চাঁদপুর, শুক্রবার ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ৩ মাঘ ১৪২৬, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬১-সূরা সাফ্ফ


১৪ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮। উহারা আল্লাহর নূর ফুৎকরে নিভাইতে চাহে কিন্তু আল্লাহ তাঁহার নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করিবেন, যদিও কাফিররা উহা অপছন্দ করে।


 


ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কোনো দেশ নেই। - জেফারসন।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশুর জীবন গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ সব পিতা-মাতাই কামনা করে। সন্তানকে উপযুক্ত মায়া মমতা দিয়ে আদর সোহাগ দিয়ে লালন পালন করা এবং তাদের আদর্শ জীবন গঠন করা পিতা-মাতার অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে পিতা-মাতাকে দিক নির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করে থাকে ইসলামের অনুপম শিক্ষা ও নীতিমালা। কারণ ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া শিশুদের আদর্শ জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিশু সন্তানকে শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুশিক্ষায় সঠিকভাবে গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষা ও পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আল্লাহ তায়ালা পরিবারের কর্তা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বলেন, 'হে মুমিনগণ তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। (সুরা তাহরিম : আয়াত-৬) শিশুরা ফুলের মতো নিষ্পাপ। প্রতিটি পিতা-মাতার জন্য শিশু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। উত্তম নেয়ামত। এ নেয়ামতকে নৈতিক শিক্ষা দেয়া প্রতিটি পিতা-মাতার পবিত্র দায়িত্ব।



সন্দেহাতীতভাবে নৈতিক মানদন্ডের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কুরআন। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব বিষয়ের সবিস্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিধান প্রণীত হয়েছে এ গ্রন্থে। তাই সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের জন্য কুরআনের শিক্ষার বিকল্প নেই। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাহফের ৪৬ নং আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- 'ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি বা শিশুরা পার্থিব জীবনের শোভা এবং স্থায়ী সৎকর্ম তোমার প্রতিপালকের কাছে পুরষ্কার প্রাপ্তির জন্য শ্রেষ্ঠ এবং বাঞ্চিত হিসেবেও উৎকৃষ্ট। এখানে প্রতিয়মান যে, শিশু পিতা-মাতার জন্য স্থায়ী পুরষ্কারের কারণ হতে পারে যদি তাকে সেভাবে গড়ে তোলা যায়। আমরা বুঝতে পারি শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে আছে আগামী দিনের সুন্দর ও সুষমাম-িত পৃথিবী। এ পৃথিবী চাষবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করবে ধর্মীয় শিক্ষা তথা পবিত্র কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা।



নবী করিম (স.) বলেন, জেনে রেখো তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তাদের ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। (বুখারী)। অন্য হাদিসে আছে, নবী করিম (স.) বলেছেন, প্রত্যেক শিশু (ইসলামের) ফিতরতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খৃষ্টান বা অগি্নপূজক বানায়। (বুখারি ও মুসলিম) অন্য হাদিসে নবী করিম (স.) বলেছেন, পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানকে উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়ার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোন দান (সাদকা) হতে পারে না। (তিরমিজি, বায়হাকি, মিশকাত) মহানবী (স.) এর শিক্ষা থেকে আমরা দেখতে পাই শিশু সৃষ্টিগত ভাবে সঠিক পথে থাকে। কিন্তু আমরা যারা পিতা-মাতা তারা সন্তানদেরকে সু-শিক্ষার দিকে ধাবিত করি অথবা কুশিক্ষার দিকে ধাবিত করি। এখানে সুশিক্ষা বলতে সে শিক্ষাকে বুঝানো হয়েছে যা মানুষকে নীতিবান হতে সাহায্য করে। আর নীতিবান শিক্ষার উৎস হলো পবিত্র কুরআন এবং রাসুলের সুন্নাহ। অন্যান্য শিক্ষায় জাগতিকভাবে মানুষকে অনেক বড় হতে দেখা যায়। কিন্তু ঐ মানুষের সারা জীবনের খোঁজ নিলে দেখা যাবে তার এমন অনেক দিক রয়েছে যেখানে সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি নৈতিকভাবে সঠিক শিক্ষা লাভ না করার কারণে।



শিশুর শিক্ষার মুল কেন্দ্র হলো পরিবার। আর সেখানে শিশু থাকে বাবা-মায়ের কাছে। সুতরাং শিশুর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলো বাবা-মা। আর ঘর হলো শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। কাদা মাটির মতো শিশু এ পাঠশালা থেকে যা শিখবে তা তার ভবিষৎ জীবনের পাথেয় হিসেবে মনের মাঝে গেঁথে যায়। দ্বীনি পরিবেশে শিশুকে ছোট বেলা থেকে শিক্ষা দান করতে পারলে পরিণত বয়সে ঐ শিক্ষা তাকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করবে। মহান আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবারের প্রধান যিনি তার উপর সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব থাকে। আল্লাহ বলেন- 'জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণপোষণ করা।' (সুরা বাক্কারা: আয়াত ২৩৩) এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে পিতা-মাতা সন্তানের ভরণপোষণ চালাবে, স্বাভাবিকভাবে তার দায়িত্ব হলো তাদের সন্তান কখন কি করে, কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে চলাফেরা করে, কোথায় সময় ব্যয় করে ইত্যাদি বিষয়ের খোঁজ খবর নেয়া। অনাকাঙ্খিত বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মিশে সন্তানের মনে ছোট বয়স থেকে ধর্ম সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে নেতিবাচক কোন প্রভাব পড়ে কি-না তা নজর রাখা পিতা-মাতার একান্ত কর্তব্য। ছোট বয়স থেকে একজন শিশুকে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করলে, সে শিশু বড় হলে তার দ্বারা অনৈতিক কাজ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কম থাকে। মহানবী (স.) বলেছেন, 'তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে মহৎ করে গড়ে তোল এবং সন্তানকে আদব তথা শিষ্টাচার শিক্ষা দাও। সন্তানকে আদব তথা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া এক সা' পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী সাদকা করা থেকেও উত্তম। (তিরমিজি, মিশকাত)



মুসলিম নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জনকে ফরজ করা হয়েছে। বিশেষ করে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করলে মানুষ হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ বুঝতে পারবে, কমপক্ষে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। এ ফরজ শিক্ষা লাভের প্রথম কেন্দ্রবিন্দু হলো পরিবার। সুতরাং পরিবার সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় জীবনে সঠিক ভূমিকা পালনের মৌলিক শিক্ষা লাভের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হলো পারিবারিক পরিবেশ। সে কারণে বিখ্যাত মুফাস্সিরে কুরআন আল্লামা আব্দুর রহমান কাশগরি (রহ.) মায়ের কোলকে শিশুর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।



বর্তমানে আধুনিক শিক্ষার যাঁতাকলে পড়ে শিশুরা সকালের মক্তব শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপর দিকে অন্যান্য ধর্মের শিশুরাও তাদের ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে থাকছে নানা কারণে। এখনকার অধিকাংশ পরিবার হলো একক পরিবার। একক পরিবারে বসবাস করার কারণে নৈতিক মানে উন্নীত করার জন্য পারিবারিক শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের সোনামনিরা। এ থেকে উত্তরণের জন্য পিতা-মাতার উচিত ত্যাগ স্বীকার করে হলেও শিশুদেরকে যৌথ পরিবারের পরিবেশ প্রদান করা। তাহলে তাদের মাঝে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে।



আমাদের উচিত আদরের সোনামনিদের নৈতিক মুল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং ইহকালিন ও পরকালিন কল্যাণের জন্য পরিবার থেকে শুরু করে জীবনের সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১১২১৫৪২
পুরোন সংখ্যা