চাঁদপুর, শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৫। তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলি কর্তন করিয়াছ এবং যেগুলি কা-ের উপর স্থির রাখিয়া দিয়াছ, তাহা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এবং এইজন্য যে, আল্লাহ পাপাচারীদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন।


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশুর মনে ছড়ার প্রভাব
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ছড়ার কথা মনে হলেই আমাদের মনের মাঝে ছবি ভেসে উঠে তা হলো কোমলমতি শিশুদের হাসি। কারণ ছড়া আর শিশুর মাঝে এক নিবিড় সম্পর্ক। ছড়া যেমন লেখা হয় সহজ ভাষায় তেমনি শিশুর মনও সহজ সরল। শিশুরা রাগ অভিমান অনুরাগ বুঝে না। তারা জটিল কোন শব্দ বুঝে না। শিশুরা কোমল মনের অধিকারী। বাগানের ফুলের মতই তাদের দেহ মন নরম আর কাঁচের মত স্বচ্ছ। তারা যেমন কোন প্যাচ বুঝে না তেমনি তাদের জন্য লিখিত ছড়াগুলোও হয় সহজ সরল ভাষায়। আর যারা শিশুর মন উপযোগী ছড়া লিখে যান তারাও হয়ে থাকেন সাধা-সিধে জীবনের অধিকারী। কোন ধরণের কুটিলতা, জটিল শব্দ তাদেরকে ধরতে পারে না। তাদের কাছে বাবা মা আত্মিয় পরিজন সহজ সরল ভাষায় সুন্দর কথাগুলো অবলিলায় কোন রকম ভূমিকা ছাড়াই তুলে ধরে। শিশুরা গাছের কচি পাতার মতো। ফুলের নরম পাঁপড়ির মতো শিশুর শরীর। নির্মল বায়ুর মতো পবিত্র শিশুর মন। শিশুর চোখ মায়াবী কাজলে ভরা। তার হাসির মাঝে লক্ষ কোটি মুক্তা ঝরে।



এমন সহজ সরল শিশুর জন্য ছড়াকারেরা সহজ শব্দে সহজ ভাবে শব্দের গাঁথুনিতে তৈরি করেন ছন্দমালা। যার হৃদয়কাড়া উচ্চারণে শিশুর মনের চঞ্চলতা থেমে যায়। আনমনা শিশুটি হয়ে উঠে প্রাণচঞ্চল। বিখ্যাত সব ছড়াকার শিশুদের জন্য মজার মজার ছড়া লিখে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা ছড়া সাহিত্যকে। আমাদের শিশুদের জন্য ছড়া লিখে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, সুকুমার রায়, ফেরদৌস চৌধুরী, কবি দিলওয়ার, সুধীর বসাক, শিশু সাহিত্যিক আলফাতুন ও রোকনুজ্জামান দাদাভাই, ফররুখ আহমদ, রজনীকান্ত সেন, বন্দে আলী মিয়া, ছড়াকার মোজাম্মেল প্রধান।



এছাড়াও আছে অনেক ছড়াকার। সুনির্মল বসুর 'সবার আমি ছাত্র' ছড়ায় তিনি শিশুদের বিশ্বজোড়া প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয়ের সাথে সুন্দর ভাবে পরিচয় করে দিয়েছেন। সুফিয়া কামালের 'ছোটন ঘুমায়' ছড়ায় তিনি বলেছেন- গোল করো না গোল করো না/ছোটন ঘুমায় খাটে। এখানে ঘুমন্ত শিশুকে না জাগানোর জন্য অন্য শিশুদের ছড়ার মাধ্যমে সাবধান করে দেয়ার মজার কৌশল বলেছেন। শিশুটি যখন মায়ের কোলে থাকে তখন থেকেই মায়ের দরদ মাখা কন্ঠে ছড়া শুনার পাঠ শুরু হয়। যুগ যুগ ধরে বাংলার মায়েরা বিখ্যাত এবং অখ্যাত সকল ছড়া সাহিত্যিকদের আকর্ষণীয় সব ছড়া মুখস্ত করে রেখেছেন। এসকল ছড়া শিশুর মন যোগাতে, শিশুর মনযোগ আকর্ষণ করতে অথবা শিশুর বায়না ভুলাতে ব্যবহৃত হয়। মায়েরা সুরেলা কন্ঠে মন মাতানো সব ছড়া শিশুর মনতুষ্টিতে আওরাতে থাকেন। কোন কোন ছড়া শিশুকে খাবার খাওয়ানোর জন্য। যেমন, খোকন খোকন ডাক পাড়ি, খোকন মোদের কার বাড়ি, আয়রে খোকন ঘরে আয়, দুধ মাখা ভাত কাকে খায়। আবার কোন কোন ছড়ায় শিশুকে ঘুম পাড়ানোর কথা রয়েছে। ছন্দের সরলতায় সেখানে বলা হয়েছে ঘুম পাড়ানি মাসি পিষি, মোদের বাড়ি এসো, খাট নাই পালং নাই পিড়ি পেতে বসো, বাটা ভরা পান দেবো গাল ভরে খেয়ো, খোকার চোখে ঘুম নাই ঘুম দিয়ে যেয়ো। এ সকল ছড়া মায়েদের মাধ্যমে এক যুগ থেকে অন্য যুগে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।



ছড়ার মাঝেও বিদ্রোহ ভাব থাকে। কাজী নজরুল ইসলামের এমনি একটি ছড়া বাংলা মায়েদেরে মুখে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উচ্চারিত হতে দেখা যায়। যেমন ইংরেজ আমলে ইংরেজদের অত্যাচার যখন চরম আকার ধারণ করেছে তখন শিশুদের জাগিয়ে তোলার জন্য নজরুল লিখেছেন, ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে/বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেবো কিসে? এই ছড়াটিতে মূলত সত্য ঘটনা লুকায়িত রয়েছে। আবার এর মাধ্যমে প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।



ছড়ার জমিন চষে বেড়ালে মনে হয় বিখ্যাত সব ছড়াকাররা যেনো মায়েদের দুঃখে দুঃখি হয়ে তাদের কাজকে হালকা করার জন্য এসকল মজাদার সব ছড়া লিখে গেছেন। এ হলো গত শতাব্দির মাঝা মাঝি সময়ের ছড়াকারদের চিন্তা চেতনার ফসল। যেমন নজরুল শিশুদের জন্য ছড়া লিখেছেন- ভোর হল দোর খোল, খুকুমনি উঠরে, অই ডাকে জুঁই শাখে ফুল খুকি ছোটরে।



ছড়ার মাঝে আনন্দ উল্লাসের কথা ঘুরাঘুরির কথা ইত্যাদি সুন্দরভাবে রয়েছে। যেমন একটি ছড়া এমন- আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই/ ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি/ আজ আমাদের ছুটি ও ভাই আজ আমাদের ছুটি।



এসকল ছড়া সাহিত্য আমাদের আবহমান বাংলার মায়েদের যেমন ছড়া প্রেমি বানিয়েছে তেমনি মায়েদের মুখে মুখে এ ছড়া বাংলার সীমানা পেরিয়ে পাড়ি জমিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ছড়ার সাথে পরিচয় হয়ে আমাদের শিশুরাও বাংলা সাহিত্যের এ অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশের সাথে পরিচিত হচ্ছে। শিশুদের মেধা মনন বিকাশে শিশুদের সামনে আজে বাজে শব্দ উচ্চারণ না করে আকর্ষণীয় সব ছড়া পড়ে তাদেরকে ছড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা যেতে পারে। তাহলে শিশুর মনে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭২২৬৪৪
পুরোন সংখ্যা