিয়ান চিৎকার করে সে নিজেও ঘুম থেকে জেগে যায়। ঘুম থেকে জেগেও সে হাসতে থাকে। মাকে সে স্বপ্নে যা দেখেছে সব বললো।



-আল্লাহ যেনো তোর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।



সত্যি সত্যি সুফিয়ান ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। মা ছেলের কি যে আনন্দ! দীর্ঘ কষ্টের মাঝে যখন সুখ নামক সোনার হরিণটা ধরা দেয়, তখন এ পৃথিবীটাকে মনে হয় ফুলে ফুলে সাজানো স্বর্গ। সুফিয়ান প্রাথমিক স্কুলের গ-ি পেরিয়ে হাইস্কুলে পর্দাপণ করলো। একসময় দেখতে দেখতে পাঁচটি বছর কেটে যায়। যথারীতি সে এসএসসি পরীক্ষা দেয়।



প্রায় দশদিন ধরে সুমাইয়া অসুস্থ। সুফিয়ান টাকা ধার করে মাকে ডাক্তার দেখালো। কিন্তু সে কিছুতেই ভালো হচ্ছে না বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে।



-বাবা সুফিয়ান, আমার এ রোগ ভালো হবার নয়। কারণ, আমার পরকালের ডাক পড়েছে। পৃথিবীর কোনো ডাক্তারের সাধ্য নেই আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।



-মা তুমি এমনভাবে বলো না। আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না।



আজ দুপুরে একযোগে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানে এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ করবে। সুফিয়ান স্কুলে রওনা দিলো। কিছুক্ষণ পর ফলাফল প্রকাশ হলো। সুফিয়ান এ প্লাস পেয়েছে। খুশিতে সে আত্মহারা।



-যাই এ আনন্দের খবর আগে মাকে জানাই।



এদিকে সুমাইয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। শ্বাস নিতে তার কষ্ট হচ্ছে। তৃষ্ণায় তার বুক ফেটে যাচ্ছে। কি যেনো বলতে চায়। কিন্তু মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। শুধু দুটি বাক্য সবাই বুঝলো। 'আমার সুফিয়ান কই? তোমরা আমার সুফিয়ানকে দেইখো।' এ কথাটুকু বলেই সে পৃথিবীর সমস্ত মায়া-মমতা ত্যাগ করে চলে গেলো অনেক দূরে। যেখানে গেলে আর কেউ ফিরে আসে না।



সুফিয়ান বাড়ির রাস্তায় পা দিতেই কান্নার শব্দ শুনতে পায়। 'কি হয়েছে? আমার মায়ের কিছু হয়নি তো'? বাড়িতে ঢুকে দেখে বাড়ির সবাই একটি লাশের চার পাশে বসে কাঁদছে। একজন সুফিয়ানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, 'বাবারে তোর মা আর বেঁচে নেই।' সুফিয়ান মা বলে চিৎকার করে লাশের উপর লুটিয়ে পড়ে।



-'আমাকে একা রেখে কেনো চলে গেলে মা? কেনো গেলে? এই দেখো মা আমার রেজাল্ট বেরিয়েছে। তোমার ছেলে পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছে। দেখো মা দেখো। কথা বলছো না কেনো? আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাও'। আর কথা বলতে পারছে না সুফিয়ান। অচেতন হয়ে গেলো। সবাই ধরাধরি করে সুফিয়ানকে ঘরে নিয়ে শুইয়ে দিলো।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৯৭১৩
পুরোন সংখ্যা