চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৪ মে ২০২০, ৩১ বৈশাখ ১৪২৭, ২০ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৮-সূরা কালাম


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪৯। তাহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ তাহার নিকট না পেঁৗছিলে সে লাঞ্ছিত হইয়া নিক্ষিপ্ত হইত উন্মুক্ত প্রান্তরে।


৫০। পুনরায় তাহার প্রতিপালক তাহাকে মনোনীত করিলেন এবং তাহাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করিলেন।


 


 


 


 


উচ্চাশা যেখানে শেষ হয় সেখান থেকেই শান্তির শুরু হয়।


-ইয়ং


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশুদের রোজা পালনের বিধান
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
১৪ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মাহে রমজানে অনেক শিশুরা রোজা রাখার বায়না ধরে। সেহরির সময় জাগিয়ে না দিলে দিনের বেলা জেদ ধরে না খেয়ে রোজা রাখবে। এটা শিশুদের সখের বশে হতে পারে। আবার বাবা-মা, বাড়ির বড়রা রোজা পালন করছে তাদের দেখেও শিশুরা রোজা পালন করতে উদ্বুদ্ধ হয়। অনেক বাবা-মা শিশুদের রোজা পালন করতে উৎসাহ দেন। সাধারণত যে বয়সে শিশু রোজা পালনে সক্ষমতা অর্জন করে, সে বয়স থেকেই তাকে রোজা রাখতে দেয়া উচিত। শিশুর শারীরিক গঠনের ওপর রোজার বিষয়টা অনেকটাই নির্ভর করে। শারীরিক ভাবে দুর্বল ও বয়সে ছোট শিশুরা রোজা রাখতে চাইলে পিতা-মাতার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রোজার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।



আমরা আমাদের রোজাদার সন্তানদের জন্য উৎসাহমূলক বেশ কিছু কাজ করতে পারি। যেমন-রোজাদার সন্তানকে উপহার প্রদান করতে পারি, যাতে তারা রোজা পালনে অনুপ্রাণিত হয়। ইফতার প্রস্তুতির জন্য আমাদের বাচ্চাদের জড়িত রাখতে পারি। ইফতারে তাদের প্রিয় খাবারগুলো তৈরি করতে পারি।



সেহরি খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া না করে তাদেরকে আরাম করে খেতে দেই এবং আমাদের প্রথমবার রোজা রাখার কিছু অভিজ্ঞতা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। যাতে রোজা তাদের কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে। শিশুদের জন্য রোজাকে উপভোগ্য করার জন্য দাতব্যসেবা, দরিদ্র শিশুদের খাওয়ানো এবং পরিবারের সঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেয়ার মতো বিভিন্ন কর্মে তাদের জড়িত করতে পারি। এসব কাজে যদি আমরা আমাদের সন্তানদের জড়িত রাখি তবে তারা একটি নিয়ন্ত্রিত ও সমায়নুবর্তী পরিবেশের ছোঁয়া পাবে। শিশুরা সময়ের মূল্য বুঝার চেষ্টা করবে। সময় মতো সেহরি খাওয়া, সময় মতো ইফতার করা, সময় মতো নামাজ পড়া ইত্যাদি কাজগুলো তাকে ভবিষ্যতে সময়জ্ঞান লাভে সহায়তা করবে। সময়ের প্রতি শিশু শ্রদ্ধাশীল হবে।



আবার এমনও আছে শিশু রোজা রাখতে চায়। শিশুর শারীরিক সক্ষমতাও রয়েছে। কিন্তু পিতা-মাতা অতি আদর করে তাদের রোজা না রাখতে উৎসাহ দিয়ে থাকেন। কারণ হিসেবে তারা শিশুর স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবার বাহানা উপস্থিত করে থাকেন। এ অবস্থায় শিশুরা যখন বড় হয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হয় তখন তারা আর রোজা রাখতে চান না। তখন আবার ঐ পিতা-মাতাকে বলতে শুনেছি যে ছোট বেলা থেকে রোজা রেখে অভ্যাস নেই তো তাই এখন রাখতে পারে না। প্রকৃত পক্ষে শিশুদের ছোট বয়স থেকে সামর্থ অনুযায়ী রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া পিতা-মাতার একান্ত কর্তব্য। পবিত্র কুরআন সুন্নাহর মূলনীতি অনুযায়ী কেন রোযা পালন করতে হয় এবং এর জন্য কি পুরষ্কার রয়েছে সে সম্পর্কে সন্তানদেরকে বুঝাতে হবে। এটা পিতা-মাতার উপর অন্যতম দায়িত্ব। যখন আমাদের সন্তান রোজা পালনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার বুঝতে পারবে, কেবল তখনই তারা এটি পালনে উৎসাহিত হবে।



রমজান মাসে যে কোন মাসের তুলনায় একটু বেশি অবসর সময় পাওয়া যায়। সেজন্যে এ সময়টা সাংসারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তানদেরকে বাড়তি সময় দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে রোজার গুরুত্ব ও হক সম্পর্কে জানানো, রোজা রেখে ভালো আচরণ করা, অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করা, অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলা, অশালীন আচরণ কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা, কুরআন তিলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করা, সময়মতো নামাজ আদায়ে উৎসাহ দেয়া, সেহরি ও ইফতারের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়া এবং এ সংক্রান্ত কুরআন ও হাদিস থেকে পড়ে শোনানো ইত্যাদি।



কোন কোন অভিভাবকের ধারণা রোজা রাখলে শিশুর স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে। বাস্তবতা হলো- শিশু যদি রোজা রাখতে সক্ষম হয় তবে তাদের কোন ক্ষতি তো হয়ই না বরং অনেক উপকার হয়। রোজায় শিশুর হজম শক্তি বাড়ায়। সাধারণত যে সব শিশুরা অন্য সময় তেমন খেতে চায় না অর্থাৎ ক্ষুধামন্দায় ভোগে সেসব শিশুদের ক্ষুধামন্দা থাকে না। তবে সারাদিন রোজা রেখে শিশু যাতে দুর্বল না হয় তার যেন মিনারেল ও পুষ্টি ঠিক থাকে সে জন্য ইফতারের পর থেকে বেশি পরিমাণে পানি, শরবত, স্যালাইন পান করাতে হবে। পাশাপাশি রসাল ফল যেমন আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, কমলালেবু, মাল্টা, শসা ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে। তাদের অবশ্যই ফ্রিজের খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে। ইফতারের পর শিশুদের এক সাথে অনেক খাবার না খাইয়ে কিছুক্ষণ পর পর অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ালে তাদের হজমে সুবিধা হবে।



পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- সন্তানকে নিয়মিত ইসলামী রীতি নীতি তথা ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া। পাশাপাশি আমল ও ইবাদতের সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তোলা। সাহাবীগণ তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকে নামাজ-রোজায় অভ্যস্ত করাতেন, যেন তারা ছোট বয়স থেকে আল্লাহর নির্দেশ পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সন্তানকে উত্তম গুণাবলি ও ভালো কাজে অভ্যস্ত বানানোর জন্য মহানবী (সাঃ) বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। নামাজ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, 'তোমরা সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজ আদায়ের আদেশ করো। এ ব্যাপারে অবহেলা করলে ১০ বছর বয়সে তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।' (আবু দাউদ, হাদিস-৪৯৫)



শিশুদের রোজার অভ্যাস গড়ে তোলার ব্যাপারে মহানবী (সাঃ)-এর হাদিস। রুবাই বিনতে মুআবি্বজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- 'আশুরার সকালে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আনসারদের সব পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি সাওম পালন করেনি, সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে; আর যার সাওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সাওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবাই) (রাঃ) বলেন- পরবর্তী সময় আমরা ওই দিন সাওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সাওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ওই খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত। (সহীহ বুখারি, হাদিস-১৯৬০, সহীহ মুসলিম, হাদিস-১১৩৬)



আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানি (রহ.) লিখেছেন, ইবনে সিরিন, ইমাম জুহুরি ও ইমাম শাফেঈ (রহ.)সহ পূর্ববর্তী ইসলামী আইন শাস্ত্রবীদগণ শিশুদের রোজায় অভ্যস্ত করানোকে মুস্তাহাব ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মতে, নামাজের মতো সাত থেকে ১০ বছরের শিশুদের রোজায় অভ্যস্ত করানো যায়। (ফাতহুল বারি : ৫/৩)



ইসলামী গবেষকদের কেউ কেউ শিশুদের রোজা রাখার সময়কে ১০ বছর বয়স থেকে নির্ধারণ করেছেন। সময় ভেঙে ভেঙেও শিশুদের রোজা রাখানো যায়। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে রোজা রেখে কোনো শিশু যদি একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন দেরি না করে তার রোজা ভেঙে ফেলাও বৈধ। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ১৯৫ নং আয়াতে ইরশাদ করেছেন, 'তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কর না।'



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৫০৫৯৫
পুরোন সংখ্যা