চাঁদপুর, শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২০, ৬ চৈত্র ১৪২৬, ২৪ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৬-সূরা তাহ্রীম


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
প্রতিবন্ধকতায় আবদ্ধ শিশুর মানসিক বিকাশ
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিশুর মন সদা চঞ্চল। শিশুরা সবসময় চলতে চায় স্বাধীনভাবে। কথা বলা কাজ করা হাঁটি হাঁটি করা এদিক-ওদিক ঘুরাফেরা করা সব কিছুতেই শিশু তার স্বাধীনচেতা মনোভাব প্রকাশ করতে চায়। চলনে বলনে কথায় কাজে হাসি ঠাট্টায় শিশুর এ চলার গতি যেন সহজাত। জন্মগত অধিকার।



যারা এখন দাদা দাদী নানা নানীর বয়সের আছে, তাদের ছোট বয়স কেটেছে সীমাহীন দুরন্তপনায়। সে সময়কার বাড়ির উঠোন, আঙিনা ছোটো খাট ঝোপ-ঝাড়, পুকুর ঘাট, বাড়ির পাশের খাল কিংবা নদী, বৃষ্টিতে ভেজার উচ্ছ্বলতা, বর্ষার নতুন পানিতে জলকেলি, নৌকা দিয়ে এদের বাড়ি থেকে ওদের বাড়িতে যাওয়া, জলভরা মাঠ থেকে শাপলা তোলা, ভাদ্র-আশি্বন মাসে শালুক তোলা, কার্তিক মাসে বৈচা মাছসহ নানান জাতের ছোট মাছ ধরার ইত্যাদি স্মৃতিগুলো তারা ছোটদের কাছে খুব রসালো ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন। ইচ্ছে হলেই মামার বাড়ি, ফুফুর বাড়ি, খালার বাড়ি, আরো কতো আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ঘুরে বেড়ানোর গল্প, জোছনা রাতে মামার বাড়ির উঠোনে শিতল পাটিতে বসে রূপ কথার গল্প শোনার মধুর স্মৃতি এখনকার প্রজন্মের কাছে রূপকথার সমান।



হয়তোবা তখনকার পরিবেশ, পারিবারিক অবস্থান, সামাজিক বন্ধন, বৈশি্বক ধ্যান ধারণা এখনকার মতো এতো জটিল ছিলনা। হয়তো বা কেউ বলবেন শিল্প বিল্পবের পর থেকে মানুষ আস্তে আস্তে একান্ন ভুক্ত পরিবার থেকে পৃথক হয়ে একক পরিবারে যুক্ত হচ্ছে। একক পরিবারে যুক্ত হচ্ছে সময়ের প্রয়োজনে, যাপিত জীবনের প্রয়োজনে। এতে করে পরিবারের ছোট সদস্যরা পারিপাশর্ি্বক জীবনকে অনুভব করছে এক নতুন অভিজ্ঞতায়। তারা বন্দি হচ্ছে ইটের দালানের দুই কক্ষ বা তিন কক্ষ বিশিষ্ট কামরার ভেতর। বাড়ি এখন বাসায় পরিণত হয়েছে। বাসার বারান্দা ছোট সোনামনিদের কাছে খেলার মাঠের মতো মনে হয়। এটাকে তারা খেলার মাঠ মনে করে যত সব ছোটা ছুটি করতে চায়। তিন থেকে চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের কাছে এই পরিবেশটা মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা।



এছাড়া আধুনিক পরিবেশে এবং একক পরিবারে শিশুরা এক ঘেয়ে মানসিকতা নিয়ে বড় হয়। সেখানে গ্রামের এলোমেলো বাড়ি-ঘর, পথ, ঝোপ-ঝাড় নেই। নেই কোন কোলাহল, প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের হইহুল্লোড়। ফলে বাবা-মা ছোট ছেলে মেয়েদেরকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছে না। কোন কোন পরিবারে বাবা-মা উভয়েই কর্মজীবী। তারা তাদের সন্তানদের ব্যস্ত রাখার জন্য মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন ইত্যাদির সামনে বসিয়ে দেয়। সন্তানরা অনেক সময় খাবার খেতে চায় না। তখন মা খাবার খাওয়ানোর জন্য এসকল আধুনিক সকল ডিভাইস ব্যবহার করছেন।



বাচ্চারা যখন অনেক সময় ধরে মানুষের স্বাভাবিক কথাবার্তা ও আচরণ থেকে দূরে থেকে প্রযুক্তি নির্ভর পরিবেশে অবস্থান করে তখন তাদের ভাষাগত দক্ষতা ও সামাজিক আচার-আচরণের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হয়। যা উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন কানাডার একদল শিশু গবেষক। তারা দুই বছর বয়সী প্রায় আড়াই হাজার শিশুর উপর এক গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।



যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার শিশু গবেষকরা দেখেছেন অধিকাংশ বাবা-মা সন্তানদের সামলানোর জন্য স্ক্রীনের সহায়তা নেন। এদের মধ্যে গবেষক ড. শেরি মেডিগ্যান ও তাঁর সহকর্মীরা বলেছেন, শিশুরা যাতে বেশি সময় স্ক্রীনের সামনে না থাকে সে দিকে নজর রাখা ভালো। বিষয়টি যেন বাচ্চাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ কিংবা পারিবারিক সময়কে কমিয়ে দিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। তারা আরও জানান, সন্তানের প্রতি যদি সময় মতো খেয়াল রাখা না হয় তবে তারা টেলিভিশন ল্যাপটপ মোবাইল স্ক্রীনে কার্টুনে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। ফলে তারা হয়ে যায় এক রকম মোহাচ্ছন্ন। এজন্য শিশুদেরকে দেড় বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের স্কীন ব্যবহার করতে দেয়া উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে দুই বছর বয়সী বাচ্চারা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৭ ঘন্টা করে ভার্চুয়াল জগতে সময় কাটায়। যখন তাদের বয়স তিন বছর হয় তখন তাদের ভার্চুয়াল জগতে অর্থাৎ টিভি ল্যাপটপ আর মোবাইলের স্ক্রীনে সময় কাটে সপ্তাহে প্রায় ২৫ ঘন্টা। আবার যখন তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তখন তাদের স্ক্রীন টাইম কমে ১১ ঘন্টায় নেমে আসে। কারণ তারা একটা সময় তখন বিদ্যালয়ে কাটায়। কিন্তু বিদ্যালয়ে বইয়ের সাথে মনযোগ দেয়ার মতো মানসিক বিকাশ তাদের থাকে না। পড়ায় মনযোগী হয় না। তাদের মস্তিস্কে কার্টুন জগতের নানা ছবি ভেসে চলে অনবরত। শিশুদের কাছে তখন চারপাশটা কার্টুনময় মনে হয়। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে- বাচ্চাদের স্ক্রীন টাইম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিকাশে দেরি হয় এটা সহজেই বুঝা যায়। বাচ্চারা স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে যে সময়টা অতিবাহিত করে সে সময়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু শিখতে পারতো। এ সময়ে অন্যের সাথে কথা বলা ও কথা শোনার দক্ষতা তৈরি করতে পারতো। দৌড়ানো, কোন কিছু বেয়ে উপরে ওঠার মতো শারীরিক দক্ষতা যে কোন শিশু অর্জন করতে পারে।



এছাড়া নেতিবাচক কথা, আচরণ, অযাচিত মন্তব্য, শিশুদের বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে গল্প শোনানো তাদের মানসিক বিকাশকে বাঁধাগ্রন্ত করে। অভিভাবক হিসেবে প্রতিটি বাবা-মা সচেতন ভাবে শিশুদের শারীরিক মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে হবে। কারণ শিশুদের মানসিক বিকাশ কতটুকু হচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার। কেবল শারীরিক বিকাশ হলেই চলবে না মনস্তাত্তি্বক ভাবে শিশুর মনোজগৎ কতটা বিকশিত হচ্ছে তা দেখা দরকার। কিন্তু আমরা যারা বর্তমানে আমাদের ছোট্ট সোনামনিদের মেধা বিকাশে নানান ধরনের উপায় উপকরণের কথা বলি, তাদের মনের খোরাক মিটানোর জন্য বিভিন্ন পার্ক, খেলাধুলার সুযোগ করে দেই। কিন্তু বাস্তবে কি তারা স্বাধীন ভাবে এই সকল পার্কে মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে? সেখানেও অনেক বিধি নিষেধ থাকে। আমাদের ছোট্ট সোনামনিরা বিনোদন বলি আর খেলাধুলা বলি তারা এক ধরনের চাপ নিয়েই তা করে থাকে। আমরা অনেক সময় আমাদের সন্তানদের আত্মীয় স্বজনদের থেকে দূরে রাখি। সেটা বাস্তব প্রয়োজনে হোক বা পারিবারিক কলহের কারণেই হোক। সুতরাং শিশুর বোধসম্পন্ন মানসিক ও শারীরিক বিকাশের প্রতি দৃষ্টি রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬০৯৩১
পুরোন সংখ্যা