চাঁদপুর, শুক্রবার ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ৩ মাঘ ১৪২৬, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬১-সূরা সাফ্ফ


১৪ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮। উহারা আল্লাহর নূর ফুৎকরে নিভাইতে চাহে কিন্তু আল্লাহ তাঁহার নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করিবেন, যদিও কাফিররা উহা অপছন্দ করে।


 


ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কোনো দেশ নেই। - জেফারসন।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
কেজো ভূতের গপ্প
অপর্ণা গাঙ্গুলী
১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের পাড়া দিয়ে সমপ্রতি রোজ রাতদুপুরে একটি তালশিরিঙ্গে লোক হেঁকে যায়



ভূত চাই ভূত



ভালো ভালো ভূত আছে



ভালোভূত, আলোভূত, মেছোভূত, গেছোভূত, ছানাভূত, দানোভূত, কেজোভূত, হেজোভূত, বাসিভূত, কেশোভূত, মেসোভূত, হরেক রকম ভূত চাইইইইইইইইই।



প্রথম প্রথম ভারী অবাক হয়েছিলুম ভয়ে ভয়ে জানালার খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে দেখতুম লোকটাকে। সোজা নাক বরাবর হেঁটে যেতো সেই লম্বাগিজাং লোকটা পরিত্রাহি ডাকতে ডাকতে। আর লোকটার ডাক শুনেই যে কটা বাড়ির জানালা খোলা থাকতো, সব দুদ্দাড় করে বন্ধ হয়ে যেত। সত্যি তো, এতো আর 'সিলললললল কাটাউউউউউউউ'-এর ডাক নয়, কিম্বা জয়নগরের মোয়াওয়ালার মধুর ডাক নয়। নিদেনপক্ষে 'ছাতাসারাই' কিম্বা 'এইনাআআআআ বাসুনলাগবেননননননন'-এর ডাকও না। এ হলো রীতিমত যাকে বলে রাতদুপুরে ভূত কেনার আমন্ত্রণ। কে আর শখ করে বাঁশঝাড় ঘাড়ে নেয় বাপু।



আমি একলা থাকি এ তিন কামরার একতলা বাড়িটিতে। বিয়েটাও করিনি। একটা শক্ত অসুখে এখন হুইলচেয়ারে আটক। তবে মাঝেমাঝে আমার কিছু উদ্ভট খেয়াল চাপে। হঠাত মনে হলো, তাইতো একটা ভূত কিনলে বেশ হয়। একা থাকি, মানুষ না হোক ভূতই সই। আর আজকাল মানুষজনের যা নমুনা দেখছি তাতে বরং ভূতই ভালো সঙ্গী। দরদস্তুর করে যদি একটা ভালো দেখে ভূত কেনা যায় মন্দ কি। কি খায় দায় অবশ্য জানা নেই, তা সে জিজ্ঞাসা করলেই হবে 'খন। এই না ভেবে একদিন তক্কেতক্কে ছিলুম, যেই না ভূতওয়ালা হাঁক পেড়েছে অমনি ডাক দিলুম 'ও ভাই ভূত, শোনো, এই যে এদিকে।



লোকটি আমাকে দেখতে পেয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে এসে পড়লো এই যে আপুনি আমাকে ভূত বলে ডাকতেছিলেন কেন ? আমি ভূত নই, আমি ভূত বেচি গো বাবু



হা? ও ভুল হয়ে গেছে খুব বাবা, ঠিক খেয়াল করিনি তো, আমিও ততোধিক বিনয় করেই বলি



মনে ভাবি, কি জানি বাবা তুমি ভূত কিনা, অমন মুলোর মত দাঁত আর কুলোর মত কান কেন তোমার? আমার গা শিরশিরিয়ে ওঠে লোকটার ভাঁটার মত চোখ দেখে। আর গায়ে কি একটা বিকট গন্ধ



তা হতে পারে সব ভূতগুলো ওর পিঠের ওই বস্তায় কিনা। ভূতেদের গায়ে শুনেছি একটা বিজাতীয় গন্ধ বের হয়।



সে যাকগে, অনেক ভেবে ঠিক করলুম একটা কেজো ভূত কিনব। এমনিতে একটু আধটু লেখালেখি করি, তাই অনেক সময় কাজ করার সময় পাইনে। ভূত যদি কাজকম্ম গুলো সেরে দেয়, আমার খুব উপকার হবে। লোকটা অভয় দেয়, বাবু, এ আপনার সমস্ত কাজ করবে, কোন সময় একটু বসতে পারবেনা। আপনাকে ওকে সারাক্ষণ কাজ দিয়ে রাখতে হবে। আর এদের বয়স চারশ বছরের উপরে, ছানা ভূত কেউ নয় এরা। আমিও ভাবলুম, যাক বাপু, শিশুশ্রমিক দিয়ে তো আর কাজ করাচ্ছিনা।



তা সে আর এমন কি কথা। কাজ তো মেলাই থাকে, করবে এখন। শেষকালে ঠিক তিনশ তিন টাকা দিয়ে একটা জম্পেশ কেজোভূত কিনে ফেললুম। আর আমার এহেন প্রগতিতে আমি নিজে যারপরনাই খুশি হলুম। তিনটে একশ টাকার কড়কড়ে নোট আর তিনটি এক টাকার কয়েন গুনে নিয়ে লোকটা পিচিক করে একটা বোতল থেকে কি যেন বের করে ঘরের কোণে ছেড়ে দিয়ে সেই যে হাঁটা দিল, আর এমুখো হলো না।



ও মাগো, ওটা কি ! এইটুকু একটা ছাই রঙের জেলির মত। ওমা ওইতো একফুট উচু হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল দেখো। আবার হেঁট হয়ে ও কি করছে ? নমস্কার? তাই বোধহয়। আমিও প্রতিনমস্কার করি। হা বাপু কেজো ভূত, নমস্কার। যাও বাবা ঘরদোর বেশ পোষ্কার করে ফেলোতো। পুজোবার্ষিকী লেখার তাগিদে এসব কাজে মন দিতে পারিনি। একা থাকি, লোকজন রাখার ঝামেলি নিইনা বড়। কেজো ভূত চোখের সামনে থেকে উধাউ হলো। ঠিক দশ মিনিটে আমার বাড়ি একেবারে ঝকঝকে তকতকে। এমন পরিষ্কার যে নিজের ছবি ঘরের লাল মেঝেতে দেখে আমি প্রায় চমকে উঠেছিলুম। আমার আর কিচ্ছু বলার নেই। ভূতওয়ালাকে মনে মনে খুব আশির্বাদ করলুম। আর মিষ্টি জেলিপারা ওই কেজো ভূতটিকে মনে মনে চুমো দিলুম।



মুখে অবশ্য বললুম, বেশ করেছ।



এরপর যাই কাজ দিই নিমেষের মধ্যে সারা।



বলবো কি আমাকে রাতে যা ভালো রুটি আর আলুরদম করে খাওয়ালে, আমি অমন আলুরদম মা গত হবার পর থেকে আর খাইনি। কেজো তো কিচ্ছু খায়না। বলে গেছে লোকটি, বাবু ওরা 'বায়ুভুক নিরাশ্রয়' প্রাণী, এই আপনি ওকে আশ্রয় দিলেন, খুব ভালো হোক আপনার।



এরপর একটু মুশকিলে পড়লুম। জামাকাপড় কাচা, রান্নাবান্না করা, একতলার ছাদের এক টুকরো ঘরের জমা জিনিস পরিষ্কার করা, কুয়ো থেকে জল তোলা, উনুন পরিষ্কার করা, আমাকে পিঠ মালিশ করা সেরেও যখন ভুতের এনার্জি অটুট তখন আমার প্রায় কাজ দেওয়ার ক্ষমতা শেষ হয়ে আসছে। কি করি, কি করি। বেজায় বিপাকে পড়লুম, কাজ না পেলে কি করবে জানা নেই. ঘাড় মটকাবে কিনা কে জানে। তখন আমার নিরেট মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। আমি একা মানুষ বলে মনে একটু দুঃখু টুঃখু আছে, সে সব চেপেচুপে রাখি। সটান শুয়ে পড়ে কেজো ভূত কে হুকুম করলুম। কেজো ভূত, আমার মনের দুঃখুগুলো একে একে বার করতে পারো? সে আর দ্বিরুক্তি না করে লেগে গেল দুঃখ, বের করার কাজে।



হলো কি, একটা একটা করে দুঃখু টেনে টেনে বের করে সে আর আমার আরামে চোখ জুড়িয়ে যায়। মনে হয় বুকের ভেতর একটা সুখের পালক কে বুলিয়ে দিচ্ছে যেন। সেই ইস্তক অন্য কাজ শেষ হয়ে যাবার পর, কেজো এখন যা দু:খু জমা হয় বের করে দেয়। এই করে করে আমার যদি আর দু:খই না থাকে ? তাইতো ভাবছি কি করা যায়। আমি ভাবছি সব দু:খী মানুষদের ডেকে তাদের দু:খ গুলো বের করবার কাজে লাগাবো কেজো ভূতকে। ভালো লাগাও হবে আর মানবসেবাও হবে। কি বল, তোমরা?



পৃথিবীতে এত দুঃখু কষ্ট না, বড় খারাপ লাগে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪২২৫১৯
পুরোন সংখ্যা